ফিরে যেতে চান

ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত তারান বাবু পুকুরের মঠ

মহানগরীর রামচন্দ্রপুর মহল্লার পূর্ব প্রান্তে তারান বাবুর পুকুরের পশ্চিম পাশে এ মঠের অবস্থান। ৬ বিঘা আয়তনের পুকুরটি উত্তর-দক্ষিণ বরাবর লম্বা। তারান বাবু ছিলেন জমিদার। গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী শহর রাজশাহীর আদিপর্ব গ্রন্থে পুকুর ও মন্দিরের বর্ণনায় তাঁর পুরো নাম লেখেন তরনী মোহন মৈত্র। তবে স্থানীয়ভাবে তিনি তারান বাবু, তারিনী বাবু ও তারন বাবু নামে পরিচিত। আনুমানিক দেড়শ বছর পূর্বে তারান বাবুর পিতা বা পিতামহ একই সময়ে পুকুর খনন ও মঠ নির্মাণ করেছিলেন। তরনী মোহন মৈত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন শেষের দিকে রাজশাহী ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। তিনি তাঁর সম্পত্তি দেখভালের জন্য তাঁর বন্ধু ডাক্তার আব্দুল আজিজকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন বলে জানা যায়। ১৯৪৭ সালের অনেক নিরাশ্রয় মানুষ এ পুকুরপাড়ে বাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে রাণীনগর মহল্লার মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন ওরফে গেদু খলিফা তরনী মোহন মৈত্রর নিকট থেকে দলিল মূলে পুকুরসহ ভিটাবাড়ি ও আশেপাশের কিছু জায়গা ক্রয় করেন এবং পুকুর ও পশ্চিম-দক্ষিণাংশের কিছু জায়গা দখলে নেন। গেদু মিয়ার পর তাঁর উত্তরাধিকারীগণ এ সম্পত্তির মালিক হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দেখা যায় তারান বাবুর পুকুরটি বিদ্যমান। তবে পুরনো বাড়ির চিহ্ন নেই। মঠ সংলগ্ন ‘সৌখিন ভিলা’ নামের একতলা বাড়িতে বাস করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মো. মনসুর রহমান ও তাঁর পরিবার। তিনি হোমিও চিকিৎসাও করে থাকেন। গেদু খলিফা তাঁর নানা শ্বশুর। তিনি জানান, গেদু খলিফার উত্তরসূরীরা সবাই তাঁদের অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। একমাত্র তিনিই এখানে আছেন। কয়েক বছর আগে তারান বাবুর বংশধরের কয়েকজন এখানে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন শ্বেতীবর্ণের মহিলা ছিলেন। তাঁরা মঠের ছবি তুলে নিয়ে যান। বর্তমানে এ মঠের ব্যক্তিগত মালিকানা নেই। এ জমিদারির প্রাচীন বাড়িটি তারান বাবুর বন্ধু ডাক্তার আজিজই ভেঙে ফেলেছিলেন।

তারানবাবুর পুকুরের পশ্চিম পাশের মঠ

এ মঠে কোন মূর্তি ছিল না। এ জমিদারের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর তাঁর ছাইভষ্ম রেখে মঠটি নির্মাণ করা হয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুকুমার রায়ের মতে, এ মঠটিতেও শিব মন্দির ছিল।