ফিরে যেতে চান

সাহেব বাজার বড় মসজিদের পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে দক্ষিণ দিকে বড়কুঠি পাড়ার কিছুদূর গেলেই হাতের ডানে অর্থাৎ রাস্তার পশ্চিম পাশে দ্বিতল বিশিষ্ট লাল রঙ্গের এ ভবনটি পরিলক্ষিত হতো। বিলুপ্তির পূর্বে ভবনটির নিচতলা গোডাউন ও উপরতলা ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পূর্বমুখী এ ভবনটির নিচতলা সম্মুখস্থ উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত একটি বারান্দাসহ চারটি এবং দ্বিতলে বারান্দাসহ চারটি মোট আটটি কক্ষে বিভক্ত ছিল। অর্থাৎ ভবনটিতে নিচতলা ও দোতালায় বিভিন্ন আয়তনের মোট আটটি কক্ষ এবং দুটি বারান্দা ছিল। ইমারতটির নিচতলায় সম্মুখস্থ বারান্দার সাথে পশ্চিমে সংযুক্ত পরস্পর সংলগ্ন উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দুটি বড় কক্ষ এবং বারান্দা ও প্রথম বা কেন্দ্রীয় বড় কক্ষের সাথে সংযুক্ত উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে কক্ষ বিদ্যমান ছিল। কক্ষ দুটির বারান্দামুখী একটি করে প্রবেশপথ ও পূর্ব দেয়ালে একটি করে জানালা এবং দক্ষিণ দিকের কক্ষের দক্ষিণ দেয়ালে চারটি ও উত্তর দিকের কক্ষের উত্তর দেয়ালে একটি জানালা ছিল। অপরদিকে বারান্দা সংযুক্ত কেন্দ্রীয় বড় কক্ষটির বারান্দামুখী একটি প্রবেশপথ ও তার দুই পাশে দুটি জানালা, উত্তর দেয়ালে একটি প্রবেশপথ এবং পশ্চিম দেয়ালে পরবর্তী কক্ষের সাথে দুটি জানালা ছিল। পশ্চিমের দ্বিতীয় বড় কক্ষটির উত্তর দেয়ালে একটি এবং দক্ষিণ প্রান্তে পূর্বদিকের কক্ষের সাথে একটি প্রবেশপথ ছিল। ইমারতটির উত্তর-পশ্চিম কোণায় দ্বিতলে ওঠার জন্য ছিল একটি সিঁড়িপথ। বারান্দার উত্তরাংশের কক্ষটির পশ্চিম দেয়ালে এ সিঁড়িপথে যাওয়ার জন্য একটি প্রবেশপথ ছিল। তাছাড়া ভবনের বাইরে উত্তর পাশের একটি সরু গলিপথ দিয়েও দ্বিতলে ওঠার এ সিঁড়িপথে যাওয়া যেত (এ ব্যবস্থাটি সম্ভবত পরবর্তীতে করা হয়)। দ্বিতল অংশের সম্মুখস্থ বারান্দাটির আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪.০মি. ও পূর্ব-পশ্চিমে ২.৪০মি.। বারান্দার সম্মুখে ৩.৪৮X৪.০মি. আয়তন বিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় কক্ষ। এ কক্ষ এবং বারান্দার উত্তরাংশে ৩.৭০X২.৪৩মি. আয়তন বিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র কক্ষ এবং দক্ষিণাংশে ৬.৪৫X২.৩০মি. আয়তনের একটি আয়তাকার (পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত) কক্ষ বিদ্যমান ছিল। কক্ষ দুটির বারান্দামুখী একটি করে প্রবেশপথ ও পূর্ব দেয়ালে একটি করে জানালা রয়েছে। তবে দক্ষিণ দিকের কক্ষটির দক্ষিণ দেয়ালেও নিচের ন্যায় চারটি জানালা বিদ্যমান ছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কক্ষের চারটি প্রবেশপথ এবং দুটি জানালা দৃশ্যমান হতো। এছাড়া এ কক্ষের পশ্চিমে পরবর্তীতে কাঠের নির্মিত আরো একটি কক্ষ সংযোজিত হয়। সামগ্রিকভাবে কক্ষগুলোর উপরিভাগ লোহা ও কাঠের নির্মিত তীর-বর্গার সমন্বয়ে সমতল ছাদে আচ্ছাদিত হলেও দ্বিতলস্থ বারান্দাটির উপরিভাগ সম্মুখস্থ একটি অষ্টকোণা ক্ষুদ্র স্তম্ভ ও উভয় পাশে স্থাপিত দুটি পোস্তাসহকারে টালির আচ্ছাদনযুক্ত ছিল। ইমারতটির নিচতলার বারান্দা সম্মুখস্থ তিনটি খিলানপথে উন্মুক্ত ছিল। কেন্দ্রীয়টি ব্যতীত অন্য দুটি গ্রীল দ্বারা আবদ্ধ ছিল। বারান্দার খিলান স্তম্ভ চারকোণা হলেও শীর্ষভাগ ক্ষুদ্র খিলান নকশা ও পত্র নকশায় অলংকৃত ছিল। নিচতলার কার্নিশের নিম্নাংশ দন্ত নকশা এবং দ্বিতলের কার্নিশের নিম্নাংশ ক্ষুদ্র খিলান নকশা ও তার নিচে একসারি দন্ত নকশায় সজ্জিত ছিল। সম্মুখস্থ জানালার বহির্মুখ রজ্জু নকশায় শোভিত হলেও অন্য জানালাগুলো অর্ধবৃত্তাকার খিলান বিশিষ্ট এবং খড়খড়ি সংবলিত ছিল। এ ভবনটিই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে প্রথম ছাত্রী নিবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়।

বিলুপ্ত লাল কুঠি ও তার দেয়ালের শিলা বিন্যাস (পূর্ব দিক থেকে)