ফিরে যেতে চান

আকাশ পথ / শাহ্ মখদুম বিমান বন্দর

আকাশ পথ
শাহ্ মখদুম বিমান বন্দর

শাহ মখদুম বিমান বন্দর (ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

শাহ মখদুম বিমান বন্দর মহানগরীর সীমানার বাইরে ও উত্তর দিকে পবা উপজেলার নওহাটা নামক স্থানে অবস্থিত। পূর্বে এর নাম ছিল রাজশাহী বিমান বন্দর। ২০০৩ সালের ১১ জুলাই রাজশাহী বিমান বন্দর নাম পরিবর্তন করে শাহ মখদুম বিমান বন্দর রাখা হয়।৪৫৬ 
বিমান বন্দরটি ১৯৭৮ সালে স্থাপিত হয়।৬৩ এ এলাকার চাষীদের কল্যাণার্থে বিশ শতকের ষাট দশকে নওহাটায় প্ল্যান্ট প্রটেকশন বিভাগের বিমানের সুবিধার্থে ২৮০০'x৭৫' আয়তনের একটি এয়ার স্ট্রীপ নির্মিত হয় এবং জমিতে বিষ প্রয়োগের সুবির্ধার্থে এখানে বিমান উঠানামা আরম্ভ করে। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নওহাটায় জরুরী ভিত্তিতে বিমান বন্দর নির্মাণের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ মোতাবেক এফ-২৭ বিমান উঠা-নামার উপযোগী ৫০০০'x১০০' আয়তনের রানওয়ে নির্মিত হয়ে ১৯৮৪ সালের ১০ জানুয়ারি মঙ্গলবার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন লে.জে. এইচ এম এরশাদ এনডিসি পিএসসি। বন্দরের রানওয়ে নির্মাণ করে মেসার্স শামস্ হাসান এবং প্রান্তিক ভবন নির্মাণ করে মেসার্স সাউথ ইস্ট। নির্মাণ ব্যয় হয় ৬ কোটি টাকা। ক্রমশ যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ১৯৯২-১৯৯৩ সালে রানওয়ে বর্ধিত করে ৬০০০'x১০০' করা হয় এবং রাত্রীকালীন বিমান উঠানামার জন্য রানওয়ে বাতি সংযোজন, টেক্সিওয়ে ও ফ্লাডলাইট সংস্থাপন করা হয়। এর ফলে এফ-২৮ জেট বিমান দিবা-রাত্রি উঠানামা করতে সক্ষম।
বেসরকারি ফ্লাইট৬৩
এয়ার পরাবত: ১৯৯৮ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ১৯৯৮ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত চালু ছিল।
জিএমজি এয়ার লাইন্স: ১৫ জুন ১৯৯৮ তারিখ থেকে চালু হয়ে পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়।
যমুনা সেতু চালু হয়ে সড়ক পথের উন্নতির কারণে বিমান বন্দরে যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পায়। ২৪ ডিসেম্বর ২০০২ তারিখের বিমান বন্দরের প্রতিবেদন অনুসারে এ বিমান বন্দরের মোট জনশক্তি ৯৮ জন। এর মধ্যে ৪ জন কর্মকর্তা এবং ৯৪ জন কর্মচারী। বিমান বন্দরের দায়িত্বে আছেন বিমান বন্দর ব্যবস্থাপক। 
২০০২ সালে ভাসি লাইট ছিল। পরবর্তীতে পপি লাইট স্থাপন করা হয়।৪৫৬ ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের পর যাত্রীর অভাবে বন্ধ থাকে।৪৫৭ তবে বন্দরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক রুটের বিমানের ওভার ফ্লাই চার্জ পেত বন্দর।৪৫৫ বন্ধ থাকাকালীন বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি ও গ্ল্যাক্সি ফ্লাইং একাডেমি নামের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখানে বিমান প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করে। ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল গ্ল্যাক্সি ফ্লাইং একাডেমীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এ দুটি কোম্পানি ৭টি প্রশিক্ষণ বিমান দ্বারা প্রশিক্ষণ দিতো।৪৫৭ ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির ১টি প্রশিক্ষণ বিমান বিধস্ত হয়ে প্রশিক্ষণার্থী তামান্না রহমান হৃদি নিহত ও প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন শাহেদ কামাল আহত হবার পর ১২ মে ২০১৫ তারিখ রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান। হৃদির বাড়ি ঢাকার খিলক্ষেত নিকুঞ্জ-২ এলাকাই।৪৫৮ সাঈদ কামালের (শাহেদ কামাল) বাড়ি ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকায়।৪৭৭
৭ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশ বিমান এয়ার লাইন্সের পুনরায় ফ্লাইট চালু হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন উদ্বোধন করেন। সপ্তাহে শুক্র, রবি ও মঙ্গলবার রাজশাহী-ঢাকা এ বিমান যাতায়াত করে। ভাড়া ২৭০০ টাকা। কানাডার তৈরি ৭৪ আসনের ড্যাশ-৮-কিউ-৪০০ মডেলের বিমান দুটির নাম মেঘদূত  ও ময়ূরপঙ্খী।৪৫৯  বর্তমানে বিমান বন্দরের জনবল ৮০ জন।