ফিরে যেতে চান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিভিন্ন স্থানে দারুণ অভাব দেখা দেয়। খাদ্যাভাবে দেশে হাহাকার উঠেছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। অনেকে ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট পর্যন্ত খেয়েছিল । পল্লীর মানুষ অনেকে জঙ্গলের লতা-পাতা ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে ছিল। কেউ প্রাণ হারিয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে লঙ্গরখানা খুলে এক বেলা খিচুড়ি খাওয়ানো হতো। মানুষকে কম দামে খাদ্য দ্রব্য দেবার জন্য বিভিন্ন স্থানে রেশন চালু হয়েছিল। ১৯৪২ সালে অনাবৃষ্টির কারণে বরিন্দ অঞ্চলের আমন ধানের উৎপাদন খুব কম হয়েছিল। এর ফলে এখানকার অবস্থা বেশ খারাপ হয়েছিল। এখানেও রেশন প্রথা চালু হয়েছিল। 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ১৯৪১-৪২ সালে কলকাতায় জাপানী যুদ্ধ বিমান বোমা বর্ষণ করলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।১১৭ মানুষের মনে আতংকের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অধিবাসী ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস বাংলার বিভিন্ন জেলায় স্থানান্তরিত হয়েছিল। সে সময়কার স্বায়ত্তশাসন বিভাগ, শিক্ষাবিভাগ, সমবায়, রেজিস্ট্রেশন ও চিকিৎসা বিভাগ কলকাতা থেকে রাজশাহী শহরে স্থানান্তরিত হয়েছিল।
 ১৯৪২ সালের দুর্ভিক্ষে রাজশাহী শহর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ  কলেরায় আক্রান্ত হয়েছিল। এতে কত মানুষ যে মৃত্যুবরণ করেছিল তার হিসেবে নাই।১১৭
১৯৫৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে গুটি বসন্তের স্বীকার হয়েছিল।  এ রোগে গ্রামকে গ্রাম উজাড় হয়ে গিয়েছিল। রাজশাহীর  চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃত্যুর হার ছিল বেশি।১১৭ দেশ স্বাধীনের পর রাজশাহী আবারো গুটি বসন্তে আক্রান্ত হয়েছিল। 
১৯৭৪ সালে দেশে যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তাতে রাজশাহীও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছিল। দ্রব্য মূল্য দ্রুত উপরে উঠে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার আওতার বহির্ভুক্ত হয়েছিল। তৎকালীন রাজশাহী কোর্টেও পশ্চিম পাশে হড়গ্রামে নুরুর মিল, রাজশাহী পৌরসভা অফিসসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় লঙ্গরখানা খোলা হয়েছিল। সেখানে গমের আটার রুটি বানিয়ে বিতরণ করা হতো । গ্রামের লোকজন অভাবের তাড়নায় শাক, লতা-পাতা খেয়েও জীবন ধারণ করেছিল। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা টিনজাত বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য সরকারের মাধ্যমে বিতরণ করতো। তবে গ্রামের মানুষ এ সব খাদ্যের সঙ্গে পরিচিত না থাকায় অনেকে ব্যাঙের তৈরি খাদ্য বলে ফেলে দিতো।এ দুর্ভিক্ষে দেশের অন্যান্য জেলার লোক বিশেষ করে ফরিদপুর জেলার অনেকে রাজশাহী শহরে এসে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। তাঁরা রাজশাহী কোর্ট ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের বারান্দা ও রাস্তার পাশে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। ডাষ্টবিনের উচ্ছিষ্ট, হোটেলের ফেলে দেয়া মুরগির চামড়া পানিতে সিদ্ধ করে লোম ছাড়িয়ে রান্না করে খেত। এরা পরবর্তীতে ছিন্নমূল নারী হিসেবে পরিচিত লাভ করে। এ থেকে বোঝা যায়, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে রাজশাহীর অবস্থা মোটামুটি ভাল ছিল।