ফিরে যেতে চান

রাজশাহীতে বাজারের সূচনা হয়েছিল রেশম ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। আদি বাজার গড়ে উঠেছিল বুয়ালিয়া/বোয়ালিয়া বাজার নামে। নদী ভাঙ্গনের কারণে তা পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।১  এরপর আলুপট্টির নিচে সাহেবগঞ্জ নামে একটি বাজার গড়ে উঠেছিল। কিছুকাল পর এটাও পদ্মার গর্ভে চলে যায়।১  ঐ এলাকার নাম এখনও সাহেবগঞ্জ। এরপর বর্তমান সাহেব বাজার স্থায়ী আসন দখল করে। এছাড়াও প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে আরো কয়েকটি বাজারের সন্ধান পাওয়া যায়। যেমন- ঘোড়ামারা গোঁসাই কুঠির নিকট গোঁসাই বাজার, আলুপট্টির বসুনিয়া পট্টিবাজার, তালাইমারি বাজার ইত্যাদি। তালাইমারিতে সপ্তাহে দু দিন হাটও বসতো। রেশম ব্যবসা মন্দার কারণে আলুপট্টির বসুনিয়াপট্টি বাজার ভেঙে সাহেব বাজারে স্থানান্তরিত হয়েছিল। (তথ্য: শহর রজশাহীর আদিপর্ব, পৃ.৩৭৩) 
এরপর ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় বিভিন্ন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের কারণে জনসংখ্যার পাশাপাশি বাজারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২০০০ সালের ওয়ার্ড পরিসংখ্যান অনুসারে রাজশাহী মহানগরীতে ছোট-বড় বাজারের সংখ্যা ৩৭টি। ২০১১ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পুনরায় ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ করে। তাতে ৪০ টি বাজারের সংখ্যা পাওয়া যায়। তবে পরিসংখ্যানকে যথার্থ বলা যায় না। কারণ এ সকল জরিপে যথাভাবে বাজারের বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করা হয়নি। সুতরাং এগুলোকে ধারণাভিত্তিক পরিসংখ্যান বলা যেতে পারে। বর্তমানে মহানগরীর প্রায় সকল জনবহুল রাস্তার সঙ্গে অনেক দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেক ভবনে আধুনিক মানের দোকান সাজিয়ে বাজার বা মার্কেট নাম দেয়া হয়েছে। যেমন বাটার মোড়ে বাটা বাজার, সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টের দক্ষিণ পাশে জলিল সুপার মার্কেট ইত্যাদি। তাই বাজারের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ধারণের জন্য যথার্থ গবেষণা ভিত্তিক জরিপ করা উচিত।