ফিরে যেতে চান

চৌচালা মন্দির বা সপুরা ছঘাটি মঠ (ক)

মঠটি সপুরা ছয়ঘাটি পুকুরের উত্তর পাড়ে অবস্থিত। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদ্যমান। এর নির্মাণকাল সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় না। অধ্যাপক ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বর্গী হাঙ্গামার সময় মুর্শিদাবাদ হতে আগত দুলাল সা এর পরিবার কর্তৃক পূণ্য কীর্তি হিসেবে এ মঠ নির্মিত ও মঠের সম্মুখে দিঘিটি খনন করা হয়েছিল। তিনি লিখেছেন, নির্মাণশৈলী দৃষ্টে মন্দিরটি অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে অথবা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নির্মিত বলে অনুমিত হয়। 
শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুকুমার রায়ের মতে, বিশালাকৃতি পুকুরের দক্ষিণ পাড়ের সপুরা শিব মঠ (ঘ) ও এ মঠ তৈরি করেছিলেন দুলাল সা। পুকুরটিও তিনি কেটেছিলেন। দুলাল সা লবণের ব্যবসা করে ধণাঢ্য ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান। ধর্ম অনুরাগী এ মানুষটির উদ্যোগে ছঘাটি পুকুরপাড় ও মন্দির দুটিকে কেন্দ্র করে রথের মেলা বসতো। দক্ষিণ পাড়ের মঠ থেকে রথ যেত উত্তরপাড়ের মঠে। আট দিন পর উল্টো রথ ফিরে আসতো উত্তরপাড়ের মঠ থেকে দক্ষিণপাড়ের মঠে। মঠ প্রতিষ্ঠাতা দুলাল সার দেহত্যাগের সঠিক সময় সম্পর্কে জানা যায় না। তিনি ব্রিটিশ আমলেই তিরোধান হন। তিরোধানের পর তাঁর সম্পর্কে কিংবদন্তি আছে। তিরোধানের কিছুদিন পর তাঁর গুরুদেব আসেন বৃন্দাবন থেকে। তিনি দুলাল সার মাকে বলেন, দুলাল সার সঙ্গে দেখা হয়েছিল বৃন্দাবনে। আমাকে বলেছে আপনার জন্য ঘরে একটা টিনের কৌটায় প্রণামী রাখা আছে। গুরুদেবের কথায় মা বলেন, দুলাল সা তো দেহত্যাগ করেছে।

সপুরা ছঘাটি মঠ (ক) (পূর্ব দিক হতে)

তখন গুরুদেব বিস্ময়ে বলেন, আমার সঙ্গে তো ওর দেখা হলো বৃন্দাবনে। গুরুদেবের কথা মতো টিনের কৌটা ও তার ভিতর টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রচারিত এ কিংবদন্তির সত্যতা যাচায়ের সুযোগ না থাকায় ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। 
বর্তমানে মঠটি ঘেঁষে দালান ও পশ্চিশ পাশ ঘেঁষে সীমানা প্রাচীর। দক্ষিণমুখী ও বর্গাকার ভূমি পরিকল্পনায় নির্মিত এ মন্দিরটি একটি ২.১৮ মি. উঁচু মঞ্চের উপর নির্মিত। তবে এত উঁচু মঞ্চে ওঠার সোপানশ্রেণি বর্তমান না থাকায় মন্দিরটির ভিতরে প্রবেশ করা কষ্টসাধ্য। বহির্ভাগে মন্দিরটির প্রতি বাহুর পরিমাপ ৫.০৮মি. এবং অভ্যন্তরের আয়তন ৩.৫৬৩.৫৬ মি.। কক্ষের ভিতরে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দেয়ালে একটি করে কুলঙ্গি বিদ্যমান। কক্ষটির উপরিভাগ গম্বুজে আবৃত হলেও বহির্ভাগ চৌচালা পিরামিড আদলের ছাদে আচ্ছাদিত ও ছাদের কার্নিশ বক্রাকার। মন্দিরটির দক্ষিণমুখী খিলান বিশিষ্ট একটি প্রবেশপথ এবং ছাদের শীর্ষভাগে একটি লৌহদণ্ড রয়েছে। গৃহমুখ ব্যতীত মন্দিরটির অভ্যন্তর ও বহির্ভাগের দেয়ালগাত্র পলেস্তারায় আচ্ছাদিত। বর্তমানে পলেস্তারার অধিকাংশই খুলে পড়েছে। অন্যদিকে গৃহমুখ পলেস্তারা অলংকরণের সাথে পোড়ামাটির ফলক নকশায় সজ্জিত ছিল। যার অধিকাংশই বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। ফলকসমূহ উল্লম্ব ও আয়তাকার প্যানেলে বিভক্ত। প্রবেশপথের খিলানমুখ খাঁজ নকশায় শোভিত এবং প্রবেশ পথটি একটি আয়তাকার কাঠামো দ্বারা পরিবেষ্টিত। আয়তাকার কাঠামোতে স্থাপিত পোড়ামাটির ফলকসমূহে পত্র, ফুল, পেঁচানো লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা উৎকীর্ণ রয়েছে। ছাদের উপরিভাগে চারদিকে চারটি ক্ষুদ্রাকার ভাস্কর্যমূর্তি ছিল। যা বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। মন্দিরটির ভিতরে কোন বিগ্রহ বর্তমান নেই।