ফিরে যেতে চান

সমতলছাদ বিশিষ্ট গণকপাড়া ধর্মসভা মন্দির কমপ্লেক্স (বিলুপ্ত)

গণকপাড়া ধর্মসভা মন্দিরের বিলুপ্ত ভবন (পূর্ব দিক হতে) 

রাজশাহী শহরের গণকপাড়ায় আনুমানিক ৫০ শতাংশ ভূমির উপর এ মন্দির কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। মূলত সম্মুখস্থ একটি উন্মুক্ত অঙ্গনকে কেন্দ্র করে ধর্মসভা মন্দির, ধর্মসভা দালান ও প্রেস বা ছাপাখানা সমন্বয়ে এ কমপ্লেক্সটি নির্মিত। অঙ্গনের পশ্চিমাংশে মন্দির, উত্তরাংশে ধর্মসভা দালান এবং পূর্বাংশে তমোঘ্ন যন্ত্রালয় নামে ছাপাখানাটি অবস্থিত। এ কমপ্লেক্সে প্রবেশের জন্য একটি সুউচ্চ তোরণপথ বিদ্যমান। বর্তমানে কমপ্লেক্সটি ভেঙ্গে নতুনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে বিলুপ্ত পুরনো কমপ্লেক্সর বর্ণনা করা হলো। নতুন কমপ্লেক্সের তথ্য ধর্ম প্রতিষ্ঠান অধ্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।
(ক) ধর্মসভা মন্দির:  পূর্বমুখী ও আয়তাকরে নির্মিত এ মন্দিরটি একটি .৬৪ মি. উঁচু মঞ্চের উপর স্থাপিত ছিল। মন্দিরটি একটি কক্ষ ও সম্মুখস্থ একটি বারান্দায় বিভক্ত। কক্ষের আয়তন ৬.১৭X৩.১০ মি. এবং বারান্দার আয়তন ৬.১৭X১.৩০ মি.। কক্ষের সম্মুখে একটি প্রবেশ পথ এবং প্রবেশ পথের উভয় পাশে একটি করে এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে জানালা ছিল। কক্ষ সম্মুখস্থ বারান্দাটি পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে খিলানপথে উন্মুক্ত। মন্দির কক্ষে একটি বেদীর উপর দেবী দুর্গার বিগ্রহ স্থাপিত ছিল। সমগ্র মন্দিরটির উপরিভাগ তীর-বর্গায় নির্মিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত। মন্দিরের দেয়ালগাত্রে পলেস্তারার আস্তরণ ব্যতীত আর কোন অলংকরণ পরিলক্ষিত হতো না। তবে কার্নিশের উপরিস্থিত ছাদে একটি ত্রিকোণা কাঠামো (Pediment) বিদ্যমান ছিল। 

(খ) ধর্মসভা দালান:  

ধর্মসভার বিলুপ্ত দালান

দক্ষিণমুখী এ ইমারতটি সম্মুখস্থ পূর্ব-পশ্চিমে আয়তাকার একটি প্রশস্ত বারান্দা ও বিভিন্ন আয়তনের পাঁচটি কক্ষে বিভক্ত ছিল। বারান্দার পূর্বাংশে পর পর দুটি কক্ষ, পশ্চিমাংশে একটি কক্ষ এবং সম্মুখে অর্থাৎ উত্তরাংশে একটি বিশাল হলঘর বা সভাকক্ষ ও সভাকক্ষের পশ্চিমে একটি কক্ষ বিদ্যমান ছিল। সভাকক্ষের বারান্দামুখী তিনটি প্রবেশ পথ ও উত্তর দেয়ালে একটি প্রবেশপথ এবং চারটি জানালা ছিল। অন্যদিকে সভাকক্ষের পশ্চিমের কক্ষটির পশ্চিম দেয়ালে বহির্মুখী একটি ও বারান্দার পশ্চিমাংশের কক্ষটির সাথে একটি করে প্রবেশপথ এবং বারান্দার পূর্বাংশে অবস্থিত পরস্পর সংলগ্ন কক্ষ দুটির প্রথমটির বারান্দামুখী একটি ও উভয় কক্ষের মধ্যবর্তী দেয়ালে একটি প্রবেশপথ বিদ্যমান ছিল। বারান্দার পশ্চিমাংশে কক্ষটির বারান্দামুখী একটি প্রবেশপথ এবং দক্ষিণ দেয়ালে একটি জানালা ছিল। প্রবেশপথ ও জানালাসমূহ ছিল উল্লম্বাকার। অপরদিকে ইমারতটির সম্মুখস্থ বারান্দার সম্মুখভাগে কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল আকারের সুপ্রশস্ত দরজা এবং এর দুই পাশে একটি করে উন্মুক্ত খিলানপথ বিদ্যমান ছিল। ইমারতটির উপরিভাগ কিছু লোহা ও কিছু শাল কাঠের তীর-বর্গায় নির্মিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত ছিল।

(গ) ছাপাখানা দালান: 

ধর্মসভার বিলুপ্ত ছাপাখানা দালান 

অঙ্গনের পূর্ব দিকে উত্তর-দক্ষিণে আয়তাকারে নির্মিত এ ইমারতটি মুলত চারটি কক্ষে বিভক্ত ছিল। স্বল্প পরিসরের উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত পরস্পর সংলগ্ন দুটি লম্বা কক্ষ এবং এ কক্ষ দুটির দক্ষিণে সংযুক্ত অপর দুটি ক্ষুদ্র কক্ষ ছিল। লম্বাকৃতির সুবিশাল কক্ষ দুটির প্রথমটির অঙ্গনমুখী দুই প্রান্তে দুটি দরজা ও মধ্যস্থলে দুটি জানালা এবং উভয় কক্ষের মধ্যবর্তী দেয়ালে তিনটি দরজা ও উত্তর প্রান্তে একটি জানালা বিদ্যমান ছিল। দ্বিতীয় কক্ষটি ধ্বংস হয়ে পড়েছিল। তবে এ কক্ষটির পূর্ব দেয়ালে দুই প্রান্তে দুটি জানালা ছিল বলে জানা যায়। অন্যদিকে লম্বা কক্ষ দুটির দক্ষিণ প্রান্তে সংযুক্ত দুটি কক্ষের পশ্চিমেরটির অঙ্গনমুখী একটি ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি জানালা এবং পাশের কক্ষের সাথে একটি করে দরজা বিদ্যমান ছিল। এ কক্ষ দুটি দোকানঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সমগ্র ইমারতটি কাঠের তীর-বর্গা সংবলিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত ছিল। প্রেসটির নাম ‘তমোঘ্ন যন্ত্রালয় উচ্চ শ্রেণীর ছাপাখানা’ হলেও ভাঙ্গার পূর্বে কোন ছাপাখানা বলে পরিলক্ষিত হতো না। বরং ইমারতটির অবস্থা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।
ধর্মসভা দালানের ছাদের উপর স্থাপিত একটি ত্রিকোণা কাঠামোতে এর নির্মাণ সন উল্লিখিত ছিল ১২৬৭ বঙ্গাব্দ (১৮৬০ খ্রি.)।