ফিরে যেতে চান

রাজশাহী মহানগরীর উত্তর পাশে প্রবাহমান পদ্মা (ছবি- ২০১৬)

রাজশাহী মহানগরীর ভূমি এক সময় চর ছিল। এ চর বিভিন্ন গাছপালায় বেষ্টিত ছিল। এর ভিতরে বাহিরে ছিল ছোট-বড় নদী। তাই স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা হয়, এ ভূমির সর্ব প্রাচীন যোগাযোগ মাধ্যম ছিল জলপথ। শ্রীকালীনাথ চৌধুরীর রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস গ্রন্থের ৯৭ পৃষ্ঠায় সে কথার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজসাহীতে অনেক নদী ও বিল থাকায় বোধ হয় হিন্দু রাজাগণ- সময়ে বাণিজ্য জলপথে চলিত। সুতরাং হিন্দু রাজার সময়ে রাজপথ অতি বিরল ছিল। রাজসাহীতে মুসলমানদের সময়ের একটা মাত্র রাজপথ দেখা যায়।   
পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করেই এখানে রেশম ও নীল ব্যবসার সূচনা হয়েছিল। তা থেকেই বন্দর ও নগরের সৃষ্টি। জলপথের মধ্যে পদ্মা ছিল সর্ব বৃহৎ। তাছাড়া মহানন্দা, আত্রাই, কাটা যমুনা, পুণর্ভবা, নারোদ, মুশাখান, বারাহী, গদাই, বড়াল, সুন্দর, বিড়ালদহ খাত, শিবু, ফকিরণী প্রভৃতি নদী এ নগর ভূমির আশে পাশে দিয়ে বা বৃহত্তর রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হতো। রাজশাহী মহানগরীর যেটা এখন ১নং ড্রেন সেটাও একদা নদী ছিল এবং খাল-বিল ছিল একদা এ নগরীর জলপথ। কাজী মোহাম্মদ মিছেরের রাজশাহীর ইতিহাস (২য় খন্ড) গ্রন্থ থেকে জানা যায়, এ সব নদী-নালার যানবাহন ছিল নৌকা, পানসী, জঙ্গ, বজরা, ডোঙ্গা, কোশা, দোনা, দুনি, ডিঙ্গি, ভেলা, বালাম, ছিপ, ময়ূরপঙ্খী। পরবর্তীতে স্টিমার, লঞ্চ যাতায়াত করতো। ১  এ জলপথ দিয়ে দেশ-দেশান্তরের সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বর্তমানে এ নগরীর সাথে জল পথের যোগাযোগ নেই বললেই চলে। কেবল মাত্র পদ্মার ওপারের চরের মানুষ বিষপুর ও আমিরপুর খেয়াঘাট দিয়ে নৌকা যোগে পদ্মার প্রস্থ পেরিয়ে এ নগরীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে রাজশাহীর প্রাচীন জলপথের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তবে এ নৌকাগুলো আর পাল বা দাঁড় ব্যবহার করে না। তার বদলে কাঠের নৌকার সঙ্গে যোগ করা হয়েছে স্যালো ইঞ্জিন। দেশ স্বাধীনের পর ঊনিশ শ সত্তর এবং আশির দশকের প্রথম দিকেও বড় বড় নৌকার মাধ্যমে ঢাকা ও পূর্ব অঞ্চলের সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ছিল। এ বৃহৎ নৌকাগুলো মূলত রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম নিয়ে যেত। আবার পূর্ব অঞ্চল থেকে নিয়ে এসে বিভিন্ন রংয়ের মাটির হাড়ি, মাটির ব্যাংক, ঢাকনা, প্লাস্টিকের বিভিন্ন গৃহ আসবাব, খেলনা প্রভৃতি জিনিস রাজশাহী মহানগরী ও বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো। ১৯৭৪ সালের আগে পদ্মা নদীতে নিয়মিত স্টিমার সার্ভিস ছিল। নগরীর তালাইমারীতে যে জায়গায় স্টিমারঘাট ছিল, তা এখনও জাহাজ ঘাট নামে পরিচিত। বিগত সত্তর-আশির দশকেও অবশ্য রাজশাহীর মহানগরী রক্ষা বাধের জন্য ভারত থেকে পাথর আনার জন্য বড় বড় বাস্পীয় জাহাজ দেখা যেত।