ফিরে যেতে চান

বাংলাদেশ স্কাউট, রাজশাহী অঞ্চল

স্কাউট ভবন, নওদাপাড়া

গাইড ও স্কাউট আন্দোলনের উৎস অভিন্ন। লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল(১৮৫৭-১৯৪১) তাঁর গ্রন্থ স্কাউট ফর বয়েজ (১৯০৭) এর মাধ্যমে আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে। ১৯১০ সালে প্রথম গাইড কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন হয়। লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ছিলেন ইংরেজ ও পেশায় সৈনিক।৪৬২ 
রাজশাহীতে গার্ল গাইড, স্কাউট প্রভৃতি কার্যক্রমের সূত্রপাত সম্পর্কিত তথ্য আবিস্কারের জন্য ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। সদর হাসপাতালের পুরনো ভবনের খোদিত লিপি থেকে অনুমান করা হয় রাজশাহীতে স্কাউটের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গত ত্রিশের দশকে বা তার পূর্বে। ভবনের খোদিত প্লেটের তথ্য অনুসারে ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৩৮ সালে এবং নামকরণ হয় কৃষ্ণ চন্দ্র সান্যাল এক্স-রে অ্যানেক্স। সুবোধ চন্দ্র সান্যাল ইএসকিউআর এর সৌজন্যে বয় স্কাউটস এসোসিয়েশন এ অনুদান প্রদান করেন। সুবোধ চন্দ্র সান্যাল ইএসকিউআর তাঁর মরহুম পিতা ডাক্তার কে.সি সান্যাল (কৃষ্ণ চন্দ্র সান্যাল) বাহাদুরের স্মরণে এ অর্থ দান করেছিলেন।
স্কাউট রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় ও স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থান নওদাপাড়ায়। অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, ১৯৭২ সালে অলকার মোড়ে আব্দুস সালাম খান চৌধুরীর বাড়িতে বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতির অফিস স্থাপন হয়েছিল। তখন তিনি বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতির জাতীয় কমিশনার ছিলেন। পরবর্তীতে শিরোইল স্কুলের স্কাউট ডেনে (Den) অফিসটি স্থানান্তর হয়। পরবর্তীতে নওদাপাড়া হাটের পাশের কিছু জমি অধিগ্রহণ ও একতলা ছোট ভবন নির্মাণ করা হয়। ফলে বিভাগীয় অফিস শিরোইল থেকে নওদাপাড়া ভবনে চলে আসে। সে সময় আলহাজ ফজলুর রহমান বিভাগীয় স্কাউটের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ইউনুস আলী দেওয়ানের প্রচেষ্টায় ভবনটির পূর্ব পাশে টিনশেডের একটি হল রুম নির্মিত হয়। সেখানে সেশন হল, ডাইনিং, কুকিং ও ডরমেটরীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গত ৯০ দশকে স্কাউট অফিসের পাশের রেশম ফ্যাক্টরীর প্রিন্টিং কারখানার জমি ক্রয় করা হয়। বাংলাদেশ স্কাউটের ১৯ লাখ টাকার অনুদানের সঙ্গে আঞ্চলিক স্কাউটের কিছু অর্থ যোগ করে সেখানে প্রটোটাইপ ভবন, হল ঘর নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালের আঞ্চলিক স্কাউটের নিজস্ব তহবিল ও বাংলাদেশ স্কাউটের অনুদানের সমন্বয়ে বর্তমান প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান প্রফেসর নূরল আলম ২০০১ সালের ৮ ডিসেম্বর ভবনটির উদ্বোধন করেন (তথ্য: উদ্বোধন ফলক)। ভবনের ২য় তলা ডরমেটরী ও নিচতলায় প্রশাসনিক কাজ অব্যাহত আছে।
আঞ্চলিক স্কাউট পরিচালিত হয় একটি আঞ্চলিক কাউন্সিলের দ্বারা। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে কাউন্সিলের সভাপতি ও বিভাগীয় কমিশনার পৃষ্ঠপোষক। কাউন্সিলের ত্রৈবার্ষিক কাউন্সিলে কাউন্সিলর ও সদস্যগণের মধ্যে থেকে একজন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গঠনতন্ত্র মোতাবেক তিনি দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় সদর দপ্তর ও  আঞ্চলিক সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহায়তা দানের জন্য বাংলাদেশ স্কাউট কর্তৃক নিয়োগকৃত আঞ্চলিক পরিচালক ও উপ পরিচালক আছেন। অন্যান্য কর্মচারীগণের মধ্যে আছেন ৩ জন অফিস সহকারী, ২জন অফিস সহায়ক, ১জন গার্ড, ১জন মালি। ফিল্ড পর্যায়ে জোন ভিত্তিক ৪ জন সহকারী পরিচালকও আছেন।
বিভিন্ন সময় স্কাউটের নামের পরিবর্তন ও নতুন নতুন কার্যক্রমের  সংযোজন ঘটে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতির জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুসারে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ স্কাউট। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত প্রকল্প হিসেবে সত্তর দশকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব স্কাউটিং এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রোভার স্কাউটিং সংযোজন হয়। ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যায়ে বালকদের স্কাউটের পাশাপাশি বালিকাদের জন্য গার্ল-ইন-স্কাউট, প্রাথমিক পর্যায়ে গার্ল-ইন-কাব, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় রোভার-ইন-গার্ল স্কাউট চালু করা হয়।৪৬৩