ফিরে যেতে চান

বশড়ির মিয়া বংশের পুরুষ মো.আলী আশরাফ মিয়ার মতে এ বংশের পূর্ব পুরুষ মির্জা মোহাম্মদ সম্রাট নাদির শাহর একজন সেনাপতি ছিলেন। কোন এক কারণে তিনি গৌড়ের কোন এক জায়গায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী মহানগরীর পশ্চিম উপকন্ঠ বশড়িতে আসেন এবং হিরা-মুক্তা খচিত ও মূল্যবান ধাতু দ্বারা নির্মিত তলোয়ার বিক্রি করে রেশম ব্যবসা আরম্ভ করেছিলেন। তাঁর উত্তরাধিকারগণ রেশম ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেন এবং বশড়ি, বুলনপুর, হাড়ুপুর, নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার করে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান বিভক্তির কিছুকাল পূর্বে পদ্মা গর্ভে তাঁদের জমিদার বাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ার ফলে নগরীর কাঠাল বাড়িয়ায় আবাসিক কুঠি স্থাপন করেন। এ বংশের সর্বশেষ জমিদার ছিলেন নুরুল ইসলাম মিয়া ও গোলাম মহিউদ্দিন মিয়া।

জমিদার নুরুল ইসলাম মিয়ার নাতি সারওয়ার কামালের হাতে এ জমিদারির ব্যবহার্য তলোয়ার ও হাতির শেকল (ছবি-২০১১)

২০০২ সালে নুরুল ইসলাম মিয়ার মেজ পুত্র মো. আলী আশরাফ মিয়ার এক তথ্যানুসারে নুরুল ইসলাম মিয়ার ৯ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র গোলাম মোস্তফা মিঞা, আলী আলতাফ মিয়া ও আহসান মিয়া, ইসমাইল হোসেন মিয়া ও কন্যা ফাতিমা বেগম, আসমা খাতুন, গুলনাহার বেগম জীবিত আছেন। গোলাম মহিউদ্দিনের একমাত্র কন্যা ফিরোজা বেগম।

স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিরা এ জমিদারির কথা স্বীকার করেন। তবে কাজী  মোহাম্মদ মিছের তাঁর রাজশাহীর ইতিহাস (১ম খণ্ড) গ্রন্থের ৭২ ও ৭৫ পৃষ্ঠায় নুরুল ইসলাম মিয়াকে নুরুদ্দীন মিঞা নামে একজন রেশম ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, রামপুর-বুয়ালিয়াস্থ ছোট ছোট দেশী কোম্পানী গঠন করে যারা ইউরোপীয় কোম্পানীর মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য করতো নুরুদ্দীন মিয়া তাদের একজন। বশরীতে ইহাদের কুঠি ও কারখানা ছিল।