ফিরে যেতে চান

রাজশাহী পৌরসভা ভবন (বিলুপ্ত)

রাজশাহী পৌরসভা ভবন, সোনাদিঘি (২০০৯ সালে বিলুপ্ত)

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের উত্তরে এবং সোনাদিঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণায় এ ভবনটির অবস্থান ছিল। ১৯২১ সালে নির্মিত দক্ষিণমুখী ও দ্বিতল বিশিষ্ট এ ভবনটি নির্মাণে ইট, চুন-সুরকি, লোহা ও কাঠ ব্যবহৃত হয়েছিল। ভবনটি মূলত পরস্পর সংযুক্ত পূর্ব ও পশ্চিম দুটি ব্লকে বিভক্ত ছিল। পূর্ব ব্লকের সম্মুখে একটি বারান্দা। বারান্দাটি তিনটি অর্ধবৃত্তাকার খিলানপথে উন্মুক্ত ছিল। এ বারান্দার উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমে বিভিন্ন আয়তনের ইমারতটির অন্যান্য কক্ষগুলো বিন্যাস্ত (ভবনটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হওয়ায় এর কক্ষ সংখ্যা, আয়তন ও সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় না)। কক্ষসমুহের দরজা ও জানালা খড়খড়ি সংবলিত এবং জানালাসমূহ ফ্যানলাইট বিশিষ্ট ছিল। ভবনটির দোতালার মাঝখানে ছিল সভাকক্ষ। যা মূল ভবনের সঙ্গে নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমিত হয়। পরবর্তীতে সভাকক্ষের পূর্ব দেয়ালের সঙ্গে নির্মিত হয়েছিল মেয়রের দপ্তর। দোতলার পশ্চিম-দক্ষিণ কোণায় নির্মাণ করা হয়েছিল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর। পশ্চিম-দক্ষিণ কোণায় ছিল একটি টয়লেট। তার পাশে একটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি ছিল জনসংযোগ শাখা। এ কক্ষের সঙ্গে আর একটি ছোট কক্ষ নির্মাণ করে টয়লেটটিকে কক্ষের ভিতরে নেয়া হয়েছিল। সেখানে জনসংযোগ কর্মকর্তা বসতেন। জনসংযোগ শাখার পূর্বে ছিল স্থায়ী কমিটির কক্ষ ও তার পূর্বে ছিল কমিশনারবৃন্দের কক্ষ। ভবনটিতে ছিল দুটো সিঁড়ি। একটি পশ্চিম দিকে। অপরটি মূল ভবনের মাঝের সরু পথ দিয়ে দক্ষিণ দিকে। এ সিঁড়িটি জনসংযোগ শাখার দরজার সামনে গিয়ে শেষ হতো। এ সিঁড়ির মাঝখানে একটি কক্ষ ছিল। সেখানে বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বসতেন।
ভবনের পশ্চিম ব্লকও কতকগুলো কক্ষে বিভক্ত ছিল। ভবনটির ছাদ লোহার তীর ও কাঠের বর্গা সমন্বয়ে সমতলাকারে নির্মিত ছিল। 

সানাদিঘির পৌরসভা চত্বরে লোহা ও সিমেন্ট-বালির নির্মিত অষ্টকোণা স্তম্ভ ও প্রস্তরলিপি (২০০৯ সালে বিলুপ্ত)

ভবন চত্বরের সামনের অংশে ছিল একটি পূর্ব-পশ্চিম দৈর্ঘ্য আকৃতির ফুলের বাগান। বাগানটি ছিল লোহার গ্রিলে ঘেরা। তার মাঝে ছিল একটি স্তম্ভ। স্তম্ভের নিচের অংশে ছিল চৌকোণ আকৃতির। সেখানে ৩টি ইংরেজি অক্ষরে ও ১টি বাংলা অক্ষরে মোট চারটি প্রস্তর শিলালিপি স্থাপন করা ছিল। শিলালিপিগুলো বর্তমানে নগর ভবনে প্রস্তাবিত রাজশাহী সিটি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। সেগুলো দেখে অনুমিত হয় এগুলোর তিনটি এক সঙ্গে ১৯৩৭ সালে ও অপরটি ১৯৬৮ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। ইংরেজি অক্ষরের শিলালিপিগুলোতে মিউনিসিপ্যালিটির সূচনাকাল ১৮৭৬ সালের এপ্রিল উল্লেখ আছে। প্রস্তর ফলক স্থাপনের নির্দিষ্ট তারিখ নাই। তবে ঐ সময়ের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের নামসহ তাঁদের মেয়াদকাল ১৯৩৪-১৯৩৯ উল্লেখ আছে। চেয়ারম্যান রায় ডি.এন. দাস গুপ্ত বাহাদুর ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এম.এ. আলম। ফলকে আরো উল্লেখ আছে, রাজশাহী মহানগরীতে বিদ্যুতায়ন শুরু হয় ১৯৩৬ সালের জানুয়ারিতে এবং ওয়াটার ওয়ার্কস শুরু হয়েছিল ১৯৩৭ সালের আগস্টে। ফলকের তথ্যানুসারে সে সময় ওভারসিয়ার ছিলেন বি. কে. চক্রবর্ত্তী ও ঠিকাদার ছিলেন কে. সি. ব্যানার্জী। প্রস্তর ফলকে ওভারসিয়ার ও ঠিকাদারের নাম থাকার কারণে অনুমান করা হয় তাঁরাই ইংরেজি শিলালিপি তিনটির স্থপতি এবং শিলালিপি তিনটি স্থাপিত হয় ১৯৩৭ সালে আগস্টে ওয়াটার ওয়ার্কস শুরুকালে বা তার পর। বাংলা অক্ষরের শিলালিপিতে লিখা আছে ১৯৬৮ সালের রাজশাহী পৌরসভা। তার নিচে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের ও ১৪ জন মেম্বারের নাম।