ফিরে যেতে চান

আদালত
জজকোর্ট 

ওয়ারেন হেস্টিংস এর আমলে রাজকোষ ও অন্যান্য অফিস মুর্শিদাবাদ হতে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। বিচার বিভাগের জন্য প্রত্যেক জেলায় একটি করে দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত স্থাপিত হয়। আপিলের জন্য কলকাতায় সদর দেওয়ানী আদালত ও সদর নিজামত আদালত নামক দুটি প্রধান বিচারালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং শান্তি রক্ষার জন্য প্রত্যেক জেলায় একজন ফৌজদার নিযুক্ত করা হয়েছিল। ১৭৭৫ সালে সদর নিজামাত আদালত কলকাতা হতে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত হয়েছিল। মোহাম্মদ রেজা খাঁ নায়েবে নাজিম উপাধি গ্রহণ করে এর প্রধান বিচারপরিত নিযুক্ত হয়েছিলেন। 

পুরনো জজকোর্ট ভবনের দক্ষিণ পাশ ও স্থাপনের শিলালিপি

১৭৮৬ সালের জানুয়ারিতে মি. ডালেস পদত্যাগ করলে মি. পিটার্স স্পেক কালেক্টর পদে স্থলাভিক্তি হয়ে ১৭৮৭ সালে জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট পদেও উন্নীত হন। তিনি কালেক্টর, জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মাসিক বেতন ও বাড়ি ভাড়া বাবদ মোট ১৫শ টাকা পেতেন। ৫শ ও ৪শ টাকা বেতনে তাঁর দুজন সহকারী ছিলেন। সহকারী দু’জনের একজন থাকতেন বর্তমান ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার মুরাদবাদে এবং আর একজন থাকতেন নাটোরে। এ থেকে বোঝা যায় যে, আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার সূচনায় একই ব্যক্তি প্রশাসন, রাজস্ব ও বিচারের দায়িত্ব পালন করতেন এবং এখানকার প্রশাসনিক কার্য মুর্শিদাবাদ ও নাটোর দু জায়গা থেকে পরিচালিত হতো।
১৭৯৩ সালে জজ ও কালেক্টর অফিস পৃথক করা হয়। দেওয়ানী আদালতকে ডিস্ট্রিক্ট জজ বা জিলা আদালতে রূপান্তরিত করা হয় এবং জেলা জজ পদ সৃষ্টি করা হয়।৭১০
১৯১৬ সালের রাজশাহী জেলা গেজেটীয়ার থেকে জানা যায় সে সময় রাজশাহী জেলায় ১ জন জেলা ও দায়রা জজ ছিলেন। তিনি ভারতের মালদহ জেলারও জেলা ও দায়রা জজ ছিলেন। তবে সদর দফতর ছিল রাজশাহী মহানগরীতে।২
৭ ডিসেম্বর ২০০৩ তারিখে  প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক রাজশাহীতে একজন জেলা ও দায়রা জজ আছেন। তাঁর অধীনে তিন জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ছিলেন। কিন্তু ১ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গাজীপুরে স্থানান্তর হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের সংখ্যা দুজন। সাব ও সহকারী দায়রা জজ দুজন, সাব জজ (অর্থ ও ঋণ আদালত) ১ জন, সিনিয়র সহকারী জজ (রাজশাহী সদর) ১ জন, সিনিয়ার সহকারী জজ (অতিরিক্ত) ১ জন এবং রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার জন্য ১ জন করে মোট ৯ জন সহকারী জজ আছেন।
এছাড়াও জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন ভিন্ন ৪টি ট্রাইব্যুনাল আছে। সেগুলো জন নিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, বিভাগীয় স্পেশান ট্রাইব্যুনাল, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০০২ সাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।
২০০৭ সালের ১ নভেম্বর চিফ জুডিসিয়াল মাজিস্ট্রেট আদালত ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত জেলা জজের অধীনে চলে আসে। বর্তমানে জেলা জজের অধীনে ১৭টি কোর্ট আছে।৪৩৭ 
জেলা জজের অধীনে পূর্বে মুন্সেফ কোর্ট ছিল। ১৯৮৯ সালে মুন্সেফ সহকারী জজে পরিণত হয়। বর্তমান নতুন জজ কোর্ট ভবনের দক্ষিণে ছিল মুন্সেফ কোর্টের একতলা ভবন। মুন্সেফ কোর্টের পিছনে ৩টি ঘোড়ার আস্তাবল ছিল। ঘোড়াগুলো জারিকারকরা ব্যবহার করতো। জারিকারকদের বলা হতো পেয়াদা।৪৩৭
পূর্বে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নামে একটি আদালত ছিল। এখন নেই। বিভাগীয় স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে বৃহত্তর রাজশাহীর বিচার কার্য সম্পন্ন করে।
ফরাসী নির্বাহী প্রকৌশলী মিস্টার ইএসবি পেরিরার তত্ত্বাবধানে রাজশাহীতে বর্তমান পুরোনো জজকোর্ট ভবনের কাজ আরম্ভ হয়েছিল ১৮৬৪ সালের মার্চ মাসে এবং শেষ হয়েছিল ১৮৬৫ সালের আগস্ট মাসে। এর মেশন ছিল শ্রী বিনোদ বিহারী ও শেখ কিনু।১ 

জেলা জজ আদালতের নতুন ভবন

জেলা জজ আদালতের নতুন ভবন

পুরাতন মুন্সেফ কোর্ট চত্বরের উত্তরাংশে রাজশাহী জেলা জজ আদালতের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ হয়েছে। ১ অক্টোবর ২০০৫ তারিখে নির্মাণাধীন এ ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের ফলক (ভাঙ্গা) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ২০ মার্চ ২০০৫ইং, ৬ চৈত্র ১৪১০বাং তারিখে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে লিগ্যাল এন্ড জুডিসিয়াল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্প ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রকল্প পরিচিতির সাইনবোর্ড থেকে জানা যায়, ভবন নির্মাণের ব্যয় ৪ কোটি ৯৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৯২৭ টাকা। তবে ০৮ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখের দৈনিক নতুন প্রভাত পত্রিকায় এর নির্মাণ খরচ ৫ কোটি ৩৫লক্ষ টাকা উল্লেখ করা হয়। সম্ভবত নির্ধারিত প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে এ অংক দাঁড়ায়। মেসার্স মো. শামুসজ্জামান, ডি-১১৯, দরগাপাড়া, রাজশাহী ৬০০০ ঠিকা চুক্তিতে ভবন নির্মাণ করে। মেসার্স মো. শামসুজ্জামানের ম্যানেজার সুমনের বাড়ি নগরীর বিলসিমলায়। হেড মিস্ত্রির নাম রেজাউল করিম, বাড়ি হড়গ্রাম পীরসাহেব পাড়া। ম্যানেজার ও হেড মিস্ত্রীর প্রদত্ত তথ্যানুসারে ভবনটি ৫ তলা বিশিষ্ট। নিচতলায় মসজিদ, ক্যান্টিন, হাজতখানা, গ্যারেজ, বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ইত্যাদি আছে। ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায় মোট ১১টি এজলাস স্থাপিত হবে। এর মধ্যে ২য় তলায় ২টি এবং ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায় ৩টি করে। পূর্ব-পশ্চিম লম্বালম্বী ভবনের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় পাশেই ক্যান্টিন লেবার, ১টি করে সিঁড়ি ও ১টি করে লিফটের ব্যবস্থা আছে। ভবন চত্বরে থাকবে ফুলের বাগান, গার্ডেন লাইট, ডিপ টিউবওয়েল ইত্যাদি। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে ভবনটি উদ্বোধন করে। আয়তন ৪৫ হাজার বর্গফুট।২৫৬