ফিরে যেতে চান

গির্জা / সিটি চার্চ, রাজশাহী

সিটি চার্চ (দক্ষিণ দিক থেকে)

শ্রীরামপুরে রাজশাহী খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালের পশ্চিম পাশে এ গির্জাটি অবস্থিত। রাজশাহীতে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার আরম্ভ হয় ১৮৬২ সালের দিকে। প্রথম উদ্যোক্তা ছিলেন প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানরা। যাঁরা ইংলিশ প্রেসবিটিরিয়ান চার্চভুক্ত মিশনারী ছিলেন। প্রথমে যিনি এখানে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার করতে আসেন তিনি ছিলেন রেভারেন্ড বিহারী লাল সিং। তবে উত্তর-দক্ষিণে আয়তাকারে নির্মিত এ গির্জাটি প্রথম স্থাপন করেন এক নীলকর সাহেব। তাঁর নিজের প্রার্থনার জন্য। পরে নীলকর সাহেব তাঁর স্থাপিত গির্জাটি প্রেসবিটিরিয়ান মিশনারীদের দান করেন। প্রেসবিটিরিয়ান মন্ডলীর পক্ষ থেকে রেভারেন্ড বিহারিলাল সিং ১৮৬২ সনে উক্ত গির্জাটি ভালভাবে নির্মাণ করেন। ১৯০৯ সালে গির্জাটির ছাদ সংস্কার করা হয়। বর্তমানে এটি চার্চ অব বাংলাদেশের (পূর্বের প্রেসবিটিরিয়ান এর পরিবর্তিত নাম) অধীনস্ত। উত্তর-দক্ষিণে আয়তাকারে নির্মিত এ সুউচ্চ গির্জাটি মূলত দুটি কক্ষে বিভক্ত। প্রথমটি একটি বিশাল হলঘর বা প্রার্থনাগৃহ এবং দ্বিতীয়টি প্রার্থনা গৃহের সাথে সংযুক্ত ক্ষুদ্র পরিসরের ভেষ্ট্রি (vestry) রুম বা পোশাকঘর (পুরোহিতের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ)। পরবর্তীতে প্রার্থনা গৃহের সম্মুখস্থ বহির্ভাগ ২-৩৫মি. বর্ধিত করে গির্জাটির চারধাপ বিশিষ্ট সিঁড়িপথ সংযোজিত হয়েছে। যার উপরিভাগ দোচালা ছাদে আচ্ছাদিত। সামগ্রিকভাবে সম্পূর্ণ গির্জাটি একটি উঁচু বেদী বা মঞ্চের উপর নির্মিত। বহির্ভাগে গির্জাটির পরিমাপ উত্তর-দক্ষিণে ২১.২০মি. এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৯.০মি.। প্রার্থনা গৃহের অভ্যন্তরভাগের আয়তন ১৫.২৫X৭.৪৪মি. এবং পুরোহিতের পোশাকঘরের আয়তন ৩.৮০X৭.৪৪মি.। প্রার্থনা গৃহের সম্মুখে একটি প্রবেশপথ (দক্ষিণে প্রধান প্রবেশপথ), পূর্ব ও পশ্চিম দেয়ালে চারটি করে জানালা এবং উত্তর প্রান্তে প্রার্থনা পরিচালনার জন্য একটি উঁচু বেদী বা মঞ্চ নির্মিত রয়েছে। অন্যদিকে পোশাকঘর বা পুরোহিত কক্ষের পূর্ব দেয়ালে একটি ও প্রার্থনা গৃহের সাথে দুটি প্রবেশপথ (পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে) এবং উত্তর দেয়ালে দুটি ও পশ্চিম দেয়ালে একটি করে জানালা বিদ্যমান। প্রতিটি প্রবেশপথ ও জানালাসমূহ উল্লম্বাকারে নির্মিত এবং কৌণিক খিলানপটহ (tympanum) সংবলিত। গির্জার উপরিভাগ লোহার তীর-বর্গায় নির্মিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত। জানালাসমূহের উপরে সরল সানশেড পরিলক্ষিত হয়। গির্জাটির ছাদপ্রান্ত স্বল্পোচ্চ প্যারাপেট বেষ্টিত এবং ছাদের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত লোহার ক্রুস সংবলিত দুটি ত্রিকোণা কাঠামো বিদ্যমান। গির্জাটির অভ্যন্তর দেয়ালগাত্রে হলুদ এবং বহির্দেয়ালগাত্রে লাল রঙের আচ্ছাদন ছাড়া আর কোন অলংকরণ পরিলক্ষিত হয় না। তবে প্রার্থনা গৃহের পশ্চিম দেয়ালে স্থাপিত একটি শ্বেত শিলালিপিতে গির্জাটির নির্মাতা, নির্মাণ সাল এবং পোশাকঘরের পূর্ব দিকের প্রবেশপথের মেঝেতে স্থাপিত একটি শিলালিপিতে এর সংস্কার সাল ১৯০৯ উল্লেখ রয়েছে। গির্জাটি নির্মাণে উপকরণ ইট, চুন-সুরকি, লোহা ও কাঠ ব্যবহৃত হয়েছে।