ফিরে যেতে চান

ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত হড়গ্রাম শিবমন্দির

মন্দিরটি রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার অন্তর্গত হড়গ্রাম বাজারে পদ্মকামিনী এস্টেটে অবস্থিত মন্দির কমপ্লেক্সের উন্মুক্ত অংগনের পূর্ব দিকে অবস্থিত। এ মন্দির কমপ্লেক্সে আলোচিত মন্দিরটির সাথে সমতল ছাদ বিশিষ্ট আরো দুটি মন্দির নির্মিত রয়েছে (মন্দির দুটি যথাস্থানে আলোচিত হবে)। মন্দিরগুলো পূর্বে পারিবারিকভাবে নির্মিত হলেও বর্তমানে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। 

সংস্কারের পূর্বে হড়গ্রাম শিবমন্দির (পশ্চিম দিক হতে)

আলোচ্য মন্দিরটি নির্মাণে ইট, চুন-সুরকি, লোহা, কাঠ ও প্রস্তর ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে মূল মন্দিরটি সম্পূর্ণটাই প্রস্তর দ্বারা নির্মিত। মূল মন্দিরটি একটি বৃহদাকার বর্গাকৃতি কক্ষের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এ বৃহৎ বর্গাকার কক্ষের পরিমাপ বাইরে থেকে ৮.৩৩x৮.৩৩ মি. এবং অভ্যন্তরে ৭.৮২x৭.৮২ মি.। কক্ষটিতে প্রবেশের জন্য পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে একটি করে প্রবেশপথ এবং প্রবেশপথের উভয় পাশে একটি করে জানালা বিদ্যমান। পশ্চিম দিকের দরজাটি মূল প্রবেশ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বৃহৎ কক্ষটির কেন্দ্রস্থলে ক্ষুদ্র আয়তনে প্রস্তর নির্মিত সুউচ্চ মূল শিবমন্দিরটি অবস্থিত। এটিও বর্গাকার পরিকল্পনায় নির্মিত। এর প্রতি বাহুর পরিমাপ ২.৩১মি.। মন্দিরটি চার কোণায় চারটি স্তম্ভের উপর স্থাপিত চারটি আলঙ্কারিক খিলান দ্বারা উন্মুক্ত। এর অন্তরস্থ উপরিভাগ অষ্টকোণা বিশিষ্ট শিরাল (ছাতার শিকের ন্যায়) গম্বুজে আবৃত হলেও বহির্ভাগ বৃহৎকক্ষটির ছাদের উপরে বর্ধিত করে নির্মিত এবং বর্ধিত অংশটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চূড়ার সমন্বয়ে রচিত একটি বৃহৎ শিখরে আচ্ছাদিত। অন্যদিকে বৃহৎ কক্ষটির উপরিভাগ সমতল ছাদ বিশিষ্ট। কেন্দ্রীয় চূড়ার শীর্ষভাগে ত্রিশূল এবং অন্যান্য চূড়ার শীর্ষদেশ আমলক শিলা ও কলস চূড়ায় শোভিত। মন্দিরের বৃহৎ কক্ষটি সম্পূর্ণটাই পলেস্তারায় আচ্ছাদিত। প্রস্তর নির্মিত মন্দিরের খিলানসমূহে খাঁজ নকশা, ফুল, লাতাপাতা, বরফি ইত্যাদি নকশা উৎকীর্ণ রয়েছে। তাছাড়া বহির্ভাগে সুউচ্চ শিখরের দক্ষিণ দিকে মাঝের একটি ক্ষুদ্র চূড়ার গাত্রে শিবের একটি প্রতিকৃতি এবং ছাদে অলঙ্করণ হিসেবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হনুমান মূর্তি স্থাপিত রয়েছে। মন্দিরটির ভিতরে উত্তর দেয়ালে স্থাপিত এক শিলালিপি অনুসারে এটি ১৮৩২ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৩২+৭৮=১৯১০ সালে রাধিকানাথেশ্বরের নামে প্রতিষ্ঠিত বলে  জানা যায়।