ফিরে যেতে চান

মহানগরীর নওদাপাড়া বড়বনগ্রামে শহীদ জিয়া শিশু পার্কের অবস্থান। বিমান বন্দর রোডের পোস্টাল একাডেমির বিপরীত পাশের অর্থাৎ রোডের পূর্ব পাশের রাস্তা ধরে কিছু দূর এগুলেই শহীদ জিয়া শিশু পার্ক চোখে পড়বে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পার্কটি তৈরি করেছে। নির্মাণে ব্যয় করা হয় ১১ কোটি টাকারও বেশি।২৫০ ১২.২১ একর জায়গা জুড়ে পার্কটিতে স্থাপন করা হয়েছে ১৯টি আইটেমের ৭০টি গেমস প্লে। আইটেমগুলো হচ্ছে মেরী গো রাউন্ড, মিনি রেলকার, মনোরেল স্কাই বাইক, ফ্লুম রাইডস, অক্টোপাস, সুপার সুইং, বাম্পার কার, বাম্পার বোট, কিডি রাইডস, ফিজিওলজিক্যাল গেমস, থ্রি ডি মুভি থিয়েটার, পেডেল বোট, বাউন্সি ক্যাসেল, হর্স রাইড, ফ্রগ জাম্প, হানি সুইং, প্যারাট্রুপার, টি কাপ ও ব্যাটারী কার। হ্রদের মাঝখানে কৃত্রিম পাহাড় তৈরি করে পার্কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।  পাহাড়ের ভিতর দিয়ে মিনি রেলকার যাবার জন্য দুপাশে দুটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। বিচিত্র জন্তুর মুখ ও বরফ ঘর সদৃশ্য বেশ সুন্দর প্রবেশগেটের সঙ্গে আছে দোতলা ভবনের অফিস। এ ভবনের দোতলায় নামাজের ঘর আছে। বিভিন্ন জীব-জন্তু ও কারুকার্য খচিত সীমানা দেয়াল নজর কাড়ার মত। পার্কের ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক টয়লেট, পৃথক ২টি ড্রেসিং রুম আছে। ভিতরের আইটেমগুলো এনজয় করার টিকিটের জন্য তিনদিকে ৩টি কাউন্টার আছে। পার্ক থেকে বেরুনোর গেটটি অক্টোপাস সদৃশ্য। পার্কটি ঠিকা ভিত্তিতে তৈরি করেছে ডেটস অ্যান্ড উষা কনসোর্টিয়াম।

শহীদ জিয়া শিশু পার্কের প্রধান গেট (ছবি- ২০০৭)

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এ পার্কটি নির্মাণের জন্য ১৯৯৫ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। ঐ প্রকল্পে আইটেম ছিল মাত্র ৫টি। বিভিন্ন জটিলতার কারণে ঐ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান প্রকল্পের ভিত্তিতে নির্মিত পার্কের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় ৯.২.২০০৫ তারিখ সন্ধ্যায়। তবে পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু হয় ২০০৪ সালের ফেবব্রুয়ারিতে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।১৮৫ ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ তারিখে পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটি উদ্বোধন করেন।২৫৫ প্রবেশ মূল্য ব্যতীত ভিতরে বিভিন্ন রাইডের জন্য পৃথক পৃথকভাবে টিকিট ক্রয় করতে হয়। জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ২০ জানুয়ারি বগুড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ১৯৮১ সালের ৩০ মে কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্য চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁকে হত্যা করে। এ কারণে তাঁর নামের পূর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি সংযুক্ত করে বলা হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।