ফিরে যেতে চান

রাজশাহী মহানগরীর অভ্যন্তরীণ রাস্তা

মহানগরীর রাস্তার পরিমাণ: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ এর ২০০৩ সালের ৭ মে’র তথ্যানুসারে রাজশাহী মহানগরীতে বর্তমান মোট রাস্তার দৈর্ঘ্য ৬৫৮.৭৬ কিমি। এর মধ্যে পাকা রাস্তার দৈর্ঘ্য ৩৩৫.৬০ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তার দৈর্ঘ্য ৩২৩.১৬ কিলোমিটার। ১৮৭০ সালে রাজশাহী মহানগরীর রাস্তা ছিল ৯ মাইল। ১৯৭০ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬৯.৫০ মাইলে। এর মধ্যে ৩১.৯১ মাইল পাকা, ৯.২৭ মাইল হেরিংবোন, ১১.৬৭ মাইল ইট বিছানো এবং ১৬.৬৫ মাইল কাঁচা।৪৩ 
বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর অভ্যন্তরীণ রাস্তার পরিমাণের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ৫ আগস্ট ২০১৫ তারিখের রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের খসড়া হিসেব অনুসারে মহানগরীর অভ্যন্তরীণ রাস্তার মোট দৈর্ঘ্য ৬৫৮.৭৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা রাস্তা ৪৮৫.৬০ কিলোমিটার ও কাঁচা ১৭৩.১৬ কিলোমিটার। পাকা রাস্তাগুলোর ধরন কার্পেটিং, এইচবিবি পয়েন্টিং, সিসি, আরসিসি, ডাব্লু বিএম ও সোলিং। কাঁচা রাস্তাগুলো মাটির।৫৩৯
সিটি বাইপাশ: কাশিয়াডাঙ্গা থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক সিটি বাইপাস নির্মিত হয়। সিটি বাইপাসটি নগরীর নওদাপাড়ায় বিমান বন্দর রোড অতিক্রম করে বেলপুকুর নামক স্থানে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২ জানুয়ারি ২০০৩ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরেই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও সময় মত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে সমাপ্ত হয়নি। ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থ বছরে গৃহীত এ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৮ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।  কিন্তু প্রকল্পের পরিবর্ধন ঘটিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ৫৯ কোটি ২৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি ২৩ ডিসেম্বর ২০০৩ তারিখে চূড়ান্ত কাজের উদ্বোধন করেন। জাতীয় ক্যাটাগরির সড়কটির দৈর্ঘ্য ২০.৭৮ কি.মি.। এতে ২টি ব্রিজ ও ৭৩টি কালভার্ট আছে।১৩০
কাজী নজরুল ইসলাম সরণী: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু ১৩ আগস্ট ১৯৯৮ তারিখে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ২০০৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।৪৯ তবে এর আগেই রাস্তাটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। রাস্তাটি টিবি হাসপাতালের মোড়ে গ্রেটার রোডের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সড়কটির দৈর্ঘ্য ৪.৩ কি.মি., ফুটপাতসহ প্রস্থ ১৫.২৪ মিটার এবং ফুটপাত বাদে কার্পেটিংরে প্রস্থ ৯.১৪ মিটার। রাস্তাটি নির্মাণ করে ঢাকার মের্সাস আব্দুল মোনেম লিমিটেড। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৬ষ্ঠ সাধারণ সভায় ১৫নং আলোচ্যসূচির সিদ্ধান্ত অনূসারে নির্মাণাধীন অবস্থায় জাতিসংঘের ৫০তম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সড়কটি জাতিসংঘ স্কোয়ার নামকরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে কাজী নজরুল ইসলাম সরণী রাখা হয়।  
সরণীর পূর্ব প্রান্তে লক্ষ্মীপুর টিবির মোড়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় কদম ফুল আকৃতির একটি ফেয়ার লাইট স্থাপন করে। বর্তমানে সেটা বিলুপ্ত। 
নাটোর-চাঁপাই নবাবগঞ্জ সড়ক সরলীকরণ ও প্রশস্তকরণ: রাস্তাটি মণিচত্বর (সোনাদিঘি মোড়) হতে পূর্ব দিকে আলুপট্টি এলাকা। এর দৈর্ঘ্য ০.৭৬৪ কিমি এবং প্রস্থ ২৪.৪০ মিটার। নির্মাণ ব্যয় ২ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। রাস্তাটির নির্মাণ কাজ ১৯৭৭ সালে আরম্ভ হয়ে ১৯৯০ সালে শেষ হয়। নির্মাণ করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।২৮
এ রাস্তাটি নির্মাণের পূর্বে নাটোর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংযোগ সড়ক ছিল আঁকা-বাঁকা। সোনাদিঘির দুপাশ দিয়ে দুটি রাস্তা মালোপাড়া ও সমবায় মার্কেটের সামনের রাস্তাটি গণকপাড়ায় ঠেকেছিল এবং গণকপাড়া থেকে বড় মসজিদের কাছে বাঁকা হয়ে কুমারপাড়ার নিকট নাটোর রোডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। বর্তমান রাস্তার জিরো পয়েন্টের নিকট খোলা ড্রেন ছিল। এখনও রাস্তার নিচ দিয়ে ড্রেন আছে এবং মণিচত্বর হতে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অনেক দোকান-পাট ছিল। এ দোকানগুলো আরডিএ মার্কেটে পুনর্বাসন করা হয়। 
কল্পনা সিনেমা হল (উৎসব) হতে সেরিকালচার বিক্রয় কেন্দ্র পর্যন্ত প্রশস্তকরণ: রাস্তাটি পূর্বে চিকন ছিল। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি সংস্কারের কার্যক্রম ১৯৯৩ সালে আরম্ভ ও ১৯৯৮ সালে শেষ করে। সংস্কারের ব্যয় হয় ৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বর্তমান রাস্তাটি ১.৫ কিমি দৈর্ঘ্য এবং ১২.২ মিটার প্রস্থ।২৮
রাজশাহী গ্রেটার রোড হতে বাইপাস রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ: রাস্তাটি রেলওয়ে গেট হতে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ২০ অক্টোবর ২০০২ তারিখের প্রতিবেদন অনুসারে রাস্তাটি নির্মাণের জন্য ১৯৯৮ সালে কার্যক্রম আরম্ভ হয়। এর দৈর্ঘ্য ৩.৪১ কি.মি প্রস্থ ২৪.৪ মিটার এবং নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ২২ লাখ ১৮ হাজার টাকা।২৮
রাজশাহী বিমান বন্দর হতে বাইপাস সংযোগ সড়ক: রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ২০ অক্টোবর ২০০২ তারিখের প্রতিবেদন মোতাবেক রাস্তাটি নির্মাণের জন্য পিসিপি পরিকল্পনা কমিশনের আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুসারে সরকারি অনুদানে নির্মিত হবে। এর দৈর্ঘ্য ২ কিমি, প্রস্থ ১৮.৩০ মিটার। ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর প্রাপ্ত তথ্যানুসারে প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। 
মরহুম আলহাজ ডা. কাইছার রহমান স্মৃতি সরণী: মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু ২০০২ সালে দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হওয়ার পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৬ষ্ঠ সাধারণ সভায় ১৬নং আলোচ্যসূচির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্ণালী রেলগেট হতে ক্যান্টনমেন্ট অভিমুখী সড়কটি মরহুম আলহাজ্ব ডা. কাইছার রহমান স্মৃতি সরণী নামকরণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। 
গ্রেটার রোড: মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড় হতে গৌরহাঙ্গা রেলগেট পর্যন্ত সড়কটি গ্রেটার রোড নামে পরিচিত। ২.৬১ মাইল দৈর্ঘ্য সড়কটিতে ১০০ ইয়ার্ড সেকশন আছে। এর একটি প্যারালাল অংশ লক্ষ্মীপুর মোড় হতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে দিয়ে ঘোষপাড়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। সড়কটি উভয় পাশ ১৮ ফিট প্রশস্ত এবং উভয় পাশেই ৬ ফিট আইল্যান্ড আছে। সড়কটির নির্মাণ কাজ ১৯৬২ সালে শুরু হয় এবং ১৯৬৯ সালে শেষ হয়। এর নির্মাণ ব্যয় হয় তৎকালীন ৩২৫৪২০৯.৩৭ রুপী।৪৩ রাস্তাটি নির্মাণের পূর্বে সিঅ্যান্ডবি এলাকার অংশটিতে আমবাগান ছিল। নির্মাণের পর রাস্তাটি কয়েকবার সংস্কার হয়। মো. মিজানুর রহমান মেয়র থাকাকালীন  রোডটির নগর ভবনের সামনের অংশের আইল্যান্ডে বাঁশ আকৃতির রড-সিমেন্টের বেড়া দিয়ে সবুজায়নের কাজ শুরু করে। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র হয়ে সমস্ত আইল্যান্ডকেই এ পদ্ধতিতে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে।  
গ্রেটার রোডের বর্ধিত অংশ: পুরনো গ্রেটার রোডের পূর্ব প্রান্ত বিন্দুর মোড় বর্তমানে (শহীদ কামারুজ্জামান চত্বর) হতে তালাইমারীর মোড় পর্যন্ত ৩.৫২ কিমি বৃদ্ধি করা হয়। এর প্রস্থ ২৪.৪০ মিটার। রাস্তাটির কাজ আরম্ভ হয় ১৯৮১ সালে এবং শেষ হয় ১৯৯০ সালে। সরকারি অনুদানের ভিত্তিতে এর নির্মাণ ব্যয় হয়  ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। রাস্তাটি নির্মাণ করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।২৮ এর নাম রাখা হয় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর সরণী। 
ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক: সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে এ রাস্তাটি নির্মাণ করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনুর মেয়াদে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রথমে এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫ কোটি ৬০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। রাস্তা নির্মাণের প্রকল্পের নাম দেয়া হয় রাজশাহী মহানগরীর ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়াস্থ চাঁপাই নবাবগঞ্জ-নাটোর মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ। রাস্তা নির্মাণের মেয়াদ ধরা হয়েছিল জুলাই ২০০৩ থেকে জুন ২০০৬ পর্যন্ত।১৭২ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ তারিখে গ্রেটার রোড সংলগ্ন উত্তর পাশে বিলসিমলা নামক স্থানে রাস্তাটি নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।১৭৩  তবে মো. মিজানুর রহমান মিনুর আমলে রাস্তাটি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এর অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহার হয়ে যায়। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র হবার পর প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৫১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৪.৯৩ কি. মি. রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে এ সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন।
সাহেববাজার হতে গৌরহাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ: এ সড়কটির নির্মাণ করেছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সড়কটি নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ  টাকা। দৈর্ঘ্য ১.২০ কিলোমিটার, প্রস্থ ১৮.৩০ মিটার। ২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান সড়কটি উদ্বোধন করেন। এ সময় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার করা হয়। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুসারে ৩৮ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন হয়।১৭৪ প্রকল্পে ব্যয় হয় ২১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।১৭২ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান গোরহাঙ্গা রেলগেটে ৮.২.০৫ তারিখে এ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।১৭৩  প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল জুন ২০০২ হতে জুন ২০০৫ পর্যন্ত।
রাজশাহী মহানগরীর ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন: প্রথম পরিকল্পনা অনুসারে এ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি মোড় প্রশস্তকরণের কথা ছিল।১৭৪ এতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল জুলাই ২০০৩ হতে জুন ২০০৬ পর্যন্ত।১৭২ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ তারিখে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান মহানগরীর গৌরহাঙ্গার রেলগেটে (বর্তমান শহীদ কামারুজ্জামান চত্বর) রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।১৭৩ তবে সে সময় বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রকল্পটি সংশোধিত হয়। সংশোধিত প্রকল্পের মেয়াদ ছিল জুন/২০০৯। ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মাধ্যমে ১৯ টি মোড় প্রশস্ত করা হয়।৬৫০ 
অবকাঠামো নির্মাণে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন রাজশাহী মহানগরীর সড়কসমূহ উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করে। ১৬ আগস্ট ২০১২ তারিখে নওদাপাড়ায় সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত আধুনিক Asphalt  Plant (এ্যাসফল্ট প্লান্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় হচ্ছে ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অবশ্য এ সকল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনেক পূর্ব থেকেই ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণে এ রকম যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হয়।
রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় হতে সোনাদিঘি মোড় এবং মালোপাড়া মোড় হতে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন: মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহে যানজট নিরসন ও শক্তিশালী কার্যকর সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে প্রধান প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণের অংশ হিসেবে এ সড়কটি  প্রশস্তকরণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৭২ কোটি ১৬ লাখ ৪২হাজার টাকা। সরকার ও সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে। রাণীবাজারে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/২৮ মাঘ ১৪২২ তারিখে সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে দেখা যায় দু’পাশের দালান ভেঙ্গে ফেলে রাণীবাজার হতে সাগরপাড়া পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের কাজ চলছে। 
রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক হতে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প: প্রকল্পের আওতায় মহানগরীর আলিফ লাম মীম ভাটা হতে ছোটবনগ্রাম, চকপাড়া, মেহেরচণ্ডী, বুধপাড়া, মোহনপুর হয়ে ধান গবেষণা কেন্দ্রের নিকট রাজশাহী-নাটোর রোড পর্যন্ত প্রায় ৭.২৬ কিমি ৪ লেন বিশিষ্ট সড়ক নির্মাণ করা হবে। রেল ক্রসিংয়ে থাকবে ওভার পাস। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১২২ কোটি ৯১ লাখ ২১ হাজার টাকা। সরকার ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে।
শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর ও মন্যুমেন্ট নির্মাণ: শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। রাজশাহীর এ কৃতী সন্তানের স্মৃতিকে চির অম্লান রাখার উদ্দেশে শিল্পী মৃনাল হক প্রায় নিজ খরচে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বরে ভাস্কর্য স্থাপন করেছিলেন। মৃনাল হক নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি ২০১০ সালের ৩ নভেম্বর উদ্বোধন করেছিলেন শহীদ কামারুজ্জামানের সহধর্মিণী জাহানারা কামারুজ্জামান।৫১১ তবে ভাস্কর্যটি ভেঙ্গে পুনরায় শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান মনুমেন্ট নামে নতুন স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহাঙ্গীর কবির নানক ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে এ মনুমেন্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। মনুমেন্টটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯২.০০ লাখ টাকা। পূর্বের মন্যুমেন্টটির সঙ্গে চত্বরের পশ্চিম-উত্তর পাশে ফুটপাত ঘেঁষে তরঙ্গ আকৃতির দেয়ালসহ শোভাবর্ধন কিছু কাজ করা হয়। যা ২২ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উদ্বোধন করেন। (বিস্তারিত স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও শহীদ মিনার) 
আধুনিক মানের ফুটপাত নির্মাণ: এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র থাকাকালীন আধুনিক মানের ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু হয়। শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, সিঅ্যন্ডবি মোড় থেকে নদীরধারের রাস্তাসহ কয়েকটি রাস্তার আধুনিক মানের ফুটপাত নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং প্রধান সড়কসমূহে নির্মাণ অব্যাহত আছে।
ফায়ার ব্রিগেড থেকে কেশবপুর পর্যন্ত সড়ক সংস্কার: এ সড়কটি সংস্কার করে উভয় পাশে ফুটপাত ও মাঝখানে আইল্যান্ড দিয়ে চার লেনে উন্নয়ন করা হচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. নিযাম উল আযীম ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে এ কার্পেটিং কাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারির দৈনিক সোনালী সংবাদের প্রতিবেদন অনুসারে ২.৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কটির মূল কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মাঝের আইল্যান্ডে গাছ লাগানো হচ্ছে। সড়কটি সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এ সড়কের ২য় পর্যায়ে আছে সিঅ্যান্ডবি মোড় হতে ফায়ার ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত দক্ষিণ পাশ দিয়ে বাই সাইকেল লেন নির্মাণ। সঙ্গে থাকবে ফুটপাত। তার ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র মো. নিযাম উল আযীম ইতোমধ্যে এর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।৬৮১