ফিরে যেতে চান

পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি. এর অফিস, বিমান বন্দর রোড (ছবি- জানুয়ারি ২০১৭)

রাজশাহী মহানগরী ও তার আশেপাশের এলাকায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১হাজার ৫শ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আরো বুদ্ধি পায়। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে রাজশাহী মহানগরীতে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পের ভিত্তি প্রসত্মর স্থাপন করেন।২৫৭ 
২০০৬ সালের ১২ জুলাই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয় ও ২০০৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।৫৫৭ অনুমোদিত প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১১২ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।৫৫৮ পরবর্তীতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকা।৫৬১ মহানগরীতে স্থাপিত পাইপ লাইনের দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার। পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয় পূর্ব অংশের চৌদ্দপাই এলাকায় ১ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে।৫৫৭ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পাইপ লাইন স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন।৫৫৮ ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান পশ্চিমা গ্যাস কোম্পানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রেট্রোবাংলা অনুমোদন করে ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর| ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের জানুয়ারিতে গ্যাস সরবরাহের ঘোষণা দেন। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৫ টায় পাইপ লাইনে গ্যাস পৌঁছায় রাজশাহীতে।৫৫৮ আবাসিকের পূর্বে শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়।৫৬০ ২০১৩ সালের ৭ মে আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।৫৫৯ ২০১৩ সালের ৭ জুন শুক্রবার সকালে শিরোইল মঠপুকুরের ভাষা সৈনিক আবুল হোসেনের বাড়িতে চুলা জ্বালিয়ে  রাজশাহী মহানগরীতে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগের উদ্বোধন করে পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর। উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল, অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, বাড়ির মালিক ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর জানান, রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ করতে ২৫৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।৫৬১
গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন থেকে আবাসিক সংযোগ প্রাপ্তির ব্যবধান প্রায় ৭ বছর। দীর্ঘ সময়ের সঙ্গে ব্যাপক আন্দোলনের পর রাজশাহীবাসীর ঘরে গ্যাস সংযোগ ঘটে। এ আন্দোলনে রাজশাহীর সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতৃবৃন্দ ও সকল পেশার মানুষ একাত্ম ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা বহুমুখী সেতু) উদ্বোধনের পর থেকেই রাজশাহীর মানুষ পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের দাবি তোলেন। এ দাবি গণদাবিতে পরিণত হয় বগুড়াকে সরাসরি গ্যাস নেটওয়ার্কে আনার পর। আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে জামাত খানের নেতৃত্বে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম সংগ্রাম পরিষদসহ আরো কিছু সংগঠন। সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন এ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেলে নগরীর এক প্রাপ্ত থেকে আরেক প্রান্তর গ্যাসের দাবিতে মানুষের গণস্বাক্ষর গ্রহণ করে বেড়াতেন। সে সময়ে তাঁর বাহন সাইকেলটি ছিল তেরখাদিয়া ডাবতলা মোড়ের কেন্দ্রীয় কিশোর পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ফটো জার্নালিস্ট মো. সোহাগ আলীর। ২০০৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী সংগ্রাম পরিষদ রাজশাহীতে অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ ও রাজশাহী ঢাকার সাথে ৩টি ট্রেন চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।৫৬২ ২০০৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ‘রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ মহিলাদের ভাবনা’ শীর্ষক একটি গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।৫৬৩ রাজশাহীর মানুষ গ্যাস ইস্যুতে সভা,  সেমিনার, মানবন্ধন, গোল টেবিল বৈঠক, অনশন ও হরতাল কর্মসূচি পালন করে। সরকারি পক্ষের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী মহানগরী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (২০০৮ সালে মেয়র) এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, ওয়ার্কার্স পার্টিও পলিট ব্যুরোর সদস্য (২০০৮ সালে সংসদ সদস্য) ফজলে হোসেন বাদশা প্রচেষ্টা চালান। ২০১৩ সালের প্রথম দিকে তৎকালীন মেয়র লিটন রাজশাহী চেম্বার ভবনের মিলনায়তনের এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, ‘আমি কারও চাকরি করিনা। অবিলম্বে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ না হলে, রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।’