ফিরে যেতে চান

রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সূচনা হয় ১৮৯৬ সালে।৩  তবে ব্রিটিশ আমলে নাম মাত্র একটি খেলাধুলার এসোসিয়েশন বা সমিতি ছিল। এর স্থায়ী কোনো দপ্তর ছিল না। সম্পাদকের বাড়িতে অথবা ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তর থেকে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হতো।১৮৩ ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ হলে ক্রীড়ামোদি যুবকরা নাম মাত্র সমিতিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং একটি ভাড়া ঘরে এর অফিস স্থাপন করা হলেও অল্প দিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৫৭ সালে আবারো সমিতি পুনর্গঠন হয়। ১৯৬১ সালে রানীবাজারের একটি পতিত জমি হুকুম দখলের মাধ্যমে এর অফিস স্থানান্তর হয়।১ ১৯৬২ সালে জেলা স্টেডিয়ামে স্থানান্তরিত হয়।১৮৩ পূর্বে এর নাম ছিল জেলা ক্রীড়া সমিতি। ১৯৭৯ সালের দিকে সরকার ক্রীড়া অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সকল জেলা ক্রীড়া সমিতিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থা করলে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সমিতিও জেলা ক্রীড়া সংস্থায় রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থা নামে জেলা স্টেডিয়ামে (যর্তমান নাম মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়াম) অবস্থিত। সূচনা থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এ সংস্থা ফুটবল, ভলিবল ও কিছু কিছু নক-আউট প্রতিযোগিতাসহ প্রদর্শনী খেলার আয়োজন করতো। ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট, ভলি ও হকি লীগ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ১৯৭৭ সাল থেকে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার খেলাধুলার শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৩ নভেম্বর ২০১৪ তারিখের তথ্যানুসারে বর্তমানে ৩২টি শাখার মাধ্যমে খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। এ সংস্থা বিভিন্ন লীগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আসরের ব্যবস্থা করে থাকে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিচালনা করে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ। ২০০৩ সালে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের কর্মকান্ডের তালিকা থেকে জানা যায়, পরিষদের ১জন সভাপতি, ৬জন সহ সভাপতি, ১জন সাধারণ সম্পাদক, ১জন সহ-সাধারণ সম্পাদক, ২জন যুগ্ম সম্পাদক, ১জন কোষাধ্যক্ষ ও ১৬ জন সদস্য আছে। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে সভাপতি এবং সহ-সভাপতির ৩ টি পদ পদাধিকার বলে উপ-পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পদায়ন হয়ে থাকে। অবশিষ্ট সকল পদ সাধারণ পরিষদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়।
জেলা ক্রীড়া সমিতি প্রতিষ্ঠাকাল হতে ১৯৪৭ পর্যন্ত যারা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাঁরা হলেন- বাবু মিহির ভায়া, ডা. ভূপেন ভায়া, বাবু রণজিৎ কুমার সরকার, সুরেন ভায়া, মনি বাবু, বিরেণ সরকার। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্তির পর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন রিয়াজ উদ্দীন, ডা. এআর মল্লিক, সিরাজুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন সামশুল হক, প্রফেসর মনিরুজ্জামান, এস.এম. বখশ, সেকেন্দার বখ্ত। ১৯৬০ সালে সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এ্যাড. আব্দুল হাদী। ১৯৬৮ সালের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাফর ইমাম। ২০০৪ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর সাধারণ সম্পাদক হন খন্দকার মাইনুল ইসলাম।১৮৩
(এ্যাড. আব্দুল হাদী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৫ তারিখে লিখিত এক আত্মজীবনীমূলক প্রতিবেদনে ১৯৬১ সালে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়ে প্রায় দশ বছর উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন)