ফিরে যেতে চান

রাজশাহী ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমি

বোয়ালিয়া থানার পূর্ব দিকে সম্প্রতি বিলুপ্ত রাজশাহী ব্যাঙ্কিং এন্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড ভবনের পশ্চাতে বর্তমানে এ একাডেমি অবস্থিত হলেও পূর্বে এটি ছিল পদ্মা নদীর তীরবর্তী বড়কুঠি পাড়ায়। ভবনটি এখনো বড়কুঠির উত্তর দিকে ভগ্নদশাবস্থায় বিদ্যমান। পশ্চিমমুখী এ ভবনটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বাকৃতির তৃতীয় বন্ধনী বা ইংরেজি বর্ণ ঊ এর মত। কেন্দ্রস্থলে হলঘর এবং হলঘরের সম্মুখে একটি অর্ধবৃত্তাকার বারান্দা রয়েছে। ভবনটির হলঘরসহ মোট কক্ষের সংখ্যা ১৮টি। হলঘরের উভয় পাশে (উত্তর-দক্ষিণ লম্বা) বিন্যাস্ত ছয়টি করে বারটি এবং পশ্চিমে উভয় প্রান্তের বর্ধিত অংশে দুটি করে চারটি ও দক্ষিণের বর্ধিত অংশের দ্বিতলে দুটি কক্ষ বিদ্যমান। ইমারতটি নির্মাণে ইট ও চুন-সুরকি ব্যবহৃত হয়েছে। সমগ্র ভবনটির উপরিভাগ কাঠের তীর-বর্গা ও টালি দিয়ে নির্মিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত। ছাদ প্রান্তে নির্মিত বপ্রের কেন্দ্রস্থলে উভয় প্রান্তে চূড়া সংবলিত দুটি বর্গাকার স্তম্ভ বেষ্টিত একটি বড় আয়তাকার অবকাঠামোতে উৎকীর্ণ রয়েছে একাডেমির নাম ও প্রতিষ্ঠা বছর। যার অনেকাংশই বর্তমানে লুপ্ত হয়েছে। উক্ত লিপি অনুসারে এ একাডেমির প্রতিষ্ঠা বছর ১৮৯৮ বলে জানা যায়। বর্তমানে ভবনটির দক্ষিণ ব্লকে (দ্বিতল অংশ) জনৈক মোহাম্মদ রেফাতুল্লাহ্ (অবসরপ্রাপ্ত সিও) তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

বড়কুঠিপাড়ার রাজশাহী ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমির প্রথম ইমারত (পশ্চিম দিক হতে)

বোয়ালিয়া থানার পূর্ব দিকে এ একাডেমির বর্তমান ভবনটি ছিল শ্রীযুক্ত কালীনাথ মুখার্জ্জি  (বেচু বাবু) মহাশয়ের বাড়ি। এটিও প্রায় একশ বছরের পুরনো। উন্মুক্ত অঙ্গনের দক্ষিণ প্রান্তে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা দ্বিতল বিশিষ্ট মূল ভবনটির কেন্দ্রস্থলে একটি স্বল্প আয়তনের সিঁড়ি এবং সিঁড়ির দুই পাশে উভয় তলায় সমআয়তন বিশিষ্ট একটি করে কক্ষ ও সম্মুখে পূর্ব-পশ্চিমে টানা বারান্দা বিদ্যমান। কক্ষ চারটির বারান্দামুখী দুটি করে প্রবেশপথ ও একটি করে জানালা এবং দক্ষিণ দেয়ালে দুটি করে জানালা রয়েছে। নিচতলার বারান্দার সম্মুখভাগ সাতটি অর্ধবৃত্তাকৃতির খিলানে উন্মুক্ত এবং দ্বিতলে বারান্দার সম্মুখভাগে ছয়টি গোলায়িত স্তম্ভ ও দুই প্রান্তে দুটি পোস্তার উপর ইমারতের ছাদ নির্মিত। তাছাড়া বারান্দাটি একটি স্বল্পোচ্চ লোহার তৈরি গ্রীল দ্বারা আবদ্ধ। ইট ও চুন-সুরকি দ্বারা নির্মিত ভবনটির সকল কক্ষ ও বারান্দার উপরিভাগ লোহার তীর-বর্গা ও টালির সমন্বয়ে গঠিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত। নির্মাণশৈলী দৃষ্টে বর্তমান ইমারতটিও বিংশ শতকের প্রথম অথবা দ্বিতীয় দশকে নির্মিত বলে অনুমিত হয়। (বিস্তারিত শিক্ষা অধ্যায়)