ফিরে যেতে চান

পানসিপাড়া জমিদারদের কুঠি (বর্তমান বোয়ালিয়া ক্লাব)

এ জমিদার বংশের জমিদার মোহিনী মোহন রায়ের একটি স্বাস্থ্য নিবাস কুঠি ছিল বর্তমান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন। ১৮৮৪ সনে নির্মিত এভবনটি বর্তমানে বোয়ালিয়া ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইমারতটি নিয়মিত সংস্কার করার জন্য এখনো টিকে রয়েছে। এটি নির্মাণে ইট, চুন-সুরকি, লোহা ও কাঠ ব্যবহৃত হয়েছে। পূর্বমুখী ও একতলা বিশিষ্ট এ ভবনটি মূলত উত্তর-দক্ষিণে আয়তাকার পাশাপাশি দুটি বিশাল হলঘর এবং হলঘর দুটির সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন আয়তনের মোট ছয়টি কক্ষে বিভক্ত (হলঘর দুটিসহ মোট আটটি কক্ষ)। ইমারতটির সম্মুখে ৪.১৫X৪.৫০মি. আয়তন বিশিষ্ট একটি গাড়িবারান্দা বিদ্যমান। গাড়িবারান্দাটি পূর্বদিকে দুটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে প্রবেশপথে উন্মুক্ত। পূর্বদিকের প্রবেশপথ দুটি .৯০মি. উঁচু পাদপিঠের উপর স্থাপিত কেন্দ্রস্থলে এক সেট ও দুই কর্ণারে পরস্পর সংলগ্ন তিনটি করে এবং ভবনের সাথে একটি করে স্তম্ভ সহকারে নির্মিত। এছাড়া গাড়িবারান্দা হতে ভবনটিতে ওঠার জন্য আরো দুটি স্তম্ভ সংবলিত তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। প্রবেশপথের স্তম্ভসমুহ গোলায়িত আকারে নির্মিত। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথটি বেশ চওড়া এবং এর সম্মুখে পাঁচ ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়িপথ বিদ্যমান। ইমারতের হলঘর দুটি উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত সমআয়তন বিশিষ্ট (৯.২৫X৬.১৫মি.)। প্রথমটির গাড়িবারান্দামুখী তিনটি, দ্বিতীয়টির পশ্চিম দেয়ালে তিনটি এবং উভয় কক্ষের মধ্যবর্তী দেয়ালে সমান্তরালভাবে স্থাপিত তিনটি করে দরজা বিদ্যমান। হলঘর দুটির উত্তর পাশ সংলগ্ন চারটি ক্ষুদ্র কক্ষের হলঘরের সাথে একটি করে এবং দক্ষিণের দুটি কক্ষের প্রথমটির হলঘরের সাথে দুটি এবং ইংরেজি বর্ণ L আকৃতির দ্বিতীয় কক্ষটির সাথে একটি করে দরজা বিদ্যমান। L আকৃতির কক্ষটির উত্তর প্রান্তে এবং দ্বিতীয় হলঘরের উত্তর-পশ্চিম কোণায় একটি ক্ষুদ্র আয়তনের বারান্দা রয়েছে। সমগ্র ইমারতটির উপরিভাগ লোহা ও কাঠের তীর-বর্গার সমন্বয়ে নির্মিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত।