ফিরে যেতে চান

সাহেব বাজার বড় মসজিদের বিলুপ্ত ভবন (২০০৭ সালের পূর্বের ছবি) 

সাহেব বাজার বড় মসজিদ মোঘলাই প্যাটার্নের হলেও আধুনিক কারুকার্যের ফলে উত্তর বাংলার প্রথম আধুনিক প্যাটার্নের মসজিদ হিসেবে পরিচিত পেয়েছিল। মসজিদটি নির্মাণে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম কোরায়েশী ও জনৈক আমির আলী প্রমুখ বহু শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তাঁরা ভারতের মধ্য প্রদেশের কোনো এক মসজিদের অনুকরণে এর প্ল্যান তৈরি করেছিলেন। ১৯২৭ সালে এর দ্বিতীয় বার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়ে ১৯৫৪ সালে নির্মাণ কাজ সুসম্পন্ন হয়। এর প্রাচীনত্ব সম্পর্র্কে বিচিত্র কথা ও কাহিনীর প্রচলন ছিল। অনেকে ১৯২১সালের পূর্বে সেখানে একটি প্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের দাবি করতেন। কিন্তু সেখানে একটি মেহরাব ছাড়া অন্য কোন চিহ্নাবশেষ ছিল না। এ মেহরাবকে আবার কেউ কেউ কুঠিয়ালদের টাওয়ার (ঞড়বিৎ), আবার কেউ কেউ একটি মন্দিরের ধংসাবশেষ বলে দাবি করতেন। প্রবীণদের কেউ কেউ বলতেন, এখানে তিনটি বটগাছ ছিল ও এ বটগাছের গোড়ায় পেরেক বিশিষ্ট দোলনায় কতিপয় সন্ন্যাসী উলঙ্গ অবস্থায়, কখনও কৌপীন পরে শুয়ে থাকতেন। ১৯২১ সালে সাধক সদাই ফকিরের শিষ্য মরহুম খোয়াজ আহমদ উক্ত মেহরাবকে কেন্দ্র করে মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়, জেলা বোর্ড ও মিউনিসিপ্যালিটি কর্তৃক বাঁধাপ্রাপ্ত হন। এমনকি তিনি দুই মাস জেলও খাটেন। অবশেষে ১৯২৩ সালে রাজশাহী সদর মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিন তদন্ত করে মসজিদ নির্মাণের রায় দেন। রাজশাহী কালেক্টরের মহাফেজখানায় (রেকর্ড রুম) রক্ষিত ১৮৪৯ সালের একটি সার্ভে নকশাতে এখানে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের নকশা আছে। এর দাগ নং ১৫১। ১৭শ গজের ৮ বিঘা জমির উপর এর চৌহদ্দী নির্দিষ্ট ছিল। হিন্দু রঞ্জিকা পত্রিকায় মসজিদটির উল্লেখ আছে।১
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মসজিদটি পুনরায় নির্মাণ করে। মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ মসজিদের সামনের জায়গাটি (রাস্তা) সিটি কর্পোরেশনের নিকট হস্তান্তর করে। কমপ্লেক্সটি এমনভাবে নির্মিত, যাতে মসজিদ নির্মিত হয়েছে আবার রাস্তাও আছে। ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোর রাস্তার জন্য ৭.৯২ শতক জায়গা ছেড়ে নির্মিত হয়েছে এবং রাস্তার উপরের অংশের দ্বিতীয় থেকে অন্যান্য ফ্লোর আরসিসি পিলার ধরে রেখেছে।১৪৮ (বিস্তারিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অধ্যায়)