ফিরে যেতে চান

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্মিত পদ্মা তীরের বিনোদন স্পট

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মিত অডভার মুনক্স গার্ড পার্কের প্রধান প্রবেশ দ্বার (ছবি- জানুয়ারি ২০১৭) ও এ পার্কের ভিতরের অংশ

মহানগরীর এলাকার পদ্মার তীরকে মনোরম ও পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্দেশ্যে বড়কুঠি বালুর ঘাটে পার্ক স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে এর নাম দেয়া হয় অডভার মুনক্স গার্ড পার্ক। অডভার মুনক্স গার্ড নরওয়ের একজন সাংবাদিক ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং নিজ দেশে মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ পরিবেশন করতেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর আপন শহর ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটির সঙ্গে রাজশাহীর সিটির স্থায়ী বন্ধুত্ব  স্থাপনের জন্য গঠন করেন ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড-রাজশাহী ফ্রেন্ডশিপ কমিটি (কেআরএফসি)। তার প্রচেষ্টায় এখানেও গঠিত হয় রাজশাহী-ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ কমিটি (আরকেএফসি)। কেআরএফসি রাজশাহী খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ড নির্মাণ, রাজশাহী ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে সহায়তা প্রদান, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রাজশাহী মহানগরীর সবুজায়নে সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রেখেছে। অডভার মুনক্স গার্ড এর অবদানকে স্মরণে রাখার উদ্দেশ্যে এ গ্রন্থের লেখক আনারুল হক আনার প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং তৎকালীন প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু ও প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হকের প্রচেষ্টায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এ পার্কের নামকরণ করে অডভার মুনক্স গার্ড পার্ক। ২০১৩ সালর ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটির মেয়র অরভিড গ্রান্ডডেটজন ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এর নাম সম্বলিত ব্যানার উদ্বোধন করেন। উভয় সিটির বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটিতে আবহমান বাংলার ইতিহাস সম্বলিত একটি ম্যুরাল চিত্র স্থাপন করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহাঙ্গীর কবির নানক পাঠানপাড়ায় লালনশাহ পার্ক ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। পদ্মার তীর সংলগ্ন এ পার্কের বর্তমান নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। প্ল্যান অনুযায়ী পুরো কাজটি শেষ করতে আরো প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হবে। 
ইতোমধ্যে তালাইমারী শহীদ মিনার চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধন, ফুদকিপাড়ায় উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মিত হয়েছে। কাজলার ফুলতলায় আরো একটি মনোরম স্পট নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মাতীরের এ সব বিনোদন স্পট নির্মাণে তৎকালীন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্পটগুলো নির্মাণে প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু ও প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক সহযোগীমূলক ভূমিকা পালন করেন।