ফিরে যেতে চান

পশ্চিমাঞ্চল রেল ভবন চত্বরে স্থাপিত নিস্ক্রিয় বাষ্পীয় ইঞ্জিন ও ইঞ্জিন স্থাপনের উদ্বোধনের শিলা বিন্যাস

১৯২৯ সালে প্রথমে আব্দুলপুর থেকে রাজশাহী পর্যন্ত এবং ১৯৩০ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমনুরা পর্যন্ত রেলপথ স্থাপিত হয়।২ একই সালে আমনুরা হতে চাঁপাই নবাবগঞ্জ পর্যন্ত লাইনটি খোলা হয়। 
এ মহানগরীতে রেল যোগাযোগের সূত্রপাত হয় ১৯২৯ সাল থেকে। ১৯২৯ সালের ১৪ মার্চ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন চালু হয়।৪ বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকাশিত ইনফরমেশন বুক ২০১৩ এ আব্দুলপুর থেকে আমনুরা ব্রড গেজ উদ্বোধনের সাল ১৯২৯ উল্লেখ আছে।
এ স্টেশনের দ্বিতীয় স্টেশন মাস্টার ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এবনে গোলাম সামাদের পিতা মো. ইয়াসিন মৌলবী। এবনে গোলাম সামাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মত প্রকাশ করেন, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন চালুর পর প্রথম সপ্তাহে কোন টিকিট বিক্রি হয়নি। দ্বিতীয় সপ্তাহে আমার বাবা আসেন স্টেশন মাস্টার হয়ে। আমার জন্ম হয় ১৯২৯ সালে ২৯ ডিসেম্বর। মো. ইয়াসিন মৌলবী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যোগদানের পূর্বে বাংলাদেশের উত্তর জোনেরই কোন এক রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তাঁর বাড়ি ছিল ফরিদপুর জেলা সংলগ্ন মোহাম্মদপুরে।৫৪৩
এর পূর্বে রাজশাহী মহানগরীতে না হলেও এ জেলার পশ্চিমাংশে রেল যোগাযোগ ছিল। বর্তমান ভারতভুক্ত কাটিয়ার রেলপথের একটি শাখা ১৯১৫ সালে পদ্মার ধারে গোদাগাড়ী পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল এবং একটি রেল স্টেশন স্থাপন করে এর নামকরণ করা হয়েছিল গোদাগাড়ী ঘাট।১  পরবর্তীতে এ পথ বড়গাছি ও প্রেমতলী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের কারণে মুর্শিদাবাদের লালগোলা ঘাটের সঙ্গে গোদাগাড়ী ঘাটের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে রেলপথটি উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল এবং কাটিয়ার ভারতভুক্ত হওয়ায় রহনপুর থেকে কিছু দূরে ভারত সীমান্ত পর্যন্ত এর সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু গোদাগাড়ী থেকে আমনুরা পর্যন্ত পথটি অনেকদিন পর্যন্ত চালু ছিল। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত কাজী মিছেরের রাজশাহীর ইতিহাস গ্রন্থের (২য় খণ্ড) বর্তমান (১৯৬৫ সালে) কার্যকরী থাকার উল্লেখ আছে। গোদাগাড়ীর একটি জায়গা এখনও রেলগেট নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে আমনুরা হতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর রেল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে বোর্ড গঠন করা হয়। ১৯৮২ সালে বোর্ড ভেঙ্গে রেলকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল ভাগ করা হয়। ১৯৮২ সালের ৩ জুন রাজশাহী মহানগরীতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। জেনারেল ম্যানেজার পশ্চিমাঞ্চলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে আবার পাকশী বিভাগ ও লালমনিরহাট বিভাগে বিভক্ত। দুজন ডিভিনাল ম্যানেজার এ বিভাগদ্বয়ের দায়িত্বে আছেন।৩
 

রেল ভবন, পশ্চিমাঞ্চল ও তার দেয়ালে উদ্বোধনের শিলালিপি

বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহীর ২৫ জুন ২০০২ থেকে কার্যকর ওয়ার্কিং টাইম টেবিল-৪১ অনুসারে রাজশাহী মহানগরী হতে ৬টি আন্তঃমহানগর, ৩টি মেইল অ্যান্ড এক্সপ্রেস ও ১টি লোকাল ট্রেন যাতায়াত করে। আন্তঃনগর ট্রেনসমূহের মধ্যে পদ্মা রাজশাহী মহানগরী হতে যমুনা (বঙ্গবন্ধু) সেতুর পূর্ব পাশ পর্যন্ত, কপোতাক্ষ খুলনা পর্যন্ত, সুন্দরবন সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত, বরেন্দ্র নীলফামারী পর্যন্ত, তিতুমির চিলাহাটি পর্যন্ত ও যমুনা গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত যাতায়াত করে। মেইল অ্যান্ড এক্সপ্রেস রেলগাড়িসমূহের মধ্যে রাজশাহী এক্সপ্রেস চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে রাজশাহী মহানগরী হয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত, মহানন্দা চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে রজশাহী মহানগরী হয়ে খুলনা পর্যন্ত ও উত্তরা রাজশাহী মহানগরী হতে পার্বতীপুর পর্যন্ত যাতায়াত করে। মিক্সড নামে একটি লোকাল রেলগাড়ি রহনপুর হতে রাজশাহী হয়ে ঈশ্বর্দী পর্যন্ত যাতায়াত করে।
সিস্ক সিটি এক্সপ্রেস: রাজশাহী-ঢাকা সরাসরি রেল চলাচল শুরু হয় ১৫ আগস্ট ২০০৩ তারিখ হতে। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস নামের ট্রেনের উদ্বোধন করে এ যোগাযোগ শুরু করেন। শুরুতে ট্রেনটি সরাসরি জয়দেবপুর পর্যন্ত যেত। জয়দেবপুর থেকে একটি সাটল ট্রেন শুধুমাত্র ঢাকা বিমান বন্দরে বিরতি দিয়ে কমলাপুরে পৌঁছাত। রাজশাহী জয়দেবপুর বিরতি ষ্টেশন ছিল ৯টি।৬২ পরবর্তীতে রেলওয়ের ত্রুটি সংশোধন করে সাটল ট্রেন উঠিয়ে দিয়ে রাজশাহীর ট্রেনই সরাসরি কমলাপুর পর্যন্ত যাতায়াত শুরু করে। তবে কয়েকটি স্টেশন বিরতি এখনও আছে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের রিমডেলিং: ১৪ নভেম্বর ২০০৩ তারিখে থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের রিমডেলিং এর কাজ শুর হয়। সিটি মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি এ কাজের উদ্বোধন করেন। এতে ব্যয় হয় ২৯ কোটি টাকা।১৩২ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৩.০৯.২০০৬ তারিখে এর উদ্বোধন করেন।২৫৭

বর্তমান রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন

ডুয়েলগেজ রেলওয়ে স্থাপন: রাজশাহী থেকে মংলা সমুদ্র বন্দর সরাসরি রেল চলাচলের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চল রেল ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেলওয়ে স্থাপন, ৫১.২৫ কিলোমিটার ট্র্যাক (রেললাইন) স্টেশন বিল্ডিং, প্লাটফরম, প্লাটফরম শেড, সেতু ও হরিয়ানে আইসিডি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪৭ কোটি ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে রাজশাহীর হরিয়ান আইসিডি টার্মিনালে সরকারি পণ্য আনা-নেয়া শুরু হবে। ফলে এ অঞ্চলের শুধু গার্মেন্ট নয়; কৃষিভিত্তিক ও অন্যান্য ভারী শিল্প স্থাপনের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। 
১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী রেলওয়ের আর একটি অংশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আমনুরা, রহনপুর বর্ডার হতে রাজশাহী রেলওয়ে পুনর্বাসন প্রকল্প  বাস্তবায়নের কাজের ফলক উন্মোচিত হয়েছে। ২৩ এপ্রিল ২০১১ প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনও সংস্কার করা হয়েছে।৫৬০
রাজশাহী-ঢাকা সরাসরি রাত্রিকালীন রেল চলাচল: ধূমকেতু এক্সপ্রেস নামে রাত্রিকালীন রেল সার্ভিস চালু করা হয়েছে। মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ধূমকেতু এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন।৫৬০
রেলওয়ে স্টেশনের ফুটওভার ব্রিজ: ১৯নং ও ২১নং ওয়ার্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের লক্ষে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে রেলওয়ে স্টেশনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।