ফিরে যেতে চান

শিরাল গম্বুজ বিশিষ্ট সপুরা শিবমন্দির বা সপুরা ছঘাটি মঠ (ঘ)

সপুরা ছঘাটি মঠ (ঘ), (দক্ষিণ দিক হতে)

পূর্বে আলোচিত দুলাল সা নির্মিত সপুরার ছয়ঘাটি পুকুরের দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে ও সপুরা রাস্তার ধারে পূর্ব পাশে এ মঠটি অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম (রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম) এর উত্তর পাশের মার্কেটের বিপরীত পাশের রাজশাহী-বিমান বন্দর সড়ক থেকে বিভক্ত সপুরা রাস্তা দিয়ে সহজেই যাওয়া যায়। অষ্টভুজাকারে নির্মিত দ্বিতল বিশিষ্ট এ মন্দিরটি একটি উঁচু মঞ্চের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং একটি অষ্টভুজাকৃতির বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত। মন্দিরটির নির্মাণকাল সম্পর্কিত কোন প্রামাণ্য দলিল নেই। তবে নির্মাণশৈলী দৃষ্টে এটিও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নির্মিত বলে বিবেচিত হয়। এর নির্মাণ ও এ মঠকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান সম্পর্কে চৌচালা সপুরা মন্দির বা সপুরা ছঘাটি মঠ (ক) এ আলোচনা হয়েছে। 
বর্তমানে এর বেষ্টনী প্রাচীরের একাংশ ব্যতীত অন্যান্য অংশগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত। বেষ্টনী প্রাচীরের প্রতি বাহুর পরিমাপ ৩.৭১ মি.। বেষ্টনী প্রাচীর হতে ১.৬৩ মি. দূরে মন্দিরটি অবস্থিত। ভূমি হতে ১.৮৩মি. উঁচু মঞ্চের উপর মন্দিরটি নির্মিত। মন্দিরের অষ্টভুজা বাহুর প্রতিটির পরিমাপ ১.৯৩ মি. এবং কক্ষের আয়তন ৩.১৫X৩.১৫ মি.। গর্ভগৃহের ভিতরে উত্তর দিকে মন্দিরটির দ্বিতলে ওঠার সিঁড়িপথ ছিল যা বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। মন্দিরটির উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাহুতে একটি করে কুলঙ্গি এবং প্রতি দিকে একটি করে চারটি খিলানযুক্ত প্রবেশ পথ বিদ্যমান। মন্দিরটির নিচতলা কাঠের তীর-বর্গার সমন্বয়ে নির্মিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত এবং তদুপরি দ্বিতল অংশ নির্মিত। দ্বিতল অংশে মন্দিরটির প্রতিটি বাহু খিলানপথে উন্মুক্ত এবং উপরিভাগ শিরালো গম্বুজে আচ্ছাদিত। খিলানপথের খিলানমুখ খাঁজ নকশা এবং গম্বুজশীর্ষ পিতল নির্মিত কলস চূড়ায় শোভিত। মন্দিরটিতে তেমন কোন অলংকরণ পরিলক্ষিত হয় না। এটির ভিতর এবং বহির্দেয়ালগাত্র পলেস্তারায় আচ্ছাদিত এবং প্রবেশ পথসমূহ আয়তাকার কাঠামো বেষ্টিত। কেবল কার্নিশের নিম্নভাগে পেঁচানো ফুল ও লতাপাতা উৎকীর্ণ একটি টানা পাড় নকশা লক্ষণীয়। বর্তমানে মন্দিরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদ্যমান।