ফিরে যেতে চান

শিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেইন গেটের উত্তর দিকে রাস্তার পশ্চিম পাশ সংলগ্ন পূর্বমুখী শিরোইল উদ্যানের অবস্থান। উদ্যানের গেটের উপরে লিখা আছে-


“সিরোইল উদ্যান”
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, রাজশাহী।


উপরোক্ত দু’ লাইনের লিখার সঙ্গে বাম পাশের মনোগ্রাম সংবাদ দিচ্ছে উদ্যানটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের। 
গেটের দক্ষিণ থামের শিলালিপিতে উল্লেখ আছে- 


বিসমিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম
শিরোইল উদ্দ্যানের প্রতিষ্ঠাতা
সাবেক মেয়র
এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন
উদ্যোক্তা:
নিযাম উল আযীম (নিযাম)
দায়িত্ব প্রাপ্ত মেয়র
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন
প্রতিষ্ঠিত: ১৪-১০-২০০৯ইং
গেটের উত্তর থামের শিলালিপিতে উল্লেখ আছে-
বিসমিল্লাহির রাহ্মানির রাহীম
সিরোইল উদ্যানের
শুভ উদ্বোধন করেন
জনাব মো. মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল
মেয়র
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন
তারিখ: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩ইং

শিলালিপি দুটিতে শিরোইলসহ আরো কয়েকটি বানানের হেরফের দেখা যায়। উভয় শিলালিপির তথ্যানুসারে উদ্যানটি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নিযাম উল আযীম। শিলালিপিতে তাঁর নামের মো. শব্দটি অসাবধানতার কারণে ছাড়া পড়েছে এবং ডাক নাম নিযাম শব্দটি যোগ হয়েছে। পার্কটি স্থাপনের সময় তিনি দায়িত্ব প্রাপ্ত মেয়র ছিলেন না এবং এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। কাজেই বোঝা যায়, শিলালিপিটি পরে সংস্থাপন হয়েছে। নিযাম ২ জুন ২০১৫ তারিখে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র হবার পর কোন এক সময়ে শিলালিপিটি স্থাপন করা হয়। তাঁর উদ্যোগে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে স্থাপনের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালের ৩০ জুন স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিযামের এ উদ্যোগে এলাকাবাসীরও সমর্থন ছিল। মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ২০১৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর উদ্যানটি উদ্বোধন করেন।
উদ্যানের গেট ও ভিতরের রাস্তাগুলো টাইল দ্বারা মোড়ানো। সবুজের সমারোহে টাইলের পথ ও শোভাবর্ধন প্রাচীর বেশ আকর্ষণীয়। উদ্যানটি আয়তনে বড় নয়; মাত্র ০.২৭ একর।৭০৬ প্রবেশ মূল্য ছাড়াই উদ্যানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
জেলা পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড, রাজশাহীর  ৩০ জুন ২০১১ ও ২০ নভেম্বর ২০১২ তারিখের সভার কার্যবিবরণী এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত জেলা প্রশাসক, রাজশাহীর নিকট প্রেরিত ১১ মার্চ ২০০৯ তারিখের পত্রে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এ সকল পত্রাদি থেকে জানা যায়, এখানে এক সময় পরিত্যক্ত একটি বাড়ি ছিল। এ বাড়িটি ইতোপূর্বে ভাড়ার ভিত্তিতে শিরোইল বেসরকারি স্কুল নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ঐ প্রতিষ্ঠানের নিকট সরকারের এখনও ৫ লাখ ২৮ হাজার ৯৫১ টাকা পাওনা আছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সেখানে উদ্যান নির্মাণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ১১ মার্চ ২০০৯ তারিখের স্বাক্ষরে জায়গাটি বরাদ্দ দানের জন্য  জেলা প্রশাসক, রাজশাহীর নিকট একটি পত্র প্রেরণ করেন। এরপর ১৪ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে জেলা প্রশাসকের দপ্তর হতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে মাসিক ১৭,০৩৩/= টাকা ভাড়ার ভিত্তিতে জায়গাটি বরাদ্দ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে এ ভাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক ২৭,৫১২/= টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন উদ্যানটিকে জনকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় এ ভাড়ার পরিমাণ কমানোর জন্য ৩০ মার্চ ২০১৩ তারিখের পত্রে আবেদন জানিয়েছে।

শিরোইল উদ্যানের প্রধান প্রবেশ দ্বার ও তার উভয় পাশের শিলা বিন্যাস (পূর্বমুখী, ছবি জানুয়ারি ২০১৭)

উদ্যান স্থাপনের পূর্বে জায়গাটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখ থেকে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান স্বধীনতার পর আলিজান নামের এক ব্যক্তি সপরিবারে ভারতের বিহার থেকে এসে এখানে বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িটি ছিল টিনশেডের পাকা। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর পরিবারটি দেশ ছেড়ে চলে যায়। এলাকার কতিপয় সচেতন ব্যক্তি পরিত্যক্ত বাড়িটিতে একটি স্কুল স্থাপন করেন। নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই স্কুলের কার্যক্রম চলতো। স্কুল স্থাপনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোসলেম হুদা, মোসাদ্দেকুল কুদ্দুস সিদ্দিকী সেলিম, মো. সিরাজুল আলম বাচ্চু, ইশাউল ইসলাম বাদশা প্রমুখ। ২১ আগস্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র মো. নিযাম উল আযীম জানান, স্কুল নির্মাণের প্রধান ভূমিকায় ছিলেন নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন।  শিরোইল নিবাসী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীর সঙ্গে ১১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে কথা বলে জানা যায়, তিনিও এ স্কুল নির্মাণে পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। ২০০২ সাল পর্যন্ত স্কুলটি চালু ছিল। পরবর্তীতে নিযাম উদ্যান নির্মাণের উদ্যোগ নেন।৬৯৪