ফিরে যেতে চান

বলা যেতে পারে বিশ শতকের আশির দশকে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পূর্বে বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষাবাদ বৃষ্টির উপরই নির্ভরশীল ছিল। এছাড়া খাল-বিলের পানিও ব্যবহার হতো। পাকিস্তান আমলে ইপিওয়াপদা বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড পদ্মার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় খাল কেটে পুকুর-বিলের সংযোগ তৈরি করেছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেও এ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। এতে কিছুটা সুফল পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু প্রচণ্ড খরায় এ সব খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যেতো। ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর খরা মৌসুমে পদ্মার অবস্থা করুণ আকার ধারণ করে। প্রায় ফসলহানী ঘটতো।
খরার কারণে রাজশাহীতে কয়েক বছর দুর্ভিক্ষও সৃষ্টি হয়। এরমধ্যে ১৭৬৯-১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পূর্ণিয়া, রাজমহল,  বীরভূম ও রাজশাহী এ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়। এ সময় মুর্শিদাবাদ ও অন্যান্য জেলা থেকে খাদ্য শস্য এনে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।১১৭ ইংরেজি ১৭৭০ সালের জুন মাসে মোগল দরবারে বর্ণিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক কর্মচারির বর্ণনা অনুযায়ী, এ দুর্ভিক্ষে মানুষের দুর্দশার সীমা ছিল না। অনেক ক্ষুধার্ত মানুষ মরা জন্তুর মাংসও খেয়েছিল। অনাবৃষ্টি বা খরার কারণে ১৮৭৪ সালে রাজশাহী আবারো দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হয়।১১৭ আউস ধানের ফলন হয়েছিল অর্ধেক এবং আমন ধানের ফলন হয়েছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। ফলে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। অন্যান্য জেলা থেকে খাদ্য আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্যাভাব আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। অনেক লোক আহারের অভাবে মৃত্যুবরণ করে। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৮২-১৯৮৩ সালের দিকেও রাজশহীতে খরার প্রভাবে চাষাবাদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল।