ফিরে যেতে চান

রাজশাহী মহানগরীর বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কারখানাটি ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে বন্ধ।৫৪৮ কয়েকটি বেসরকারি কারখানা রেশম বস্ত্র উৎপাদনের মাধ্যমে রাজশাহীর ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে। বেসরকারি পর্যায়ও ক্রমশ অবনতির দিকে। বর্তমানে প্রকৃত রেশমের কাপড় উৎপাদনশীল সক্রিয় কারখানার সংখ্যা ৩ টির বেশি নয়। ২০১২ সালের প্রথম দিকে বিসিক শিল্প নগরীতেই ছোট বড় মিলে ৭২ টি কারখানা ছিল। তার মধ্যে ৬০ টি বন্ধ হয়ে পড়েছিল এবং ১২ টি সচল ছিল।৫৪৯ ২০১১ সালের ১৮ মে দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার রাজশাহীর রেশম শিল্প বিপর্যস্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহীতে ছোট বড় মিলে ৭৫ টি কারখানা ছিল। এর মধ্যে বিসিক শিল্প নগরীতে ছিল ৫৮ টি। এক বছরে বন্ধ হয়ে যায় ২০টি কারখানা। ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার রাজশাহীর রেশম ঐতিহ্য প্রতিবেদনে লাকমিনা জেসমিন উল্লেখ করেন, এক সময় রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী ও এর বাইরে মিলে ৭৭ টি রেশম কারখানা ছিল। বর্তমানে যার সংখ্যা চার-পাঁচটি। ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে জানা যায়, সপুরা সিল্ক মিলস, ঊষা সিল্ক ও আধুনিক সিল্ক কারখানায় শুধু সিল্ক বস্ত্র উৎপাদন হচ্ছে।
রাজশাহী রেশম ব্যবসায়ীরা লোকসান দিতে দিতে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে অন্য ব্যবসায় যাচ্ছেন। রাজশাহীর প্রসিদ্ধ রেশম কারখানা সপুরা সিল্ক মিলসের শো  রুমে এখন রেশম বস্ত্রের সঙ্গে বিভিন্ন আইটেমও রাখা হচ্ছে। আর কিছুদিন পর হয়তো রাজশাহীর সিল্ক শুধু মাত্র জাদুঘরেই প্রদর্শন করা হবে। এ শোচনীয় অবস্থার জন্য বিভিন্ন কারণকে দায়ী করা যায়। প্রথমত আবহাওয়া উষ্ণতার কারণে বাংলাদেশের মানুষ রেশম কাপড়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের ফলে মেয়েরা এখন শাড়ির পরিবর্তে প্যান্ট, শ্যালোয়ার-কামিজ, বোরকা ইত্যাদিতে আকৃষ্ট হচ্ছে। তুঁত গাছের উৎপাদন ব্যাপক হারে লাভজনক না হওয়ার কারণে চাষীরা তুঁতের চাষ থেকে সরে আসছেন। রেশম সুতার মূল্য অধিক হারে বৃদ্ধির কারণে রেশম বস্ত্রের মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবও রেশম শিল্পের অবনতির কারণ।৫৫০ সপুরা সিল্ক মিলসের পরিচালক আশরাফ আলী ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে মত প্রকাশ করেন, ১৯৯০ সালের পর আমদানিকৃত সুতার উপর ট্যাক্স কমিয়ে দেয়ার কারণে বিদেশ থেকে সুতা আমদানি শুরু হয়। তখন আমদানিকৃত সুতা ছিল ২০০০ টাকা কেজি। বর্তমানে আমদানিকৃত সুতার দাম প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারো দেশি সুতার উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। 

সপুরা সিল্ক মিলস্ লি. এর রেশম বস্ত্র তৈরির কার্যক্রম (ছবি- ২০১১)