ফিরে যেতে চান

বিলুপ্ত কালেক্টর ভবনের সময়ে নির্মিত জেলা জজকোর্ট ভবনটি এখনো বিদ্যমান। বিলুপ্ত জেলা পরিষদ ভবন ও বার এসোসিয়েশনের পশ্চিম পাশে এ ভবনটি অবস্থিত। এ ভবনটিও কালেক্টর ভবনের ন্যায় একইভাবে একতলা বিশিষ্ট ও পূর্ব-পশ্চিমে আয়তাকারে নির্মিত। .৯০মি. উঁচু বেদীর উপর নির্মিত ভবনটি উত্তর ও দক্ষিণে টানা বারান্দা এবং পূর্ব ও পশ্চিমে ছোট দুটি বারান্দা দ্বারা বেষ্টিত। কালেক্টর ভবনের ন্যায় উত্তর ও দক্ষিণ-উভয়মুখী এ ইমারতের দক্ষিণ বারান্দার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দুটি গাড়িবারান্দা এবং উভয় বারান্দার কেন্দ্রস্থলে একটি করে সুপ্রশস্ত সোপানশ্রেণি বিদ্যমান। এছাড়া উভয় বারান্দায় ২১টি করে খিলানে এবং ইমারতের পূর্ব ও পশ্চিম বারান্দা ২টি করে খিলানে উন্মুক্ত। তবে পরবর্তীতে পশ্চিম দিকের সম্পূর্ণ বারান্দা এবং উত্তর দিকের টানা বারান্দার পশ্চিমভাগের কিছু অংশের খিলান বন্ধ করে কক্ষে রূপান্তরিত করা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িবারান্দাসমূহ সম্মুখভাগে দুটি এবং পূর্ব ও পশ্চিমে একটি করে স্থাপিত খিলান দ্বারা উন্মুক্ত। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিচার এজলাসসহ ভবনটিতে বিভিন্ন আয়তনের সর্বমোট ১৫টি কক্ষ রয়েছে। ভবনটি প্রতিটি দরজা উল্লাম্বাকারে নির্মিত ও খড়খড়ি বিশিষ্ট। তবে রেকর্ডরুমের দক্ষিণ দিকের ১০টি প্রবেশপথ কাঠের দরজার সাথে লোহার জালি ও গ্রিল সংবলিত দরজা দ্বারা সুরক্ষিত। এছাড়া প্রতিটি কক্ষে ফ্যানলাইট বিদ্যমান। 

পুরানো জজকোর্ট ভবন (উত্তর দিক থেকে)

ভবনটির উপরিস্থিত সমতল ছাদ লোহার তীর-বর্গায় নির্মিত এবং বহির্দেয়ালগাত্র হলুদ রঙে আচ্ছাদিত। পূর্বদিকের গাড়িবারান্দার দুই খিলানের মধ্যবর্তী অংশে (spandrel) স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুসারে ভবনটি ১৮৬৪ সালের মার্চে নির্মাণ শুরু হয় ও ১৮৬৫ সালের আগস্টে শেষ হয়। ফরাসী নির্বাহী প্রকৌশলী মি. ইএসবি পেরিরার (ESB Pereira) ও ফার্স্ট গ্রেড ওভারসিয়ার বাবু (অস্পষ্ট একটি শব্দ) কান্ত দেবের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এর মিস্ত্রী ছিলেন শ্রী বিনোদ বিহারী ও শেখ কিনু।১ ভবনটি হলুদ রঙে আচ্ছাদিত।