ফিরে যেতে চান

রাজশাহীতে মাঝে মাঝে মৃদু ভূমিকম্প হয়। ইংরেজি ১৮৯৭ সাল বা বাংলা ১৩০৪ সালের ভূমিকম্প ছিল মারাত্মক। যা ১৩০৪ সালের ভূমিকম্প নামে খ্যাত।১১৭ ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৮৯৭ সালের ১১ জুন দিবাগত রাতে। নাটোরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে যোগ দিতে এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন সেখানে অবস্থান করছিলেন।৮০৭ 
ভূমিকম্পটিতে বাংলাদেশের মধ্যে রাজশাহী জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে বহু দালান ও স্থাপত্য ধ্বংস হয়ে যায়। রাজা-জমিদারদের বেশির ভাগ বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে। নীল ও রেশম কুঠিগুলোর বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেলার বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেঠে বালি উঠে স্তুপাকৃতি ধারণ করে। কোথাও কোথাও নয়/দশ ফিট চওড়া ও আধ মাইল দীর্ঘ ফাটল ধরেছিল। এ সব ফাটলের জন্য রাস্তা-ঘাট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং নিচ থেকে পানি ও বালি উঠে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। আত্রাই ও বড়াল রেলওয়ে ব্রিজের ভীষণ ক্ষতি হয়েছিল। অনেক সাঁকো-কালভার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিশাল বিশাল গাছ উপড়ে গিয়েছিল। রাজশাহী শহর, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনাকষার বহু পাকা বাড়ির প্রাঙ্গণ ও রাস্তা ফেটে পানি ও বালি বের হয়ে পড়েছিল। কত লোক মারা গিয়েছিল তার কোন হিসেব নেই। সরকারি বিবরণে মাত্র নয় জনের মৃত্যু ও কিছ ুসংখ্যক আহত হবার খবর প্রচার হয়েছিল। রাজশাহীর সরকারি-বেসরকারি ধন-সম্পদ, প্রাচীন কাগজপত্র ও রেকর্ড নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাবে নবীনগর, কাঁঠালবাড়িয়া, বশড়ি, হাবাসপুরের পাকাবাড়িগুলো ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। শোনা যায়, অনেক জমিদার ও বিত্তবান ভারতে চলে যান।