ফিরে যেতে চান

রেনেল কৃত (১৭৬৪-৭৬) বাঙলার ভূমি ও নদনদী নক্শা

সেন রাজবংশের পতনের পরের কাল ছিল মধ্যযুগের অন্তুর্ভুক্ত। এ যুগেই সূচনা হয় বাংলায় মুসলিম শাসন। লক্ষণ সেনের রাজত্বের শেষাংশে রাজ্যের মধ্যে বিশৃংখলা দেখা দেয়। এ সময়ে (১২০৩/১২০৪ খ্রি.) ইখতিয়ার উদ্দিন বিন বখতিয়ার খলজি অতর্কিত হামলা চালিয়ে লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয় দখল করেন এবং ১২০৪ খ্রি. থেকে ১২০৬ খ্রি. এর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি গৌড় বরেন্দ্রে বিস্তৃত অঞ্চল জয় করেন।২ নদীয়া বিজয়ের পর লক্ষণাবতীর (গৌড়) সংস্কার করে রাজধানী স্থাপন করে নাম দেন লখনৌতি।১ তিনি প্রথমে লখনৌতি এবং পরে খুব সম্ভবতঃ দেবীকোটে দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করেন। রাঢ় ও মিথিলার কিছু অংশের রাজধানী ছিল লখনৌতি। বরেন্দ্র ভূমির অংশ হিসেবে রাজশাহী ভূমি ভাগের বেশি অংশ ছিল দেবীকোটের অন্তর্ভুক্ত। দেবীকোট বর্তমান পশ্চিম দিনাজপুর (ভারত)।১ দেবীকোট থেকে তিনি তিব্বত অভিযানে অগ্রসর হন। বখতিয়ার খলজির শাসনামলে বেশ সংস্কার লক্ষ্য করা যায়। তিনি রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেন এবং প্রত্যেক ভাগে একজন শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। এ প্রশাসনিক এলাকাকে ইকতা এবং ইকতার শাসনকর্তাকে মুকতা বলা হতো। আলী মর্দান খলজি নাবকোটির (দেবীকোট) শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। তাঁর আমলে মুসলিম শাসন ব্যবস্থা অনুযায়ী রাজশাহী জেলায় জায়গীর প্রথার প্রবর্তন করা হয়। প্রতিষ্ঠিত রাজ্যে তিনি মসজিদ, খানকাহ্ ও মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ১২২৭ খ্রি. দিল্লীর সুলতান ইলতুত মিসের পুত্র যুবরাজ নাসির উদ্দিন কর্তৃক সুলতান গিয়াস উদ্দীন ইওজ খলজি পরাজিত ও নিহত হয়ে খলজি শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে।২
বিন বখতিয়ার খলজী মেচ জাতির একজন সর্দারকে ইসলাম ধর্মে দিক্ষীত করেন। সর্দারের নাম হয় আলী এবং পরে গৌড়ের অধিপতি হন। সে সময় লখনৌতি বা গৌড় ও হিমালয়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলে মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভুত মেচ, কোচ এবং থারু নামে তিনটি জাতি বাস করতো। এদের মধ্য থেকেই লোকে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তাই দেশের উত্তরাঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে মঙ্গোলীয় ধারার বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।৪ 
অনেকে মনে করেন, বিন বখতিরয়ার খলজী নদীয়া নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে অবস্থিত নওদা দখল করেছিল, যা লখনৌতি থেকে বেশি দূরে নয়।৪ 
১৩৩৮ খ্রি. পর্যন্ত বাংলা দিল্লীর শাসনাধীনে ছিল।২ তবে দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতার সুযোগে অনেক শাসকই দিল্লীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেদেরকে স্বাধীন ও সার্বভৌম শাসক বলে ঘোসণা করেন। ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দের পর  থেকে বাংলায় স্থাপিত হয় একটি পৃথক সালতানাত। নাম সালতানাত-ই-বঙ্গালহ। এ সময় গড়ে উঠতে থাকে বাংলা ভাষা ও একটা বৈশিষ্ট্যময় মুসলিম স্থাপত্য রীতি।৪ ১৩৪২ খ্রি. সুলতান আলাউদ্দীন আলী শাহকে হত্যা করে হাজী ইলিয়াস সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস উপাধি ধারণ করে উত্তর বাংলায় কর্তৃত্ব স্থাপন করেন। তিনি লাখনৌতিতে ক্ষমতা দখল করে ফিরুজাবাদে (ভারত) রাজধানী স্থানান্তরিত করেন।২ এ রাজবংশের শাসনকাল ১৪৮৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ধরা হলেও মাঝ পথে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ইলিয়াস শাহী রাজ দরবারের জনৈক আমীর রাজা গণেশ ১৪১৫ খ্রি. ক্ষমতা দখল করেন। গণেশের পুত্র যদু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জালাল উদ্দীন মাহমুদ (১৪১৮-১৪৩২ খ্রি.) নাম ধারণ করে সিংহাসনে বসেন। এরপর তার পুত্র সুলতান শামসুদ্দীন আহমদ শাহ (১৪৩১-১৪৩৬ খ্রি.) সিংহাসনে আরোহণ করেন। সাদী খান ও নাসির খান নামক দুইজন ক্রীতদাস তাঁকে হত্যা করে। এ ক্রীতদাসদের আধিপত্য খর্ব করার জন্য অমাত্য ও সেনাধ্যক্ষরা নাসির উদ্দিন আবুল মুজাফ্ফর মাহমুদ শাহ (১৪৩৬-১৪৫৯) নামক আমীরকে সিংহাসনে বসান। তিনি ও তাঁর বংশধরেরা পরবর্তী ৫১ বছর রাজশাহী জেলাসহ বাংলাদেশ শাসন করেন। ইতিহাসের বর্ণনানুসারে ইলিয়াস শাহী যুগ বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। বিভিন্ন কর্মের কারণে শাহী বংশীয় সুলতানগণ প্রদেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেন। উচ্চ রাজপদে হিন্দুদের নিয়োগ, বাংলাভাষা ও সাহিত্যের সমাদর, দেশীয় পণ্ডিত ও কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা ইলিয়াস শাহী শাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। সামরিক বিজয়কে সাংস্কৃতিক বিজয় দ্বারা সুসম্পন্ন করা এ বংশের বিশেষ কৃতিত্ব। ফলে সামাজিক জীবনে এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছিল।২
[জালাল উদ্দীন মাহমুদের সিংহাসনে আরোহণের কাল (১৪১৮-১৪৩২) হিসেবে তাঁর পুত্র শামসুদ্দীন আহমেদ শাহ্র সিংহাসন আরোহণকাল ১৪৩২-১৪৩৬ হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ জেলা গেজেটিয়ার বৃহত্তর রাজশাহী -১৯৯১ তে ১৪৩১-১৪৩৬ আছে]
১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ ছিল হাবশী ক্রীতদাসদের শাসনামল। রকমউদ্দিন বারবক শাহ প্রায় আট হাজার হাবশী ক্রীতদাস আমদানি করে প্রায় সকলকে উচ্চ রাজপদে নিয়োগ করেন। পরবর্তীতে তারাই ক্ষমতাশালী হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তাঁরা মাহমুদ শাহী বংশের শেষ সুলতান ফতেহ শাহকে (১৪৮১-১৪৮৭ খ্রি.) হত্যা করে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁদের শাসনের মোট ছয় বছরে মোট চার জন সুলতান সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং প্রত্যেকেই নিহত হন। তাঁদের নাতিদীর্ঘ শাসনকালে যড়যন্ত্র, বিদ্রোহ, হত্যা বাংলাদেশকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল।২ 
সুলতান আলাউদ্দীন হুসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রি.) আগমনের মাধ্যমে বাংলাদেশের হাবশী শাসনের অবসান ঘটে। তাঁর শাসনামলে এ দেশের সীমানা চতুর্দিকে বৃদ্ধি পায়। তিনি অনেক হিন্দুকে উচ্চ রাজপদে নিযুক্ত করেছিরেন। অন্য ধর্মের প্রতি তাঁর উদার মনোভাব ছিল। তাঁর ও আমীরদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষা সমৃদ্ধি লাভ করে। তাঁর বংশের মোট চার জন সুলতান এদেশ শাসন করেন। প্রাক মোগল আমলের এ যুগ ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে খ্যাত।২
হুসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান মাহমুদ শাহকে ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ৫ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে শের খান সুর গৌড় অধিকার করে আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।২ ১৫৩৮-১৫৭৬ খ্রি. পর্যন্ত বাংলা শাসনের ইতিহাসে আফগান শাসনামল বলে পরিচিত। বাংলায় আফগান শাসনের উত্থানের ফলে দিল্লীর মোগল সম্রাট আতংকিত হন এবং আফগান-মোগলদের মধ্যে পুনরায় দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ দ্বন্দ্বে আফগানরা বিজয়ী হয়ে ভারতবর্ষে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেন। শের শাহর (১৫৩৮-১৫৪৫ খ্রি.) শাসনামলে কিছু প্রশাসনিক সংস্কার হয়। তিনি বাংলাদেশকে বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকায় বিভক্ত করে প্রত্যেক এলাকায় সমমর্যাদাপূর্ণ প্রশাসক নিযুক্ত করেন। শেরশাহর রাজত্বের মধ্যভাগ (১৫৪২-১৫৪৩ খ্রি.) বাংলাদেশে বারবক শাহ নামক একজন সুলতান রাজত্ব করেন। তিনি বিদ্রোহী হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং মুদ্রা চালু করেন। শের শাহ্র পুত্র ইসলাম শাহ্র রাজত্বকালে (১৫৪৫-১৫৫০ খ্রি.) রাজশাহী জেলাসহ বাংলাদেশ দিল্লীর শাসনাধীন ছিল। তিনি তাঁর পিতার প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন আনেন। তিনি শামসউদ্দীন সুরকে বাংলার প্রশাসক নিয়োগ করেন। ১৫৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ অক্টোবর দিল্লীর সম্রাট ইসলাম শাহর মৃত্যুর পর শামসউদ্দীন শাহ্ গাজী (১৫৫৩-১৫৫৫ খ্রি.) উপাধি ধারণ করেন। ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে তিনি সুর সেনাপতি হিমু কর্তৃক কলকী নামক স্থানে পরাজিত ও নিহত হন।২
শের শাহ্র সেনাধ্যক্ষ তাজ খান ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় কররানী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৫৬৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ভই সোলাইমান কররানী (১৫৬৫-১৫৭২খ্রি.) বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। এ বংশের সুলতানগণ রাজশাহী জেলাসহ সমগ্র বাংলাদেশ শাসন করেন। ১৫৭২ খ্রি. দাউদ কররানী বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তাঁর অপরিণামদর্শিতার জন্য দিল্লী-বাংলার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।২
১৫৭২-১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তীকালে মোগল সেনাধ্যক্ষ মুনিম খান ও দাউদ কররানীর মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং দাউদ কররানী পররাজিত হয়। যুদ্ধে সাফল্যের জন্য মুনিম খান ১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মোগল সম্রাট আকবরের নিকট থেকে খান-ই-খানান উপাধি অর্জন করেন। ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে দাউদ মোগলদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন।২
১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দের অব্যবহিত পরেও মোগল শক্তি সুবে বাংলায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেনি। স্থানীয় আফগান সরদার ও হিন্দু জমিদারেরা সুযোগ পেলেই মোগল সম্রাটের  বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতো। ১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সুবে বাংলায় ২৯ জন মোগল সুবেদারের আগমন ঘটে। এদের মধ্যে খান-ইন-খানান মুনিম খান (১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দ), মানসিংহ (১৫৯৬-১৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ), ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দ), ইব্রাহিম খান ফতেহ-ই-জন্ট (১৬১৭-১৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ), শাহজাদা মুহম্মদ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দ), শায়েস্তা খান (১৬৬৩-১৬৭৮, ১৬৭৯-১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দ) ও মুর্শিদ কুলীখান (১৭০৩-১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দ) উল্লেখযোগ্য। মুর্শিদ কুলী খান দিল্লীর সম্রাট কর্তৃক সুবে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হলেও সম্রাটের দুর্বলতার কারণে প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন নরপতির ন্যায় এ দেশের শাসন কার্য পরিচালনা করেন। তাঁর চার জন উত্তরাধীকারী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রিষ্টাব্দ), সরফরাজ খান (১৭৩৯-১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দ), আলীবর্দী খান (১৭৪০-১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দ) এবং সিরাজউদ্দৌলা (১৭৫৬-১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ)। ঐতিহাসিকদের মতে মোগল আমলের প্রায় দুইশ বছর ছিল শান্তি ও প্রগতির যুগ। রাজশাহী মহানগরীর উত্থানের সূচনা হয়েছিল মূলত এ যুগেই।
১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট পরাজয় ভারতবর্ষে প্রায় দুইশত বছরের ইংরেজ শাসনের শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে এ যুদ্ধের মাধ্যমেই ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুবে বাংলার শাসন ক্ষমতা অধিকার করে। ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ১২ আগষ্ট মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ্ আলমের নিকট থেকে বার্ষিক ২৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুবে বাংলার দেওয়ানী লাভ করে। এর ফলে রাজশাহী জেলা কোম্পানির অধীনস্থ হয়।২ ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ ১ নভেম্বর ইংল্যান্ডে রানি ভিক্টোরিয়া (১৮৫৭-১৯০১ খ্রিষ্টাব্দ) এক রাজকীয় ঘোষণার মাধ্যমে এ জেলাসহ ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতাকে স্বহস্তে গ্রহণ করেন।২ একশ নব্বই বছরের ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ আগস্ট ও ১৫ আগস্ট পাকিস্তান ও ভারতের স্বাধীনতার মধ্যে দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। অতপর পাক শাসক গোষ্ঠীর বৈরী আচরণ, শোষণ, নিপীড়নের কারণে গণআন্দোলন এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় ও ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে।