ফিরে যেতে চান

পিপিপি পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, মহানগরীর আর্থিক উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস্যা  হ্রাসকরণের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রথম পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বেসরকারিভাবে উদ্যোগী সংস্থার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করে। ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রকাশিত বরেন্দ্রের বাতিঘর অগ্রযাত্রার ৫ বছর গ্রন্থে মোট ১৪টি পিপিপি পদ্ধতিতে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ আছে। সেগুলো রাজশাহী সিটি সেন্টার , দারুচিনি প্লাজা , স্বপ্নচূড়া প্লাজা হড়গ্রাম বাজার বর্ধিতকরণ, গোরহাঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক ভবন বর্ধিতকরণ, সাহেব বাজার মুড়িপট্টিতে বৈশাখী বাজার, আরডিএ মার্কেটের পাশে, লক্ষ্মীপুর ঝাউতলায়, কোর্ট ষ্টেশনের পাশে সিটি বাইপাসে, বিলসিমলা রেল ক্রসিং এর পাশে, শালবাগানে, নওদাপাড়ায় চৈতালী সুপার মার্কেট, বর্ণালী মোড়ে ও ভদ্রায় আবাসিক ভবন। 

নির্মাণাধীন রাজশাহী সিটি সেন্টার, সোনদিঘি (ছবি- ২০১৬)

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখের তথ্যানুসারে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে মোট ১৩টি ভবনের মধ্যে ১০টির নির্মাণ কাজ চলছিল। এ ১০টি প্রকল্পের মধ্যে পুরাতন নগর ভবনের জায়গায় ১৬ তলা বিশিষ্ট রাজশাহী সিটি সেন্টার সর্ব প্রথম ও বৃহৎ প্রকল্প। 
রাজশাহী সিটি সেন্টার: ১৪ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে রাজশাহী সিটি কর্পেরেশন ও এনা প্রপার্টিজ লি. এর সঙ্গে আনুষ্ঠিানিকভাবে সিটি সেন্টার নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয়। এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রকাশিত লিফলেট থেকে জানা যায়, রাজশাহী সিটি সেন্টারের  নির্মাণ ব্যয় হবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। নির্মাণ ব্যয় করবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনা প্রর্পাটিজ লি.। মোট জমির পরিমাণ পুকুরসহ ৬ বিঘা। ১৬ তলা ভবনটির জন্য নির্ধারিত জমির পরিমাণ ২৪ কাঠা। ভবনটির আয়তন হবে ১,২২০.০০ বর্গমিটার বা ১৩,১২৭বর্গফুট। বাস্তবায়নকাল  ৩ বছর। ভবনের শেয়ার এনা প্রপার্টিজ ৭৪.৭৫ শতাংশ এবং সিটি কর্পোরেশন-২৫.২৫ শতাংশ (ভবনের জন্য নির্ধারিত জমি সহকারে)।
সোনাদিঘির চারপাশের উন্নয়ন, দ্বিতল মসজিদটি পুন:নির্মাণ করে ৩ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ, বিনোদন কর্ণার, আইটি লাইব্রেরী, একটি এমপ্লি থিয়েটার এবং বর্তমান দোকানগুলোকে সুন্দর আদলে পুনর্বাসন ব্যয় চুক্তি অনুযায়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনা প্রপার্টিজ লি. বহন করবে। এর ফলে সামগ্রিক হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৃত শেয়ারের পরিমাণ প্রায় ৩৪.৫০শতাংশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী সার্বিক প্রকল্পটি ৩টি পর্যায়ে সমাপ্ত হবে।
১ম পর্যায়: ১৬ তলা ভবন। যার কয়েকতলায় মার্কেট, অন্য তলায় একটি সিনেমা হল, একটি রেস্তরাঁ, ১টি জীমনেশিয়াম, বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস ইত্যাদি, ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য পুরাতন নগর ভবনে একটি রেপলিকা স্থাপন।
২য় পর্যায়: মহানগরবাসীর বিনোদনের জন্য সোনাদিঘি সংস্কারসহ পাড় উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং দ্বিতল মসজিদটি পুন:নির্মাণ করে তিন তলা বিশিষ্ট একটি সুদৃশ্য মসজিদ নির্মাণ, আইটি লাইব্রেরী, এমপ্লি থিয়েটার ও দোকান পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
৩য় পর্যায়: সার্ভে ইনস্টিটিউটকে মহানগরীর উত্তরাঞ্চলের সুবিধা মত জাগায় স্থানান্তর করে পার্ক নির্মাণ এবং বিনোদন ব্যবস্থার অধিক সম্প্রসারণ।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সমসাময়িক এনা প্রপার্টিজ প্রকাশিত সিটি সেন্টার শিরোনামের বুকলিটে দেখা যায় কমপ্লেক্সের নাম সিটি সেন্টার। এর ফ্লোর ওয়াইজ প্রজেক্ট ব্রিফিংয়ে আছে বেজমেন্টসহ ফ্লোরের সংখ্যা ১৬ টি। ব্রিফিং অনুসারে কমপ্লেক্সের বেজমেন্টে পার্কিং; ফার্স্ট ফ্লোরে কসমেটিকস, এটিএম বুথস; সেকেন্ড ফ্লোরে ব্যাংক, ব্র্যান্ড আইটেমস শপস; থার্ড ফ্লোরে লেডিজ আইটেম, রেডিমেড গার্মেন্টস, সু শপস, বিউটি পরলার ইত্যাদি; ফোর্থ ফ্লোরে জেন্টস আইটেম, রেডিমেড গার্মেন্টস, সু শপস ইত্যাদি; ফিফথ ফ্লোরে জুয়েলারি শপস; সিক্সথ ফ্লোরে শাড়ি শপস/শো রুমস; সেভেনথ ফ্লোরে মোবাইল অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ, কম্পিউটার ইলেকট্রোনিকস শপস ইত্যাদি; এইটথ ফ্লোরে সিনেমা হল/সিনেপ্লেক্স, ফুড কোর্ট অ্যান্ড প্লেইং এরিয়া ফর চিলড্রেন; নাইনথ হতে ফিফটিনথ ফ্লোরে স্পেসেজ ফর অফিসেজ, বোকারেজ হাউজেজ, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ, কোচিং সেন্টারস ইত্যাদি; সিক্সটিনথ ফ্লোরে রুফ টপ) রেস্টুরেন্ট থাকবে।
স্বপ্নচূড়া  প্লাজা: নগরভবনে দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বে নির্মিত হচ্ছে ৮ম তলা বিশিষ্ট স্বপ্নচূড়া  প্লাজা। এ ভবনের ৭০% কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ভবনটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয় ২০০৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর| টেকনিক্যাল কমিটি কর্তৃক নকশা অনুমোদনের প্রেক্ষিতে নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের ১০ আগস্ট। ৮তলা বিশিষ্ট এ ভবনের প্রথম থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত থাকবে বিভিন্ন ধরনের দোকান, ৪র্থ ও ৫ম তলায় থাকবে হোটেল, ক্লিনিক, ব্যাংক, বীমা ইত্যাদি। ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় থাকবে রাজশাহী সিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৮ম তলায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ স্টুডিও হবার কথা ছিল। সে সম্ভাবনা এখন নেই। ভবনটিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও ডেভেলেপরের শেয়ারের পরিমান যথাক্রমে ২৮% ও ৭২%।
দারুচিনি প্লাজা : নিউ মার্কেটের পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন ৮ তলা বিশিষ্ট দারুচিনি প্লাজা  বাণিজ্যিক ভবন থেকে রাজস্ব আয় আসবে ২৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর তেত্রিশ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৬৭.৪৭ কাঠা ভূমি উপর এ ভবনের ফ্লোরের মোট  আয়তন হবে ৩৩ হাজার ৭৬৮ বর্গফুট। 
বৈশাখী বাজার: সাহেববাজার মুড়িপট্টিতে ৭ তলা বিশিষ্ট বৈশাখী বাজার থেকে রাজস্ব আয় আসবে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ ভবনের ৩০শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ৩.১২ কাঠা জায়গার উপর ভবনের মোট ফ্লোরের আয়তন ১৬৮৫ বর্গফুট। এ ভবনে সিটি কর্পোরেশন ও ডেভেলপারের শেয়ারের অংশ যথাক্রমে ৪৪% ও ৫৬%। 
হড়গ্রাম বাজার বর্ধিতকরণ: দুতলা বিশিষ্ট হড়গ্রাম বাজারের শুধু ৩য় তলা পিপিপি পদ্ধতিতে নির্মাণ হচ্ছে। হড়গ্রাম বাজারের ৩য় তলা থেকে রাজস্ব আয় আসবে ৮৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এর কাজ শেষ হয়েছে। এ ভবনে সিটি কর্পোরেশন ও ডেভেলপারের শেয়ারের অংশ যথাক্রমে ৩৫.৫০% ও ৬৪.৫০%।
চৈতালী সুপার মার্কেট: নওদাপাড়া চৈতালী সুপার মার্কেট থেকে রাজস্ব আয় আসবে ৮ কোট ১৬ লাখ টাকা। ৫ তলা বিশিষ্ট এ ভবনটির ৫% কাজ হয়েছে। ৪৫.৪৫ কাঠা জমির উপর এর ফ্লোরের মোট আয়তন ২২৬৮০ বর্গফুট। এখানে সিটি কর্পোরেশন ও ডেভেলপারের শেয়ারের অংশ যথাক্রমে ৩৬% ও ৬৪%।