ফিরে যেতে চান

বড়কুঠি (পশ্চিম পাশ)

রাজশাহী শহরে বিদ্যমান লোকায়ত ইমারতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ইমারত বড়কুঠি। তবে ধর্মীয় ও লোকায়তের মধ্যে বড়কুঠি ৩য় প্রাচীন ইমারত। সর্বপ্রাচীন হযরত শাহ্ মখদুম রপোশ (রহ.) হুজরাখানা ও ২য় প্রাচীন তাঁর সমাধি। বড়কুঠি রাজশাহী কলেজের দক্ষিণে ও পদ্মা নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত। ইষ্টক নির্মিত ও সমতল ছাদ বিশিষ্ট এ ইমারতটি সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ প্রান্ত বা অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম পর্যায়ে ওলন্দাজ (ডাচ্) রেশম ব্যবসায়ীদের নির্মিত এক উল্লেখযোগ্য কীর্তি। কুঠিটির বহির্ভাগ দৈর্ঘ্যে ২৪মি. (৮র্২-র্০র্ ) এবং প্রস্থে ১৭.৩৭মি. (৬র্৭-র্০র্ )। দ্বিতল বিশিষ্ট এ ইমারতটি বিভিন্ন আয়তনের মোট বারটি কক্ষে বিভক্ত। দ্বিতলে একটি সভাকক্ষসহ ৬টি কক্ষ রয়েছে। কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পূর্ব-পশ্চিমে ৯.৬০ মি. ও উত্তর-দক্ষিণে ৬.৩০ মি. আয়তন বিশিষ্ট আয়তাকার সভাকক্ষের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে বারান্দা (উত্তরের বারান্দা ৯.৬০X৫.৮৫ মি. এবং দক্ষিণের বারান্দা ৯.১৮X৫.৮৫ মি. আয়তন বিশিষ্ট) এবং  কক্ষের পশ্চিম দিকে দুটি ও পূর্ব দিকে এক সারিতে তিনটি কক্ষ বিদ্যমান। পশ্চিম দিকের কক্ষ দুটির মধ্যে উত্তর দিক থেকে প্রথমটির আয়তন ৬.৩০X৫.৫২ মি. ও দ্বিতীয়টির আয়তন ৬.৩৪X৬.২৮ মি. এবং পূর্ব দিকের কক্ষ তিনটির মধ্যে উত্তর দিক হতে প্রথমটির আয়তন ৬.৩৫X৫.৫০ মি., দ্বিতীয় বা মধ্যেরটির আয়তন ৬.৩০X৬.৩০ মি. এবং তৃতীয়টির আয়তন ৫.৫০X৬.৭৮ মি.। সভাকক্ষের দুই দিকে বারান্দামুখী সমান্তরালভাবে তিনটি করে এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাশের কক্ষের সাথে একটি করে দরজা বিদ্যমান। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণের বারান্দা দুটির সম্মুখে দুই প্রান্তে দুটি অর্ধগোলায়িত পোস্তা এবং তার মধ্যস্থলে স্থাপিত দুটি করে গোলায়িত স্তম্ভে উন্মুক্ত। দক্ষিণের বারান্দাটির সম্মুখভাগ গ্রীল বেষ্টিত হলেও উত্তরের বারান্দাটি বর্তমানে বন্ধ করে কক্ষে রূপান্তরিত করা হয়েছে। দক্ষিণ দিকের বারান্দার পশ্চিমাংশে একটি কাঠের প্রশস্ত সিঁড়ি রয়েছে। এছাড়া সভাকক্ষের পূর্ব ও পশ্চিমের কক্ষগুলোর মধ্যে  যাতায়াতের জন্য  উভয় কক্ষের মধ্যবর্তী দেয়ালে একটি করে দরজা বিদ্যমান। পূর্বাংশের তিনটি কক্ষের উত্তর দিক হতে প্রথমটির উত্তর দেয়ালে দুটি ও পূর্ব দেযালে একটি, মধ্যবর্তী কক্ষের পূর্ব দেয়ালে দুটি এবং সর্ব দক্ষিণের তৃতীয় কক্ষের পূর্ব দেয়ালে একটি ও দক্ষিণ দেয়ালে দুটি করে জানালা বিদ্যমান। অন্যদিকে পশ্চিমাংশের উত্তর দিক হতে প্রথম কক্ষটির উত্তর দেয়ালে দুটি জানালা ও পশ্চিম দেয়ালে একটি দরজা এবং দ্বিতীয় কক্ষটির পশ্চিম দেয়ালে দুটি জানালা ও দক্ষিণ দেয়ালে কাঠের সিঁড়িঘরের সাথে সংযুক্ত দুটি দরজা রয়েছে। এছাড়া ইমারতটির দ্বিতলে ওঠার জন্য পশ্চিম পাশের বহির্ভাগে নির্মিত একটি প্রশস্ত সিঁড়ি (বর্তমানে পুনর্নির্মিত) উত্তর দিকের কক্ষের দরজার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। ভবনটির প্রতিটি দরজা-জানালা ভেনিসীয় খড়খড়ি (Venetian blind) সংবলিত এবং উল্লম্বভাবে নির্মিত। ঠিক একইভাবে ইমারতটির নীচের কক্ষগুলো নির্মিত। তবে বায়ুরন্ধ্র পথ (ventilator) ও দরজা-জানালার স্বল্পতার কারণে নিচের কক্ষগুলো অপেক্ষাকৃত অন্ধকার। খুব সম্ভব নিচতলা এক সময় রেশম দ্রব্যাদি সংরক্ষণ কক্ষ হিসেবে ব্যবহারের সাথে সাথে বন্দীশালা হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। ইমারতের দক্ষিণাংশে দুই দিকে (পূর্ব ও পশ্চিম) অষ্টভুজাকৃতি বুরুজের ন্যায় দুটি বুরুজ (bastion) বিদ্যমান। পশ্চিম দিকের বুরুজটির ভিতরে স্বল্প পরিসরের একটি পেঁচানো সিঁড়ি রয়েছে যা দিয়ে ইমারতটির ছাদে যাওয়া যায়। পূর্বাংশের বুরুজেও এ ধরনের সিঁড়ি ছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে)। সমগ্র ভবনটি লোহার তীর-বর্গার সমন্বয়ে নির্মিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত। ইমারতটির প্রতিটি কক্ষে অভ্যন্তর ও বহির্দেয়াল গাত্র পলেস্তারায় আচ্ছাদিত। কেবল দ্বিতলে অবস্থিত সভাকক্ষের চারদিকের দেয়ালে উপরিভাগে পেঁচানো লতাপাতা সংবলিত একটি টানা পাড় নকশা এবং তার উপর চিরুনির দাঁতের ন্যায় নকশা বিশিষ্ট আরেকটি পাড় নকশা বিদ্যমান। এ ভবনের উত্তর-পূর্ব কোণায় একতলা বিশিষ্ট আরেকটি ভবন সংযোজিত রয়েছে যা বর্তমানে ভগ্নদশাগ্রস্ত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদ্যমান। (বিস্তারিত প্রকৃতি ও আবাসন অধ্যায়)