ফিরে যেতে চান

ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত সপুরা শিবমন্দির বা সপুরা মঠ (খ)

এক কক্ষ বিশিষ্ট সপুরা মঠ রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী সপুরার ‘সপুরা সিল্ক মিলের’ সম্মুখস্থ উত্তর পাশে ও মঠপুকুরের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত। শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুকুমার রায়ের মতে, ভাদুড়ি বাবু মঠটি নির্মাণ করেন। এ মঠের পাশেই তাঁর বাড়ি ছিল। পুকুরে স্নান সেরে এ বাড়ির সদস্যরা মঠে শিবপূজার পর বাড়িতে প্রবেশ করতেন। বর্তমানে তাঁর কোন বংশধর এখানে বাস করেন না।
.৯১মি. উঁচু একটি বর্গাকার মঞ্চের (৫.৭৯X৫.৭৯মি.) উপর মঠটি নির্মিত। মঞ্চের প্রান্তভাগ হতে .৯১ মি. ভিতরে বর্গাকারে নির্মিত। মন্দির কক্ষের পরিমাপ বহির্ভাগে ৩.৮১ মি. এবং অভ্যন্তরে ২.৩৬ মি.। ভিতরের উত্তর ও পূর্ব দেয়ালে তিনটি করে এবং পশ্চিম দেয়ালে প্রবেশ পথের উভয় পাশে একটি করে কুলঙ্গি বিদ্যমান। মন্দিরটিতে প্রবেশের জন্য দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। পশ্চিমের প্রবেশ পথটিই এর প্রধান প্রবেশ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মন্দির কক্ষের অভ্যন্তরীণ ছাদ স্কুইঞ্চ পদ্ধতিতে নির্মিত গম্বুজে আবৃত হলেও বহির্ভাগ সমতল করে তদুপরি ১৬টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত একটি শিখর স্থাপিত রয়েছে।
ক্ষুদ্র চূড়া এবং কেন্দ্রীয় চূড়ার শীর্ষদেশে কলস ও আমলকি শিলা স্থাপিত। এ ধরনের চূড়া বিশিষ্ট মন্দির পুঠিয়া ও তাহিরপুরে পরিলক্ষিত হয়। এর কার্নিশ পর্যায়ক্রমিকভাবে সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্মুখের দিকে বর্ধিত করে নির্মিত।

সপুরা মঠ  (খ) (দক্ষিণ দিক হতে)

মন্দিরটির অভ্যন্তর ও বহির্ভাগ পলেস্তারায় আচ্ছাদিত। তবে বহির্ভাগের উত্তর ও পূর্ব দেয়ালগাত্রে উল্লম্ব খিলানাকৃতির দুটি বদ্ধ প্যানেল রয়েছে। ইমারতটির কার্নিশের নিম্নে পলেস্তারায় রচিত ফুল ও লতাপাতা সজ্জিত একটি টানা পাড়নকশা এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ প্রবেশ পথদ্বয়ের খিলানমুখ তিন স্তর বিশিষ্ট খাঁজ নকশায় শোভিত। ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত শিখর বিশিষ্ট এ মন্দির কখন নির্মিত তার কোন লিখিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মন্দির নির্মাণশৈলীর সাথে পুঠিয়া ও তাহিরপুরের শিবমন্দিরের যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। সুতরাং এ মন্দিরও পুঠিয়ার শিবমন্দিরের সমসাময়িক অর্থাৎ ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নির্মিত হয়ে থাকবে বলে অনুমিত হয়।