ফিরে যেতে চান

ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত ঘোড়ামারা শিবমন্দির

মন্দিরটি ঘোড়ামারা ডাকঘর অফিসের সন্নিকটে এফ-১২৩৮ নম্বর বাড়ির অঙ্গনে অবস্থিত। বাড়িটিতে এক মুসলিম পরিবার বসবাস করে। মন্দিরটি .৮৪ মি. উচ্চতা বিশিষ্ট একটি অষ্টকোণাকৃতির মঞ্চের উপর অষ্টভুজাকারে নির্মিত। 
বাইরের দিক থেকে মন্দিরটির প্রতিটি বাহুর পরিমাপ ২.২৪মি. এবং ভিতরের আয়তন ৩.২০x৩.২০ মি.। মন্দিরে প্রবেশের জন্য উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে একটি করে প্রবেশ পথ বিদ্যমান। তবে পশ্চিমের দরজাটি এর মূল প্রবেশ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দরজাটির সম্মুখে ২.২১x১.০২ মি. আয়তনের একটি বর্ধিত অংশ রয়েছে যার উপরিভাগ দুটি অষ্টকোণাকৃতি স্তম্ভের উপর স্থাপিত নলাকৃতি খিলানছাদে আচ্ছাদিত। কক্ষের অভ্যন্তরীণ উপরিভাগ গম্বুজাবৃত হলেও বহির্ভাগ সমতল করে তদুপরি গোলাকার কার্নিশের উপরে ছাদের চতুর্দিকে কার্নিশের কোণ বরাবর একটি করে মোট আটটি ক্ষুদ্র চূড়া এবং কেন্দ্রস্থলে একটি বৃহৎ চূড়ায় আচ্ছাদিত। বৃহৎ চূড়াটির শীর্ষবিন্দু কলস চূড়ায় শোভিত। সমগ্র মন্দিরটির অভ্যন্তর ও বহির্দেয়াল পালেস্তারায় আচ্ছাদিত। তিনটি প্রবেশপথ ব্যতীত মন্দিরটির অন্যান্য পাঁচটি বাহু দরজা সদৃশ বদ্ধ প্যানেলে সজ্জিত। প্রবেশ পথ ও বদ্ধ প্যানেলের উপরিভাগে খিলানপট বিদ্যমান যা মন্দিরটির সৌন্দর্যকে বর্ধিত করেছে। খিলানপটের উপরের কার্নিশ বিভিন্ন ধরনের ফুল ও লতাপাতা নকশায় সজ্জিত। এর উপরে মন্দিরকে ঘিরে একটি রজ্জু বন্ধনী এবং তার উপর সাদাসিধে একটি টানা পাড় নকশা বিদ্যমান। এছাড়া মন্দিরটির উপরিস্থিত নয়টি চূড়ার নিম্নাংশ সর্প ফণায় শোভিত। মন্দিরটির নির্মাণকাল সম্পর্কিত কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মন্দিরটির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণায় একটি ইন্দারা রয়েছে। এ ইন্দারার গাত্রে এর নির্মাণ ১৩৪৯ বঙ্গাব্দ লেখা রয়েছে। মন্দিরটি এ ইন্দারারও পূর্বে অর্থাৎ ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে নির্মিত বলে অনুমিত হয়। পারিবারিকভাবে নির্মিত এ মন্দিরটিতে বর্তমানে কোন পূজার্চনা হয় না।

ঘোড়মারা শিবমন্দির (উত্তর-পশ্চিম দিক হতে)