ফিরে যেতে চান

ইন্টারনেট থেকে গৃহীত ঠেলাগাড়ি, যা একদা কাঠের চাকায় রাজশাহী মহানগরীতে সক্রিয় ছিল। বর্তমানে বিলুপ্ত। পাশে সক্রিয় বাস

রাজশাহী সড়ক পথের প্রাচীন যানবাহন হলো গো-শকট, রথ, পাল্কী, ডুলি প্রভৃতি। এ সব যানবাহন দিয়ে তীর্থযাত্রী, ধর্ম প্রচারক, পর্যটক, রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন কর্মে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতো। নবাবী আমলে গাধা ও বলদ (পুরুষ গরু) বাহন হিসাবে ব্যবহৃত হতো। ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজরা রাজশাহী মহানগরীতে ফিটান গাড়ির প্রচলন করেছিল। ফিটান গাড়ির সংস্ককরণ দু’ঘোড়ায় টানা গাড়ি পাকিস্তান আমলে প্রচলন ছিল। সেই গাড়ির পরিবর্তে টমটম গাড়ির প্রচলন ঘটে। এক ঘোড়ায় টানা দু’চাকার টমটম এখনও রাজশাহী মহানগরীতে চলে। টমটম রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী যানবাহন হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমানে রাজশাহী মহানগরী থেকে দেশের সর্বত্র যাতাযাতের প্রধান মাধ্যম বাস (ইঞ্জিন চালিত মোটর গাড়ি)। সড়ক পথের মালামাল পরিবহণের প্রধান মাধ্যম ট্রাক (ইঞ্জিন চালিত মোটর  গাড়ি)। 
অভ্যন্তরীণ প্রধান যানবাহন রিক্সা। কয়েক বছর থেকে অটো রিক্সার ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং এর জনপ্রিয়তাও সর্বাধিক। এছাড়া সাইকেল, মোটর  সাইকেল, জীপ, কার, মাইক্রোবাস, টেম্পো, বেবি প্রভৃতি। টেম্পু, বেবি, জীপ, কার, প্রভৃতি যানবাহনগুলো অনেক পূর্ব থেকে প্রচলন থাকলেও আজকাল এর ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্রমশ বাড়তেই আছে। টেম্পুর আদলে স্যালো ইঞ্জিন দ্বারা তৈরি এক ধরনের যানবাহনের প্রচলন রাজশাহীতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এ যানবাহন রাজশাহী মহানগরীর অভ্যন্তরে প্রবেশ না করে মহানগরীর দ্বার পর্যন্ত পৌঁছে গ্রামের মানুষের সঙ্গে মহানগরীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তবে কাজী নজরুল ইসলাম সরণী দিয়ে গ্রেটার রোডে এ যানবাহন চলতে দেখা যায়। 
গ্রাম গ্রামান্তর থেকে ধান, চাল, গম সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য বোঝাই গরু ও মহিষের গাড়ি মহানগরীতে প্রবেশ করতো। বর্তমানে গুরু বা মহিষের গাড়ির ব্যবহার নেই। তার জায়গা দখল করেছে রিক্সা ভ্যান। 
অক্ট্রয় চেকপোষ্ট: রাজশাহী মহানগরীতে আমদানিকৃত যে কোন মালামাল কোন যানবাহনে প্রবেশ করলে তৎকালীন পৌরসভা অক্ট্রয় চেকপোষ্টের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করতো। নগরীর ৫ জায়গায় ছিল এ চেকপোষ্ট। ১৯৮১ সালের মে মাসের শেষ বা জুনের প্রথম দিকে এ চেকপোষ্ট উঠে গেলেও হড়গ্রাম বাজার ও কাজলার জায়গা দুটি মহানগরবাসীর নিকট অক্ট্রয়ের মোড় নামে পরিচিত। 
প্রতিবন্ধীদের জন্য বাসে সংরক্ষিত আসন: ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৫ তারিখ থেকে রাজশাহীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন যাত্রীবাহী বাসে প্রতিবন্ধীদের আসন সংরক্ষণ পদ্ধতি চালু হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৫ তারিখে জেলা প্রশাসক সৈয়দ আহসানুল হক রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে। ২৪ মার্চ ২০০৫ তারিখে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের উদ্যোগে এ পদ্ধতিটি চালু হয়েছে। রাজশাহীর বিভিন্ন রুটের বাসেই এ পদ্ধতি প্রযোজ্য।১৭৫