ফিরে যেতে চান

সমতলছাদ বিশিষ্ট মন্দির / হনুমানজিউ আখড়া

এ মন্দিরটি রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারের জিরো পয়েন্টের পূর্বে প্রীতম রেস্তোরাঁর পশ্চাতে অবস্থিত। সমগ্র মন্দিরটি আয়তাকার ভূমি পরিকল্পনায় রচিত এবং .৭০মি. উঁচু একটি মঞ্চের উপর নির্মিত। দক্ষিণমুখী এ মন্দিরটি মূলত তিনটি কক্ষ এবং সম্মুখস্থ একটি বারান্দা সমন্বয়ে গঠিত। তিনটি কক্ষের মধ্যেরটি মূল গর্ভগৃহ এবং গর্ভগৃহের পশ্চিম পাশের কক্ষটি স্টোর রুম ও পূর্ব পাশের কক্ষটি ভোগঘর হিসেবে ব্যবহৃত।
গর্ভগৃহের আয়তন ৬.৪০X৩.৬৬ মি. এবং অন্য দুটি বর্গাকার কক্ষের আয়তন ৩.৬৬X২.৭৯ মি.। গর্ভগৃহের সম্মুখে অর্থাৎ দক্ষিণ দেয়ালে খিলানপট সংবলিত তিনটি প্রবেশ পথ ও উত্তর দেয়ালে দুটি জানালা এবং পাশের দুটি কক্ষের সম্মুখে একটি করে খিলানপট সংবলিত প্রবেশ পথ বিদ্যমান। সম্মুখস্থ বারান্দার আয়তন ১২.৫০X৩.৬১ মি.। বারান্দাটি চারটি যুগল স্তম্ভের উপর স্থাপিত পাঁচটি খিলানে উন্মুক্ত। কেন্দ্রীয় খিলান পথের নিচে পাঁচ ধাপ বিশিষ্ট একটি সোপান রয়েছে। মন্দিরটির গর্ভগৃহে দুটি ও বারান্দায় দুটি কুলঙ্গি বিদ্যমান। প্রবেশ পথসমূহ একটি করে আয়তাকার কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত। সমগ্র মন্দিরটি তীর-বর্গার সমন্বয়ে নির্মিত সমতলছাদে আচ্ছাদিত। সম্মুখভাগের ছাদপ্রান্তে মুকুটাকৃতির একটি সুদৃশ্য ত্রিকোণাকার কাঠামো (পেডিমেন্ট) ছিল; যা বর্তমানে ভেঙে পড়েছে। মন্দিরটির দেয়ালগাত্র সাদাসিধে পলেস্তারার আচ্ছাদিত। তবে কোথাও কোথাও কিছু প্যানেল নকশা, ফুল ও লতাপাতা, সর্পফণা, রজ্জু বন্ধনী ইত্যাদি নকশাও পরিলক্ষিত হয়। মন্দিরটি ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত বলে অনুমিত হয়। এ মন্দিরটির সংস্কার ও পুনর্নিমাণের কাজ চলছে। মূলগর্ভগৃহে রাধা-কৃষ্ণ ও লক্ষ্মী-নারায়ণের বিগ্রহ এবং মন্দিরটির সম্মুখে পূর্বপাশের একটি টিনশেডের কক্ষে হুনুমানজী, রাম-সীতা, লক্ষণ ও মহাদেবের বিগ্রহ পরিলক্ষিত হয়।

সংস্কাররত হনুমানজিউ আখড়া