ফিরে যেতে চান

সাঁতুল রাজবংশ আদি ও বেশ প্রসিদ্ধ ছিল। এ জমিদারি ছিল বাংলার বার ভূঁইয়ার একটি। বর্তমান নাটোর জেলার সিংড়া থানার নিকট প্রাচীন করতোয়া ও আত্রাই নদীর সঙ্গম স্থানে এ রাজবংশের রাজবাড়ি ছিল। শ্রীকালিনাথ চৌধুরীর রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস গ্রন্থের ১১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে রাজা গনেশ বা কংশের সময় সাঁতুল রাজ্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু মাহবুবর রহমান বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস গ্রন্থের বরেন্দ্রের রাজা ও জমিদার প্রবন্ধে তাহিরপুর জমিদার কংশ নারায়ণ ও রাজা গণেশকে পৃথক ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।

তপ্পে ভাতুড়িয়াও তদন্তর্গত ২৪১৩৯৭ টাকা বার্ষিক রাজস্ব আয়ের ১৩টি পরগণা সাঁতুল রাজ্যের আওতাভুক্ত ছিল। সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে সাঁতুলের রাজা ছিলেন সীতানাথ। তার দুই স্ত্রীর মধ্যে কারোই পুত্র সন্তান ছিল না। তাই সীতানাথ শেষ বয়সে জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন ছোট ভাই রামেশ্বরকে। রামেশ্বরের পর পুত্র রামকৃষ্ণ জমিদারির উত্তরাধিকারী হন। ১৭২০ সালে রামকৃষ্ণ মৃত্যুবরণ করলে বিধবা পত্নী সর্বানী দেবী জমিদারির ভার গ্রহণ করেন। রাণী ধর্মে কর্মে সময় কাটানোর ফলে দেওয়ান রামদেব ছিলেন সর্বেসর্বা। রামদেব হরিপুর নিবাসী ব্যারিস্টার আশুতোষ চৌধুরীর পুর্ব পুরুষ ছিলেন। এ সময় নাটোর জমিদারির উত্থান ঘটে। সাঁতুল রাণী জমিদারির রাজস্ব বাকি রাখার কারণে নবাবের পক্ষে নাটোর জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা রঘুনন্দন সাঁতুল আক্রমণ করেন। এ আক্রমণে সাঁতুল রাজবাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এ ঘটনার পর রাণী মৃত্যুবরণ করেন। রাণীর কোনো উত্তরাধিকার ছিল না বলে রঘুনন্দন চেষ্টা করে ভাই রামজীবনের নামে সাঁতুল জমিদারি বন্দোবস্ত করে দেন। ফলে ১৭২১ খ্রিষ্টাব্দে সাঁতুল জমিদারি নাটোর জমিদারির অন্তর্ভুক্ত হয়।