ফিরে যেতে চান

শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম

মহানগরীর তেরখাদিয়ায় শহীদ কামারুজ্জামান নামে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম অবস্থিত। এর মোট জমির পরিমাণ ১৭.৮৫ একর।৩৪৮ স্টেডিয়ামের গেটের খোদিত ফলক থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের ২১ এপ্রিল বাংলা ৮ বৈশাখ ১৪০৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। 
স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ক্রীড়াবিদ জাফর ইমামের অবদান অনস্বীকার্য। এর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বিংশ শতাব্দীর সত্তর দশক থেকে। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নথি সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ তারিখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে প্রস্খাপনা ডিজাইনারস ফোরাম, বিল্ডিং ডিজাইন সেন্টার (Prasthapana Designer’s Forum, Building Design Center) নামের একটি কনসালটেন্ট ফার্ম বিভাগীয় স্টেডিয়াম প্রতিষ্টার জন্য বর্তমান স্থানটি নির্বাচন ও রিপোর্ট প্রদান করে। রিপোর্ট অনুসারে ১৯৭৭ সালের ১৫ মার্চ বিভাগীয় কমিশনার জায়গাটি পরিদর্শন করেন। বিভাগীয় স্টেডিয়ামের জায়গা অধিগ্রহণের জন্য ২৯ আগস্ট ১৯৭৭ তারিখে জেলা প্রশাসকের অফিসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৬.৪২ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জমি অধিগ্রহণের পর ১৯৮২ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান সেনা বাহিনীর প্রধান এইচএম এরশাদ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নথিভুক্ত ওয়ার্ক অর্ডার অনুসারে ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর প্যাভিলিয়ন ভবনের (মধ্যাংশ) নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৫ মে ১৯৮৫ তারিখে শেষ হয়। পরবর্তীতে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য আরো কিছু পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের পর প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ফলে জমির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭.৮৫ একর। নথির পরবর্তী কার্যাদেশ অনুসারে ১৯৮৯ সালের অক্টোবরে প্যাভিলিয়ন ভবনের আরো কিছু অংশের নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয় এবং শেষ হয় ১৯৯০ সালে। স্টেডিয়ামের খোদিত ফলক থেকে জানা যায়, ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮/১১ ফাল্গুন ১৪০৪ তারিখে তৎকালীন যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এরফলে দোতলা পূর্ণাঙ্গ প্যাভিলিয়ন নির্মিত হয়। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সংসদ সদস্য মো. মিজানুর রহমান মিনু নব নির্মিত ক্রিকেট প্যাভিলিয়ন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন ১ অক্টোবর ২০০২/১৬ আশ্বিন ১৪০৯ তারিখে। চুক্তি অনুযায়ী এ স্টেডিয়ামের মাঠ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ব্যবহার করছে।৩৫০

শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম এবং তার পশ্চিম পাশের দেয়ালে স্থাপিত শিলা বিন্যাস

নামকরণ: রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম নামেই স্টেডিয়াম নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮/১১ ফাল্গুন ১৪০৪ তারিখে তৎকালীন যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এ নামেই। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ জামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ঢাকাকে ২৮ অক্টোবর ২০০৩ তারিখের লিখিত পত্রে স্টেডিয়ামের নাম রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম উল্লেখ করেন। কিন্তু উদ্বোধনের খোদিত ফলক থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের ২১ এপ্রিল বাংলা ৮ বৈশাখ ১৪০৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম রাজশাহী নামে। এ তথ্য থেকে ধারণা করা যায়, স্টেডিয়ামটি উদ্বোধনের সময়কালীন রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম নাম পরিবর্তন করে শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম নামকরণ করা হয়। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নথি সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই ১৯৯৯ তারিখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কার্য নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ স্টেডিয়ামের নামকরণ হয় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়াম। এ সিদ্ধান্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ১৯ নভেম্বর ২০০৩ তারিখের চিঠিতে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, রাজশাহীকে অবহিত করে। ২৫ জুন ২০০৯ তারিখে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক আবারো পরিবর্তন করে শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম পুনর্বহাল করা হয়। শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম নামে গেট নির্মিত হয়।৩৫২ ২০১২ সালের ৭ আগস্ট রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নির্মিত গেট উদ্বোধন করেন।৩৫১