ফিরে যেতে চান

বালিয়াপুকুর ঈদগাহ্ (দেবিশিংপাড়া)

রাজশাহী শহরের বিদ্যমান প্রত্ন-ইমারতসমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন। এটি রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমে তালাইমারী হতে ভদ্রামোড় সড়কের ঠিক মধ্যস্থলে ও সড়ক হতে সামান্য পশ্চিমে ভদ্রা মৌজায় (দেবীসিংপাড়া) অবস্থিত। বর্তমানে বিদ্যমান স্বল্প পরিসরের এ ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম প্রান্তে ইট ও চুন-সুরকির নির্মিত একটি অবকাঠামো অর্ধ-ভগ্নাবস্থায় এখনো দৃশ্যমান। কেবলা নির্দেশক হিসেবে মাঠের পশ্চিম প্রান্তে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত ৭.৮ মি. (২র্৩-র্৩র্ ) পরিমাপ বিশিষ্ট একটি প্রাচীর এবং প্রাচীরের সাথে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাঁচটি মিহরাব সংযোজিত রয়েছে। ইমারতটি পৃথকভাবে তিনটি অংশে বিভক্ত। ১.৫৯ মি. (র্৫-র্৩র্ ) পরিসরের (বর্গাকার) কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অপেক্ষাকৃত বড় ও ২.৭৪ মি. (র্৯-র্০র্ ) উচ্চতা বিশিষ্ট। এর উত্তর পাশে এক সারিতে তিনটি মিহরাব। দক্ষিণ পাশের মিহরাবটি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকারে নির্মিত। মিহরাবসমূহের উপরিভাগ গম্বুজে আচ্ছাদিত। গম্বুজসমূহের মধ্যে কেন্দ্রীয় এবং উত্তরের তিনটি উল্টো চাড়ি বা বাটির ন্যায় ও অন্যটির (দক্ষিণেরটি) বহির্ভাগ গম্বুজাকৃতির হলেও অভ্যন্তরভাগ কিছুটা দোচালা করে নির্মিত। সমগ্র ইমারতটি পলেস্তারায় আচ্ছাদিত এবং কার্নিশ জ্যামিতিক নকশায় শোভিত। তবে বর্তমানে পলেস্তারার অনেকাংশ খুলে পড়েছে। ঈদগাহটি পূর্বে ঠিক কতটুকু জায়গার উপর নির্মিত ছিল তা সঠিক করে বলা যায় না। তবে বর্তমানে এর দক্ষিণ পাশ দিয়ে (ঈদগাহ মাঠের উপর দিয়ে) একটি রাস্তা নির্মাণ এবং অনেক জায়গা বেদখল হওয়ায় এর আয়তন আরো ছোট হয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্রাকার মাঠটি বর্তমানে প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে। কোন লিখিত তথ্যের অভাবে এ ঈদগাহর বিদ্যমান অবকাঠামোটি ঠিক কখন নির্মিত তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। তবে ইটের আকৃতি ও নির্মাণশৈলী দৃষ্টে ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত বলে অনুমিত হয়। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদ্যমান। এ স্থাপত্যটির রেকর্ডিয় মালিক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার, রাজশাহী এবং খানকা শরিফ হিসেবে মুসলমান জনসাধারণের ব্যবহার্য সম্পত্তি উল্লেখে প্রচলিত আছে।৬৯৬

বালিয়াপুকুর ঈদগাহ্ (দেবিশিংপাড়া)