ফিরে যেতে চান

সাহেববাজারের উত্তর দিকে অবস্থিত রাণীবাজার কখন, কিভাবে সৃষ্টি তা আবিস্কার করা কঠিন। তবে রাজশাহীতে অনেক দানশীল, স্বনামধন্য রাণী (জমিদার) বাস করতো। রাণী ভবানী, রাণী শরৎ সুন্দরী, রাণী হেমন্ত কুমারী তাঁদের অন্যতম। রামপুর-বোয়ালিয়ায় জমিদারির কুঠি স্থাপন হয় ১৮২৫ সালের পর। সুতরাং রাণীবাজার ১৮২৫ সালের পর কোন এক সময় গড়ে উঠে। রাণী ভবানী বাংলার প্রসিদ্ধ জমিদার ছিলেন। তিনি অনেক জনহিতকর কাজ সম্পাদন করলেও রাজশাহী মহানগরীতে তাঁর কৃতিত্ব নেই। রাণী বাজার স্থাপনের পূর্বেই ১৮০২ সালে তিনি পরলোক গমন করেন। 
লেখক দীনেন্দ্র কুমার রায় জজকোর্টে চাকরি করার (৩ বছর) সময় কিছুদিন রাণীবাজারের একটি মেসে বাস করতেন। সে সময় ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পে শহরের ক্ষয়-ক্ষতির বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর ‘সেকালের স্মৃতি’ গ্রন্থে রাণীবাজার শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এসব তথ্যাদি প্রমাণ করে রাণীবাজারটি হয়ত পুঠিয়ার জমিদার পাঁচ আনি রড় তরফের রাণী শরৎ সুন্দরী অথবা মহারাণী হেমন্ত কুমারীর কৃতিত্ব। 
১৮২৫ সালে শ্রীরামপুরে নাটোর থেকে জেলা সদর দপ্তর স্থানান্তরের পর তৎকালীন বোয়ালিয়া শহরে বিভিন্ন স্থানের জমিদারেরা তাঁদের আবাসন স্থাপন করেছিলেন। এদের মধ্যে দিঘাপতিয়া ও পুঠিয়ার জমিদার বংশ শহর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পুঠিয়ার জমিদারদের মধ্যে রানি শরৎ সুন্দরী ও মহারানি হেমন্ত  কুমারী অনেক জনহিতকর কাজের মাধ্যমে প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন। রাণী শরৎ সুন্দরী অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে ও স্বামী জমিদার যোগেন্দ্র নারায়ণের মৃত্যুর কারণে তাঁর নামে স্বামীর উইল করা জমিদারি কোর্ট অব ওয়ার্ডসে চলে যায়। তৎকালীন জেলা কালেক্টর  তাঁর গুণাবলীর রিপোর্ট করলে মাত্র ষোল বছর বয়সে তিনি কোর্ট অব ওয়ার্ডসের কাছ থেকে জমিদারির দায়িত্বভার পান। বাংলা ১২৮১ সনে তিনি ‘রাণী’ ও ইংরেজি ১৮৭৭ সালে তিনি দিল্লীর দরবার হতে ‘মহারাণী’ উপাধি পান। তিনি এত বেশি প্রজাদরদি ছিলেন যে, কোর্ট অব ওয়ার্ডসের দেয়া ভাতা, বিয়ের সময়প্রাপ্ত যৌতুক, জায়গির সম্পত্তির আয় থেকেও দান করতেন।৫
শরৎ সুন্দরীর মৃত্যুর পর হেমন্ত কুমারী  জমিদারি লাভ করেন এবং বাংলা ১৩৪৯ অব্দ পর্যন্ত পরিচালনা করেন। তিনি শাশুড়ীর কৃতকর্ম অনুসরণ করে অনেক জনহিতকর কাজ করেছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে রাজশাহী কলেজে রানি হেমন্ত কুমারী  হোস্টেল, হেমন্ত কুমারী  সংস্কৃত কলেজ এবং মহারানি হেমন্তকুমারী  ওয়াটার ওয়ার্কস উল্লেখযোগ্য। তিনিও মহারানি উপাধি পেয়েছিলেন।
কেউ কেউ বলেন, ‘রাণীবাজার’ মহারাণী হেমন্ত  কুমারীর কৃতিত্ব। রাজশাহী হেরিটেজ এর সভাপতি গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীর ২৭ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মত প্রকাশ করেন, রাণী বাজার স্থাপন মহারাণী হেমন্ত  কুমারীর কৃতিত্ব। তিনি ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে একাধিকবার বিবি হিন্দু একাডেমীর প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নব্বই বছর বয়সী শ্রী অনিল কুমার ঘোষ (মৃত্যু ২০১৩) এবং প্রায় ৯৫ বছর বয়সী ব্যাংকের প্রাক্তন কর্মচারী ও ব্যবসায়ী শৈলশ্বর সিংহ (মৃত্যু ২০১৪) এর নিকট থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে মৌখিক সূত্রে এ তথ্য আবিস্কার করেন বলে জানান।