ফিরে যেতে চান

তালন্দ ভবন (প্রধান প্রবেশতোরণ), সাহেব বাজার 

সাহেব বাজার বড় মসজিদ হতে পূর্ব দিকে স্টার স্টুডিওর সামনে রাস্তার দক্ষিণ পাশে এ ভবনটি অবস্থিত। তানোর উপজেলার তালন্দ গ্রামের জমিদারদের প্রায় সাড়ে চার বিঘার উপর নির্মিত এ বিশাল বাসগৃহটি মূলত তিনটি ব্লকে বিভক্ত। রাস্তা সংলগ্ন সুউচ্চ ও অর্ধবৃত্তাকৃতির খিলান বিশিষ্ট এক বিশাল তোরণপথ দিয়ে এ বাসগৃহে প্রবেশ করতে হয়। তোরণপথের উভয় পাশে একটি করে ক্ষুদ্রাকৃতির প্রহরী কক্ষসহ দুটি করে চারটি কক্ষ বিদ্যমান। প্রহরী কক্ষের প্রবেশপথ দুটি খিলানপটহ সংবলিত। তোরণপথ ও প্রহরী কক্ষের প্রবেশপথসমূহ একটি আয়তাকার কাঠামোর মধ্যে স্থাপিত। প্রবেশ তোরণ পেরিয়ে কাচারি অঙ্গন। কাচারি অঙ্গনের পশ্চিম পাশে দ্বিতল বিশিষ্ট প্রথম ব্লকের নিচতলা কাচারি অফিস হিসেবে এবং উপরতলা আবাস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কাচারি অঙ্গনের পূর্বাংশে অবস্থিত একতলা বিশিষ্ট দ্বিতীয় ব্লকটি বৈঠকখানা ও সঙ্গীত কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এখানে তালন্দ জমিদারদের উত্তরাধিকারী জমিদার মৃত ঋতেন্দ্রমোহন মৈত্রের একমাত্র পুত্র ল্যাডলি মোহন মৈত্রেয় (বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত ও নাট্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক) তাঁর মাকে নিয়ে বসবাস করছেন। দ্বিতীয় ব্লকটি চারটি কক্ষে বিভক্ত ও চতুর্দিক বারান্দা বেষ্টিত। এ ব্লক থেকে সামান্য দূরে দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় রয়েছে তৃতীয় ব্লক; যা ছিল এ ভবনের মূল বাসগৃহ। দ্বিতল বিশিষ্ট ও পশ্চিমমুখী এ ব্লক বা ভবনটিতে নিচ ও উপরতলায় বিভিন্ন আয়তনের মোট ২০টি কক্ষ রয়েছে। ভবনটি বর্তমানে গোয়েন্দা অফিস (এনএসআই অফিস) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইট ও চুন-সুরকির উপকরণে নির্মিত তালন্দ ভবনের সকল কক্ষের উপরিভাগ কাঠের তীর-বর্গা সংবলিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত। দেয়ালগাত্রে পলেস্তারার আস্তরণ ব্যতীত আর কোন অলংকরণ নজরে পড়ে না। তবে ভবনটির সকল ব্লকের মেঝে ভূমি থেকে বেশ উঁচু করে নির্মিত। নির্মাণকাল সম্পর্কিত কোন শিলালিপি বা দলিলপত্র না থাকলেও এ ভবনটি খুব সম্ভব উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে নির্মিত বলে অনুমিত হয়। উল্লেখ্য যে, রাজশাহী শহরে বিদ্যমান জমিদারবাড়িসমূহের মধ্যে একমাত্র এ ভবনের তোরণপথটি এখনো টিকে থেকে রাজশাহী অঞ্চলের জমিদারদের আভিজাত্য ও ভাবগাম্ভীর্যের বার্তা বহন করে চলেছে।