ফিরে যেতে চান

প্রধান গেটসহ জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন

রাজশাহীর টেনিস খেলার সুনির্দিষ্ট কাল পাওয়া যায় না। ১৯০০ সালের ৩০ এর দশকে রাজশাহী কলেজে লন ও হার্ড কোট ছিল। মিশন হাইজ ও পদ্মার তীরে এক সময় ইউরোপিয়নরা টেনিস খেলতো।৩-পৃ.৪৪-৪৫ 
জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সের পূর্ব নাম রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স। তবে আদি নাম বোয়ালিয়া টেনিস ক্লাব। আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রাজশাহীর কৃতী সন্তান জাফর ইমামের ২০০৪ সালের ২০ মে মৃত্যুর পর তাঁর অবদানের স্বীকৃতি ও স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে এ টেনিস কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্স।  জাফর ইমামের জন্ম ১৯৪১ সালের ১৫ জুন কুমিল্লায়। কারাধ্যক্ষ বাবার চাকরির সুবাদে কিশোর বয়সেই তাঁর রাজশাহীতে আসা ও থেকে যাওয়া।৭১৯  
মহানগরীর শ্রীরামপুরে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার পূর্ব পাশে এ কমপ্লেক্সের অবস্থান। এর ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়, প্রাথমিক অবস্থায় এখানে বোয়ালিয়া ক্লাবের একটি টেনিস কোট ছিল। বর্তমানে তা এ কমপ্লেক্সের ১নং কোট। সে সময় এর তিন পাশে থাকতো আখ ক্ষেত। আর একপাশে দেবদারুর সারি ঘেরা চিকোন রাস্তা। বসার জায়গা, ঘর কিছুই ছিল না। সেখানে উঁ”ু পদের সরকারি কর্মচারীরা টেনিস খেলতো। কোটটি ছিল বোয়ালিয়া ক্লাবেরই অংশ। ১৯৮১ সালে বোয়ালিয়া ক্লাব থেকে বোয়ালিয়া টেনিস ক্লাব নামে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা আরম্ভ করে। একটা টেনিস কোটকে সম্বল করেই একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মাধ্যমে আগামীর পথ উন্মুক্ত হয়। এর সদস্য সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে। কিশোর-যুবকেরা অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৩ সালে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আরো কিছু খাস জমি নিয়ে পূর্ব পাশে এর ২য় কোট নির্মিত হয়। এরপর সাধারণের অনুদানে এর চারিিেদকে প্রাচীর, পূর্ব পাশে বসার প্যাভিলিয়ন ও অফিস ভবন নির্মিত হয়।৩-পৃ.৪৪-৪৫
রাজশাহী ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ (উই-১৮) ২০১৩ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকায় ‘একটি প্রতিবেদন’ শিরোনামে এ টেনিস কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ তথ্য দিয়েছেন, ১৯৮৪ সালে রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যা পরিবর্তীতে জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সে রূপান্তরিত হয়।৭২০-পৃ.১৮ তবে বিভাগ গাইড রাজশাহী (১ম খণ্ড) এর তথ্য, ১৯৮৬ সালে তদানীন্তন রাষ্ট্রপ্রধান এ কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ও অত্যাধুনিক বাতির ব্যবস্থা করেন। হয়তো ১৯৮৪ সালেই এর নামকরণ হয় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স। ১৯৮৬ সালে আরো সংস্কারের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির সম্মানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে এর ৩নং কোট এবং ১৯৯০ সালে ৪নং কোট ও একটি প্র্যাকটিস ওয়াল নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৯ সালের ২১ ডিসেম্বর নির্মাণ করা হয় ৩০০ আসনের বেক্সিমকো গ্যালারি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহযোগিতায় পুরাতন প্যাভিলিয়ন ভবন দ্বিতল করা হয়। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টোবাকো কোম্পানির অর্থায়নে এ ভবনে ২৭০ আসনের প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হয়। সরকারি অর্থায়নে ১৯৯০ সালে ভিভিআইপি গ্যালারীর কাজ শুরু হয় এবং ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এর উদ্বোধন করেন। এতে ব্যয় হয় ৩৬লাখ ৫০ হাজার টাকা। ১৯৯৪ সালে স্থাপন করা হয় আরো ৪টি কোট। এলিট পেইন্টের সহযোগিতায় নির্মিত হয় টেনিস উপযোগী জিমনেসিয়ম।৩পৃ.৪৪-৪৫
স্থানীয় সদস্যরা ছাড়াও এখানে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে থাকে। জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনায় এখানে আয়োজন করা হয় রাজশাহী ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট। ২০১৩ সালের ১৮-২৫ নভেম্বর এর ২২ তম আয়োজন হয়।৭২০পৃ.১৮