ফিরে যেতে চান

প্রত্ন ইমারত সংস্কার ও সংরক্ষণের প্রকল্প

২৯ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ রোববার বিকেলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অফ রাজশাহী সিটি থ্রু দ্যা ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড কনজারভেশন অফ সোস্যল, কালচারাল, এনভারমেন্টাল অ্যান্ড হেরিটেজ ইনফারটাকচার্স প্রকল্পের বাম থেকে বসে চুক্তিতে স্বাক্ষররত অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. আমিনুল হক, ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. নিযাম উল আযীম ও তাঁর বাম পাশে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
ভারত সরকারের অর্থায়নে প্রত্ন ইমারত সংস্কার ও সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত আছে রাজশাহী মহানগরীর সপুরা ছয়ঘাটি পুকুরের উত্তর পাড়ের চৌচালা সপুরা মন্দির বা সপুরা ছঘাটি মঠ (ক), সপুরা সিল্ক মিলের সম্মুখস্থ উত্তর পাশে ও মঠপুকুরের দক্ষিণ পাড়ের ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত সপুরা শিবমন্দির বা সপুরা মঠ (খ), একটি চাতালের উত্তর-পশ্চিম অংশে ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত শিখর মন্দির বা সপুরা মঠ (গ), মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম (রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম) এর উত্তর পাশের মার্কেটের বিপরীত পাশের রাজশাহী-বিমান বন্দর সড়ক থেকে বিভক্ত সপুরা রাস্তার পূর্ব পাশে ও সপুরার ছয়ঘাটি পুকুরের দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ের শিরাল গম্বুজ বিশিষ্ট মন্দির বা সপুরা ছঘাটি মঠ (ঘ), শিরোইল মঠ পুকুরের উত্তর পাশের ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত শিখর মন্দির বা শিরোইল মঠ ও রামচন্দ্রপুরের তারানবাবুর পুকুরের পশ্চিম পাশের ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত মঠ।৭৭৯ ১৫ জুলাই ২০১৭ তারিখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হকের তথ্যানুসারে একই প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারীতে অবস্থিত পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার সংস্কার, মিয়াপাড়ার রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের অডিটোরিয়ামও নির্মাণ হবে। ফুটপাত ও জলাধার নির্মাণের কাজও আছে প্রকল্পটিতে। সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অফ রাজশাহী সিটি থ্রু দ্যা ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড কনজারভেশন অফ সোস্যল, কালচারাল, এনভারমেন্টাল অ্যান্ড হেরিটেজ ইনফারটাকচার্স প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সব কার্যক্রম সম্পাদন হবে। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ রোববার বিকেলে এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. আমিনুল হক ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. নিযাম উল আযীম চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।৭৭৭ এ সময় রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অভিজিত চট্টোপাধ্যায়, বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব কমলেশ কুমার দাশ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একেএম রাশেদুল হাসান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন, প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হকসহ অন্যান্য কাউন্সিলর-কর্মচারীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।৭৭৮  রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাকে সংবর্ধনাও প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। এ দিন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকেও  শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাঁকে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন চেম্বারের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি।৭৭৮ 
ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে মহানগরীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা সমৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ সব পুরাকীর্তিসমূহ সংস্কার ও সংরক্ষণের বিষয় আলোচনায় আসে একবিংশ শতাব্দীতে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২০০৮-২০১৩ সালের পরিষদ ২৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আনসার আলীর সভাপতিত্বে ইতিহাস, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়ন স্থায়ী কমিটিও গঠন করে। কমিটিতে ইতিহাস সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-গবেষকগণকে অবৈতনিক পরামর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১১ সালের ১৯ মে এ কমিটির ১ম সভায় স্থায়ী কমিটির পরামর্শক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মাহবুবর রহমান বিষয়টি উপস্থাপন করেন। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি কমিটির একাদশ সভায় অধ্যাপক ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান পাওয়ার পয়েন্টে পুরাকীর্তিসমূহের বিস্তর তথ্য উপস্থাপন করে দেখান। এ সভায় তৎকালীন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। অর্থ ও যথাযথ পরিকল্পনার অভাব এ সব আলোচনা শারীরিক আকার ধারণের সুযোগ পায়নি। পরবর্তীতে ভারত সরকারের অর্থায়নে এ সব পুরাকীর্তি সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কয়েক বছর থেকে এ বিষয়ে আলোচনাও শোনা যায়। অবশেষে বাস্তবভিত্তিক আয়োজনের নির্দশনস্বরূপ একটি প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।