ফিরে যেতে চান

সাহেব বাজার (ছবি- জানুয়ারি ২০১৭)

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষাংশ থেকে সাহেব বাজারের নাম শোনা যায়। ক্ষুদ্র  একটি বাজার থেকে এর উৎপত্তি। তখন মাত্র দু-চারটি দোকান দ্রব্যাদি নিয়ে বসতো এবং বেচাকেনা করে দুপুরের মধ্যেই চলে যেত। ১
সাহেবগঞ্জ বিলুপ্ত হওয়ার পর ক্রমশ এর উন্নতি ঘটতে থাকে। সে সময়ের বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ীর নামও জানা যায়। ভাদু, দুষর, আলেক, হেকমত নামক খলিফাগণ হাতে সেলাই করে জামা, জুব্বা, কুরতা, টুপি অন্যান্য কাপড় বিক্রি করতেন। নীলমনী পোদ্দার নামক এক ব্যক্তির মনোহারীর দোকান ছিল। তিনিই সর্ব প্রথম হাঁস মার্কা কেরোসিন টিন দিয়ে চারচালা বিশিষ্ট একটি ঘর তুলেছিলেন।১
আড়তদারদের মধ্যে মোহিনী সাহা ও জামাল ব্যাপারীর নাম শোনা যায়। জমারত, মহিম, আলীমুদ্দী প্রমুখ ছিলেন কাপড়ের ব্যবসায়ী। সেরয়াগী মাড়োয়ারী নামক এক ব্যক্তির তামাকের দোকান ছিল। মোমেনশাহী (ময়মনসিং) জেলার জঙ্গলবাড়ী নিবাসী নইমুদ্দীন নামক এক ব্যক্তি রাজশাহী এসে এ মাড়োয়ারীর দোকানে থেকে নিজ হাতে তামাক তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করতো। পরবর্তীতে মাড়োয়ারী স্থান পরিবর্তন করেন এবং দোকানটি নইমুদ্দিনের নিকট বিক্রি করে দেন। সেই দোকান পরবর্তীতে ১ নং গদির সমৃদ্ধি লাভ করে। 

সাহেব বাজার উন্নতির পশ্চাতে যে ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন তিনি মেদিনীপুর জমিদারি কোম্পানির রামপুর-বোয়ালিয়ার ম্যানেজার মি. অস্টিন। তিনি এখানকার শিরোইল জমিদারের নিকট থেকে বার্ষিক সাত শ টাকায় বন্দোবস্ত নিয়ে বাজারের পূর্ব দিকে একতলা বিশিষ্ট একটি দালান তৈরি করে দিয়েছিলেন। বাজারের উন্নতির ফলে তিনি এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ আরো কটি দালান ও একটি চারচালা নির্মাণ করেন। অস্টিন সাহেবের এ আগ্রহকে স্থানীয় গরীব ব্যবসায়ীগণ সন্দেহের চোখে দেখেন এবং তারা দোকানের পসার বসাতে অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু মানব হিতৈষী অস্টিন জোর জবরদস্তি বাজার বসাতে সক্ষম হন। এর ফলে ঢাকা, মোমেনশাহী, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি স্থানের লোকজন এসে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন। এভাবে সাহেব বাজারের সূচনা ও ভিত্তি স্থায়ী আসন লাভ করে। মোদিনীপুর জমিদারিকোম্পানির অস্টিন সাহেবের প্রচেষ্টায় বাজারটি বাস্তবায়ন হয়েছিল বলে প্রথমে এটা কোম্পানির সাহেব বাজার নাম ধারণ করেছিল। পরে কোম্পানির নাম বিলুপ্ত হয়ে সাহেব বাজার নামে সুপরিচিত লাভ করে এবং কাগজপত্র ও চিঠিপত্র আদান প্রদানের মাধ্যমে সাহেব বাজার নামটি সার্থকতা লাভ করে।
বর্তমানে মূল সাহেব বাজারের একটা অংশের অস্তিত্ব আছে। যেটা কাপড়পট্টি নামে পরিচিত। সাহেব বাজারের এটা ছিল ৩ নং গলি। ১ ও ২নং গলি নাটোর চঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক সরলীকরণের সময় ভাঙ্গা পড়ে। এ রাস্তাটি সরলীকরণ হয় ১৯৭৭-১৯৯০ সালের মধ্যে। সাহেব বাজারের ভাঙ্গা অংশের ব্যবসায়ীদের আরডিএ মার্কেটে পুনর্বাসন করা হয়।৫৫৩