ফিরে যেতে চান

নাটোরের খান চৌধুরী বংশের জমিদারি

এ জমিদারির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জামান খান চৌধুরী। জামান খানের পূর্ব পুরুষ আমানুল্লাহ খান ব্যবসার উদ্দেশ্যে পুত্র আযম খানসহ আফগানিস্তান থেকে বর্ধমানে এসেছিলেন। এরা মূল্যবান পাথরের ব্যবসা করতো। বাংলায় নবাবী শাসনামলে ব্যবসার প্রচুর উন্নতি ঘটে। মোহাম্মদ জামান খান চৌধুরী ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে নাটোর আদালতে নাজির পদে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রচুর সম্পত্তির মালিক হন। তিনি মৃত্যুর পূর্বে ১৮৫৩ সালে এ সম্পত্তি ওয়াক্ফ এস্টেটে পরিণত করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র দোস্ত মোহাম্মদ খান এ এস্টেট লাভ করেন। তিনি পিতার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে খোলাবাড়িয়া, পিপরুল, কলম প্রভৃতি মহাল কিনেন। এর ফলে সম্পত্তির আয়তন ও আয় বৃদ্ধি পায়। বাঘা ওয়াক্ফ এর মুতোওয়াল্লির কন্যাকে বিয়ে করে তিনি আরও বিত্তশালী হন। তিনি খান চৌধুরী বাড়িও নির্মাণ করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র মোহাম্মদ আলী খান এস্টেটের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রশীদ আলী খান ও এরশাদ আলী খান নামে তাঁর দুই পুত্র ছিল। তিনি মৃত্যুবরণ করলে জ্যেষ্ঠপুত্র রশীদ আলী খান এস্টেট লাভ করেন। তিনি নিজ ব্যয়ে নাটোর সদরে একটি ইংরেজি মিডল ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। 

রশীদ আলী খানের পর ছোট ভাই এরশাদ আলী খান এস্টেটের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি মনোযোগ সহকারে এস্টেট দেখাশুনা করতেন। তিনি রাজনীতিতেও  অংশগ্রহণ করেন। ১৯০৬ সালে নাটোর মুসলিম লীগের শাখা প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি তাঁর সভাপতি নিযুক্ত হন। নাটোর পৌরসভার সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য ছিলেন। ১৯২৮ সালে কলকাতায় তিনি পুত্র আশরাফ আলী খানের বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যু হলে আশরাফ আলী খান জমিদারির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি একজন উচ্চ শিক্ষিত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও জনসেবক ছিলেন। তিনি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও কলকাতায় পড়াশুনা করেন। ১৯০৯ সালে তিনি ইংল্যান্ড গমন করেন এবং সেখানে ব্যারিস্টারী ডিগ্রি নিয়ে ১৯১১ সালে দেশে ফিরে কোলকাতায় আইন ব্যবসা আরম্ভ করেন। নাটোরে পিতার আসন থেকেই তিনি ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে নাটোর মুসলিম লীগের প্রার্থী হয়ে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

তার জনহিতকর কাজের মধ্যে রাজশাহী কলেজের অনেক ছাত্রে লেখা-পড়ার ব্যয় বহন, নাটোরে মায়ের নামে মাছিরন্নেছা মেমোরিয়াল মক্তব ও স্কুল প্রতিষ্ঠা উল্লেখযোগ্য। আশরাফ আলী খান ১৮ বছর বয়সে মুর্শিদাবাদের সালারে এক জমিদারের মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের তিন বছর পর স্ত্রী মারা গেলে শ্যালিকাকে বিয়ে করেন। তাঁর একমাত্র পুত্র আহম্মদ আলী খান সেনাবাহিনীতে যোগদান করে কমিশন প্রাপ্ত হন। কিন্তু অল্প বয়সে কর্মস্থল আম্বালায় ১৯৪১ সালে ২৬ মার্চ পোলো খেলার সময় মারা যান। একমাত্র পুত্রের মুত্যুতে আশরাফ আলী খান ভীষণভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন এবং জমিদারির পরিচালনার মানসিক বল হারিয়ে ফেলেন। তিনি জমিদারি কোর্ট অব ওয়ার্ডসে দেন। এর কয়েক মাস ১৯৪১ সালের ৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ফলে জমিদারির কোর্ট অব ওয়ার্ডসেই থেকে যায়।