ফিরে যেতে চান

ফুদকিপাড়া চৌচালা শিবমন্দির

মন্দিরটি পদ্মা নদীর উত্তর পাড়ে ফুদকিপাড়ায় অবস্থিত। পূর্বমুখী একটি ভগ্নদশাগ্রস্ত খিলান বিশিষ্ট তোরণপথ দিয়ে এ মন্দির অঙ্গনে প্রবেশ করতে হয়। অঙ্গনের দক্ষিণ প্রান্তে মন্দিরটির অবস্থান। অঙ্গনের পশ্চিম ও পূর্বাংশেও কয়েকটি ক্ষুদ ভগ্ন মন্দিরের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। অঙ্গনসহ একত্রে এ মন্দিরগুলো গোপীনাথের আখড়া নামে পরিচিত। বিদ্যমান শিবমন্দিরটি উত্তরমুখী এককক্ষ বিশিষ্ট এবং বর্গাকারে নির্মিত। এর অভ্যন্তরভাগের পরিমাপ ১.৫২১.৫২ মি. এবং বহির্ভাগে প্রতি বাহুর পরিমাপ ২.২৬ মি.। গর্ভগৃহের কেন্দ্রস্থলে একটি ঊঁচু বেদির উপর দুটি শিবলিঙ্গ পাশাপাশি স্থাপিত রয়েছে। পূর্ব পাশের বিগ্রহটি ক্ষুদ্র এবং অপর বিগ্রহটি কিছুটা বড়। মন্দির কক্ষে প্রবেশের জন্য উত্তরমুখী একমাত্র খিলানপথটি একটি উল্লম্ব আয়তাকার কাঠামোর মধ্যে প্রতিস্থাপিত। কক্ষের ভিতরে দক্ষিণ দেয়ালে দুটি এবং পূর্ব দেয়ালে একটি কুলঙ্গি রয়েছে। দক্ষিণ দেয়ালের কুলঙ্গি দুটির চেয়ে পূর্ব দেয়ালের কুলঙ্গিটি অপেক্ষাকৃত বড়। গর্ভগৃহের অন্তরস্থ উপরিভাগ গম্বুজে আবৃত হলেও বহির্ভাগ পিরামিড আদলের চৌচালা ছাদে আচ্ছাদিত এবং কার্নিশ বক্রাকারে নির্মিত। বহির্ভাগে দক্ষিণ পাশের ছাদের উপর শিব ও উমার যুগল মূর্তি উৎকীর্ণ এবং শীর্ষদণ্ড হিসেবে একটি ত্রিশুল বিদ্যমান। সমগ্র মন্দিরটির অভ্যন্তর ও বহির্ভাগ পলেস্তারায় আচ্ছাদিত। অলংকরণ হিসেবে কেবল বহির্ভাগের চারকোণ ও কার্নিশের নিম্নাংশে কতগুলো প্যানেল ছাড়া আর কিছুই পরিলক্ষিত হয় না। মন্দিরটির সাথে সংযুক্ত পশ্চিম পাশে একই ধরনের চৌচালাকৃতির আরেকটি ক্ষুদ্র শিবমন্দির রয়েছে। মন্দিরটির উত্তর দেয়ালে একটি প্রবেশ পথ এবং কেন্দ্রস্থলে কষ্টিপাথরের নির্মিত পাশাপাশি দুটি শিবলিঙ্গ বিদ্যমান। মন্দিরটির সম্মুখে পশ্চিম পাশে রয়েছে উন্মুক্ত একটি শীতলা মন্দির। নির্মাণশৈলী দৃষ্টে গোপীনাথের এ আখড়া ও মন্দির ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।

ফুদকিপাড়া শিবমন্দির (উত্তর দিক হতে)