ফিরে যেতে চান

ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত শিরোইল শিব মন্দির বা শিরোইল মঠ

মঠের জন্য এ এলাকাটি নাম ধারণ করেছে শিরোইল মঠ পুকুর। মঠটি পুকুরের উত্তর পাশে অবস্থিত। শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুকুমার রায়ের মতে, ভবানী বাবু মঠটি পারিবারিক উপাসনার উদ্দেশ্যে স্থাপন করেছিলেন। তাই এটিকে ভবানী বাবুর মঠও বলা হতো। এটাও শিবমন্দির। ভবানী বাবুর পরিবারের সদস্যরা এ পুকুরে গোসলের পর এ মঠে পূজা করে গৃহে প্রবেশ করতেন। ভবানী বাবুর বাড়িতে এক সময় কীর্তন ও অন্য পূজারও আয়োজন হতো। বর্তমানে ভবানী বাবুর কোন উত্তরাধিকার এখানে বাস করেন না। সম্ভবত বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে তাঁরা ভারত গমন করেন। 

শিরোইল মঠ (দক্ষিণ দিক হতে)

অষ্টভুজাকৃতির এ মঠটি ১.২২ মি. উচ্চতা বিশিষ্ট একটি মঞ্চের উপর প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথমাংশ স্বল্প পরিসরের একটি বারান্দা এবং দ্বিতীয় অংশ মূল গর্ভগৃহ। বারান্দাটি ১.০২ মি. প্রশস্ত এবং আটটি খিলানে উন্মুক্ত। খিলানসমূহ ছয়কোণ বিশিষ্ট দুটি করে পোস্তা ও পোস্তার উভয় পাশে একটি করে আইওনিক শীর্ষ সংবলিত গোলায়িত স্তম্ভ হতে উত্থিত। মন্দিরটির গর্ভগৃহের আয়তন ৪.২৭X৪.২৭ মি. এবং এর প্রতিটি বাহুর পরিমাপ ১.৭৫ মি.। গর্ভগৃহের মধ্যস্থলে একটি বেদীর উপর তিনটি শিবলিঙ্গ স্থাপিত। গর্ভগৃহের দক্ষিণ বাহুতে একটি মাত্র প্রবেশ পথ বিদ্যমান। স্বল্প পরিসরের বারান্দাটি ঠিক প্রদক্ষিণ বারান্দা হিসেবে ব্যবহৃত না হয়ে মন্দিরটির অবকাঠামোগত সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যই করা হয়েছে বলে মনে হয়। এ বারান্দার অন্তরস্থ উপরিভাগ নলাকৃতির খিলানছাদ এবং গর্ভগৃহের উপরিভাগ গম্বুজে আবৃত হলেও বহির্ভাগে সমতল করে তদুপরি অষ্টভুজাকৃতির একটি রত্ন বা অবকাঠামো স্থাপিত রয়েছে। রত্নটির প্রতিটি বাহু দরজা সদৃশ খিলানাকৃতির বদ্ধ প্যানেলে সজ্জিত এবং উপরিভাগ নয়টি চূড়ায় আচ্ছাদিত। কেন্দ্রীয় চূড়া ব্যতীত অন্য আটটি চূড়া ক্ষুদ্রকারে নির্মিত এবং প্রতিটি চূড়ার শীর্ষভাগ কলস ও লোহার শীর্ষদণ্ডে শোভিত। মন্দিরটির অভ্যন্তরভাগ পলেস্তারায় আচ্ছাদিত হলেও বহির্ভাগ প্যানেল নকশা পদ্ধতিতে রচিত পুষ্প, লতাপাতা, ভাস্কর্যমূর্তি, বিভিন্ন পাখি, হস্তি মস্তক, হস্তীশুঁড় ইত্যাদি নকশায় অলংকৃত। গর্ভগৃহের প্রবেশপথ ব্যতীত অন্যান্য বাহুগুলোর বহির্ভাগ দরজা সদৃশ খিলানাকৃতির বদ্ধ প্যানেলে আচ্ছাদিত এবং প্যানেলসমূহের উপরিভাগ ভেনিসীয় খড়খড়ি নকশায় শোভিত। প্রবেশ পথের উপরে একটি বৃহৎ বর্গাকার ক্ষেত্র রয়েছে যা ফুল ও পেঁচানো লতাপাতা নকসায় অলংকৃত। অন্যদিকে ছয়কোণ বিশিষ্ট পোস্তার বহির্গাত্র উল্লম্বভাবে স্থাপিত দুটি প্যানেল সারিতে সজ্জিত এবং প্যানেলসমূহ খিলান নকশায় শোভিত। এছাড়া কার্নিশের নিম্নাংশে অষ্টভুজের প্রতিটি কোণার উভয় পাশ ফুল ও লতাপাতা সমৃদ্ধ দুটি উল্লম্ব প্যানেলে সজ্জিত। মন্দিরটির উপরিস্থিত অবকাঠামো বা রত্নের দরজা সদৃশ বদ্ধ প্যানেলসমূহ আয়তাকার কাঠামো বেষ্টিত এবং আয়তাকার কাঠামো ও এর উপরি অংশ পেঁচানো ফুল ও লতাপাতা সমৃদ্ধ বক্রাকার পাড় নকশায় শোভিত। এখানে অষ্টভুজের প্রতিটি কোণার উভয় পাশে একটি করে পেঁচার প্রতিকৃতি বিদ্যমান। মন্দিরের ধনুকাকৃতির কার্নিশের প্রতিকোণে ঠেস (buttress) হিসেবে হস্তি মস্তক এবং কার্নিশে সারিবদ্ধাকারে হস্তিশুঁড় স্থাপিত হয়েছে। যা এর সৌন্দর্যকে বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে। এ মন্দিরটিও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নির্মিত বলে অনুমিত হয়। মন্দিরটির সম্মুখস্থ পুকুরে (মঠ পুকুর) শান বাঁধানো একটি সুবৃহৎ ঘাট বিদ্যমান।