ফিরে যেতে চান

রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ১৯৬০ সালের ৭ জুলাই কোম্পানি আইনের ৭ ধারা মোতাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স এবং Registrar of Joint Stock Companies থেকে Certificate of incorporation C/125 No.1467-E.P of 1960-61 লাভ করে সরকারের লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়। রাজশাহী চেম্বারের প্রথম সভাপতি হন শওকত আলী। পরবর্তীতে তিনি আরো একবার সভাপতি হন। প্রথম মেয়াদ ছিল ১৯৬০ সালের ১১ জুন থেকে ১৯৬৩ সালের ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় মেয়াদ ১৯৬৮ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ১৯৬৯ সালের ২৭ জানুয়ারি। 
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজস্ব উদ্যোগে রাজশাহী চেম্বারের সূচনা করেছিল আরো এক দশক পূর্বে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরই ব্যবসায়ীরা একটি সংগঠন স্থাপনের কথা অনুভব করেন। ফলে ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইনের বিধি বিধান অনুসরণ করে ১৯৫১ সালে গঠিত হয় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এবং তৈরি করা হয় মেমোরান্ডাম অব আর্টিকেলস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন । এ কার্যক্রমে ভূমিকা ছিল গৌরীশংকর পোদ্দার, মহা. এশারতুল্লা মন্ডল, আব্দুল জলিল বিশ্বাস, আব্দুল জলিল মিঞা, নূরুল ইসলাম (লাল মিঞা), মজিবর রহমান, সৈয়দ মহা. মহসেন আলী, বাবু রামপদ মুখার্জী, মহা. এসাহাক, সেরাজুদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ ব্যবসায়ীর।৫৫৫
চেম্বারের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল মরহুম সিরাজউদ্দিন ভূঁইয়ার স্ত্রী মাজেদা খাতুনের দানকৃত সাহেব বাজার নাপিত পট্টির গলি ভবনে।৫৫৫ কয়েক বছরের জন্য চেম্বারের অফিস মালোপাড়ার কাবিল ম্যানসনে স্থানান্তরিত হযেছিল। চেম্বারের স্থায়ী অফিস নির্মাণের জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২৬ মে অলকার মোড়ের সামনে বোয়ালিয়াপাড়ায় বর্তমান জায়গাটি বরাদ্দ দেন। তখন এ জায়গাটি ছিল পুকুর। ২৯ জানুয়ারি ১৯৮৫ তারিখে তৎকালীন চেম্বার সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদ (বাবলু) এর প্রচেষ্টায় এ জমিটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫২ টাকা ৬৩ পয়সায় একোয়ার করা হয়। জমির পরিমাণ ১৭ কাঠা।১৯২ তবে এর ৩ বছর পূর্বেই পুকুরটি ভরাট ও টিন শেডের অফিস নির্মিত হয়। ১৯৮২ সালে চেম্বারের সহ-সভাপতি ও নিউ মার্কেটের চিত্রায়নী স্টুডিও’র মালিক মো. হায়দার আলীর প্রচেষ্টায় পুকুর ভরাটের পর টিন শেড ভবন নির্মিত হয়েছিল। ১৮ নভেম্বর ১৯৮২ তারিখে বিভাগীয় কমিশনার আনিস-উজ-জামান খান ভবনটি উদ্বোধন করেছিলেন। ২০০৩ সালে লুৎফর রহমান চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন ভবন নির্মাণে উদ্যোগের গতি সঞ্চালিত হয় এবং ১৮ মে ২০০৩ তারিখে ৭তলা বিশিষ্ট ভবনের নক্সা অনুমোদনের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নিকট আবেদন করা হয়।১৯২ নকশা অনুমোদনের পর ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ তারিখে রাজশাহী কোর্ট এলাকার রাজপাড়া মহল্লার মেসার্স সানোয়ার হোসেন লটারীর মাধ্যমে ভবন নির্মাণের ঠিকাদার নির্বাচিত হন। ২৫ এপ্রিল ২০০৩ তারিখে নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।১৯৪ ভবনটি ইতোমধ্যে বেজমেন্টসহ চারতলা পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য †P¤^v‡ii অফিস এক বছরের জন্য উপশহরের নিউ মার্কেটের উত্তর পাশে একটি ভাড়া বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ২৪ মার্চ ২০০৫ তারিখে উপশহর থেকে অফিসটি নিজস্ব ভবনে চলে আসে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি উদ্বোধন হয় ২৮ জুলাই ২০০৫/১৩ শ্রাবণ ১৪১২ তারিখে। উদ্বোধন করেন চেম্বার সভাপতি লুৎফর রহমান, সহ-সভাপতিদ্বয় মো. হাসেন আলী ও আফরাউজ জামান খান চৌধুরী বাবুলসহ বোর্ড অব চেম্বারের সকল সদস্য। ভবনের প্রথম তলায় চেম্বারের অফিস। দু’তলা দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লি. কে ভাড়া দেয়া হয়। ১ আগস্ট ২০০৫ তারিখে এ ব্যাংক এখানে উদ্বোধন হয়েছে।১৯৩ বেজমেন্টে আছে গাড়ি পার্কিং। চেম্বারের পরিচালক ও হাউস কমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার হাফিজুর রহমানের ১৭ অক্টোবর ২০০৫ তারিখের তথ্যানুসারে দুতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। 
রাজশাহী চেম্বার ব্যবসায়ীদের বহুমুখী সেবা প্রদান ছাড়াও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজ করে আসছে। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দান, বিভিন্ন দাবি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন, ব্যবসা সংক্রান্ত নীতিমালা সদস্যদের অবহিতকরণ, আমদানী ও রপ্তানি ক্ষেত্রে দেশ ও বিদেশে তথ্য প্রদান, ব্যবসায়ীদেরকে বিভিন্ন প্রকার হয়রানি থেকে রক্ষার জন্য ভূমিকা পালন, ড়্গুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠায় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান, সমাজ উন্নয়ন কাজে অংশগ্রহণ, স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহকে চেম্বারের  সম্মেলন কক্ষে ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করে থাকে।১৯৩ এছাড়া রাজশাহী চেম্বার বাংলাদেশের পণ্য পরিচয়ের জন্য ১৯৯৭ সাল থেকে শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আয়োজন করছে। খন্দকার হাফিজুর রহমানের তথ্যানুসারে প্রথমে চেম্বার চত্বরে ২০০০ সালে কলেজিয়েট স্কুল মাঠে ও ২০০১ সাল থেকে কালেক্টরেট মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 
রাজশাহী চেম্বার পূর্বে ২য় শ্রেণীর পর্যায়ে ছিল। ১৯৯৫ সালে ১ম শ্রেণীতে উন্নীত হয়। পূর্বে পরিচালনা পর্ষদের নাম ছিল নির্বাহী কমিটি এবং এর সদস্যবৃন্দ এক্সিকিউটিভ মেম্বার বা নির্বাহী সদস্য নামে পরিচিত হতেন। ২০০৩ সালে বোর্ড অব ডাইরেক্টর বা পরিচালনা পর্ষদ এবং সদস্যবৃন্দ ডাইরেক্টর বা পরিচালক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরিচালনা পরিষদের পরিচালকের সংখ্যা ১৮জন। এর মধ্যে ১জন সভাপতি ও ২জন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
              সভাপতিগণের নাম                                                                মেয়াদ
1.    মরহুম শওকত আলী, বি.এ. (অনার্স)                                   ৫.১১.৬০ - ২৩.০৪.৬৩
2.    মরহুম আলহাজ আব্দুস শহীদ                                            ২৩.০৪.৬৩ - ৩১.০৭.৬৫
3.    মরহুম কাপ্তেন সাইদুর রহমান চৌধুরী                                 ৩১.০৭.৬৫ - ১৮.০৮.৬৮
4.    মরহুম শওকত আলী                                                          ১৮.০৮.৬৮ - ২৭.০১.৬৯
5.    মো. সাইদুর রহমান খান, বিকম                                        ২৭.০১.৬৯ - ০৫.১১.৬৯
6.    আলহাজ মো. আমজাদ আলী, বিএ,এলএলবি                    ৫.১১.৬৯   - ১৪.০৯.৭৩
7.    বদিউজ্জামান, বিএসসি                                                    ১৪.০৯.৭৩ - ১২.১০.৭৫
8.    একেএম মোস্তাফিজুর রহমান সুজা, এমকম                     ১২.১০.৭৫ - ২৪.০৬.৭৯
9.    মরহুম নূরুন নবী চাঁদ                                                      ২৪.০৬.৭৯ - ০৭.১১.৮১
10.    মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদ                                                ১৭.১১.৮১ - ০৭.০১.৮৬
11.    মরহুম নূরুন নবী চাঁদ                                                      ৭.০১.৮৬ - ৩১.১০.৮৮
12.    একেএকে মোস্তাফিজুর রহমান সুজা                                 ৩১.১০.৮৮ - ২৩.০৬.৯৩
13.    মোহম্মাদ আলী সরকার                                                    ২৩.০৬.৯৩ - ১৫.০২.০১
14.    মো. ওমর ফারুক চৌধুরী                                                   ১৫.০২.০১ - ১৮.০৩.০৩
15.    মো. লুৎফর রহমান                                                            ১৮.৩.২০০৩ - ২.২.২০০৭
১৬. মো. হোসেন আলী                                                                ২.৩.২০০৭ - ১৯.২.২০০৯
১৭. মো. আবু বাক্কার আলী                                                          ১৯.২.২০০৯ - ১.২.২০১১
১৮. দেওয়ান মো. আব্দুস সামাদ (এডিএম)- প্রশাসক                     ১.২.২০১১   - ৩.৪.২০১১      
১৯. মো. জিয়াউল হক টুকু                  - প্রশাসক                          ৩.৪.২০১১  - ১৪.১.২০১২
২০. শেখ মুজিবুর রহমান (এডিসি,সার্বিক) - প্রশাসক                      ১৪.১.২০১২- ১৯.৬.২০১২
২১.    দেওয়ান মো. আব্দুস সামাদ (এডিএম) - প্রশাসক                   ১৯.৬.২০১২- ২৯.৭.২০১২
২২. মো. রফিকুল আলম(এডিসি,সার্বিক)  - প্রশাসক                       ২৯.৭.২০১২- ৪.১১.২০১২  
২৩. মো. আবু বাক্কার আলী                                                     ১৪.১১.২০১- ২.১১.২০১৪
২৪. মো মনিরুজ্জান মনি                                                            ১২.১১.২০১৪     -
সভাপতি/প্রশাসকের নামের তালিকা আরসিসিআই এর ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখের একটি প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তালিকা প্রকাশ করলেও কে কত চার্ম দায়িত্ব পালন করেছেন তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ নাই। যেমন- মো. লুৎফর রহমান দু’ টার্মের দায়িত্ব পালন করেন।
নামের পাশে প্রশাসকগণ ছাড়া সবাই সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ৫ জন প্রশাসকের মধ্যে মো. জিয়াউল হক টুকু ব্যতীত অন্য ৪ 
জন সরকারি কর্মচারী ছিলেন।