ফিরে যেতে চান

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর (দক্ষিণ-পূর্ব পাশ)

রাজশাহী সদর হাসপাতালের পশ্চিম পাশে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। এটিই বাংলাদেশের সর্বপ্রথম জাদুঘর। একতলা বিশিষ্ট এ ইমারতের ভূমি নকশা উত্তর-দক্ষিণে ইংরেজি বর্ণ U (তৃতীয় বন্ধনীর ন্যায়)  আকৃতির। ইমারতটির প্রধান প্রবেশপথ অতীতে দক্ষিণ দিকে থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ করে পূর্ব দিকে করা হয়েছে। জাদুঘরটি প্রায় দুই একর ভূমির উপর নির্মিত এবং চারিদিক প্রাচীর বেষ্টিত। বেষ্টনী প্রাচীরের দক্ষিণে একটি (বর্তমানে বন্ধ) ও পূর্ব দিকে দুটি প্রবেশপথ বিদ্যমান। প্রবেশ পথসমূহের দুই দিকে একটি করে পীড় বা রেখ দেউলের শিখরের ন্যায় স্তম্ভ স্থাপিত রয়েছে। ইমারতটির দক্ষিণে একটি বর্ধিত (projected) বারান্দা রয়েছে। বারান্দাটি পাঁচটি ত্রিভাঁজীয় খিলানে উন্মুক্ত এবং এ বারান্দার সম্মুখে আরেকটি অর্ধবৃত্তাকার উন্মুক্ত মঞ্চ সংযোজিত। ভবনটি উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে টানা বারান্দা বেষ্টিত এবং নয়টি কক্ষে বিভক্ত। পরবর্তীতে আরো দুটি কক্ষ সংযোজিত হয়েছে। টানা বারান্দাটি উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকে নয়টি করে এবং পূর্ব ব্লকে ১১টি ত্রিভাঁজীয় খিলানে উন্মুক্ত। 
জাদুঘর ভবনের পূব দিকের প্রধান প্রবেশপথটি সম্মুখে উদগত করে নির্মিত এবং ত্রিভাঁজীয় খিলানে উন্মুক্ত। ইমরতটির ছাদ লোহার তীর-বর্গা সমন্বয়ে সমতলাকারে নির্মিত এবং ছাদ প্রান্ত প্যারাপেট দ্বারা বেষ্টিত। এ ভবনের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে অষ্টম-নবম শতাব্দীর বৌদ্ধ-হিন্দু নির্মাণ রীতির সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়। যেমন– ইমারতে ব্যবহৃত ত্রিভাঁজ বিশিষ্ট খিলান এবং পীড় ও রেখ দেউল বা মন্দিরের আদলে নির্মিত ছাদ পাঁচিলের কোণায় কোণায় বিশেষ ধরনের চূড়া, বেষ্টনী প্রাচীরের প্রবেশপথের দুই পাশের স্তম্ভ ইত্যাদি বৌদ্ধ-হিন্দু যুগের স্থাপত্য রীতিকেই স্মরণ করে দেয়। (বিস্তারিত শিক্ষা অধ্যায়)