ফিরে যেতে চান

রাজশাহী শহরে রেশম ও নীল ব্যবসার সুবাদে অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইউরোপীয় ডাচ, ফরাসি ও ইংলিশ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির আগমন ঘটে এবং তারা রাজশাহী শহর ও তার আশেপাশে কুঠি নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে থাকে। এরপর ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে (১৮২৫) রাজশাহী জেলার সদর দপ্তর নাটোর থেকে রামপুর-বোয়ালিয়া তথা রাজশাহী শহরে স্থানান্তরিত হলে এখানে বিভিন্ন অফিস-আদালত নির্মাণের সাথে সাথে এ জেলার জমিদারগণও এসে নিজেদের কুঠি নির্মাণ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় স্কুল-কলেজ, গ্রন্থাগার, জাদুঘর, হাসপাতাল ইত্যাদি নির্মিত হওয়ায় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ হতে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের আদলে অনেক ইমারত গড়ে ওঠে। দেশ বিভাগের সময় (১৯৪৭) ও পরে এখানকার অধিকাংশ হিন্দু জমিদার ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের পরিবারবর্গ ভারতের কলকাতায় অভিবাসিত হওয়ায় সংস্কারের অভাবে এ সব ইমারতের অনেকাংশই বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। তাদের নির্মিত বাসগৃহে পাকিস্তান আমলে স্থাপিত হয় অনেক স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সরকারি অফিস। শহরের সম্প্রসারণ, স্থান সংকুলানের অভাব ও আধুনিক স্থাপত্যের আগ্রাসনে বর্তমানে সেগুলোও ভেঙ্গে ফেলে নতুন রীতিতে নির্মিত হচ্ছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। যেগুলো ইমারত এখনো কোনরকমে টিকে রয়েছে সেগুলোও অচিরেই হয়তো ধ্বংস করে সেখানে নির্মিত হবে নতুন নতুন ইমারত। রাজশাহী মহানগরীর মোটামুটিভাবে সংরক্ষিত পুরাতন লোকায়ত ইমারতসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা হলো।